৪৩তম বিসিএস লিখিত - পলাশ আহমেদ
## ৪৩তম বিসিএস লিখিত ##
লিখিত পরীক্ষা নিয়ে সংক্ষেপে কিছু কথা, যারা অভিজ্ঞ তারা এড়িয়ে যেতে পারেন।
# পরীক্ষায় ৯০০ মার্কেরই উত্তর করবেন, ২/১ টা পরীক্ষায় ৫/১০ মার্ক ছেড়ে দিলে ঐটুকুই পিছিয়ে গেলেন।
# ৯০০ মার্কের পরীক্ষার প্রথম পরীক্ষা ইংরেজি। ইংরেজি খারাপ হলে তার প্রভাব পুরো পরীক্ষার উপর পড়ে। কেউ কেউ ইংরেজি পরীক্ষা খারাপ দিয়ে অন্যগুলো আর দেয় না। ইংরেজিতে প্যাসেজের প্রশ্নের উত্তর, সিনোনিম/এন্টোনিম দিয়ে বাক্য লেখার ক্ষেত্রে কোন বাক্য প্যাসেজ থেকে হুবহু কপি না করে নিজের মতো বানিয়ে লিখুন। একেবারেই না পারলে সিম্পলকে কমপ্লেক্স/কমপাউন্ড করে লিখুন।
# Letter to editor বা বাংলা চিঠি/প্রতিবেদনের জন্য ফরম্যাটগুলো ভালো ভাবে দেখে যাবেন।
# ইংরেজি/বাংলা রচনা পড়ার ক্ষেত্রে অনেকেই একটা ভাষায় রচনা পড়ে এবং ওইটার বিপরীত ভার্সন পরীক্ষায় আসলে ইনস্ট্যান্ট বানিয়ে লিখবে তার পরিকল্পনা করে। আবার অনেকে বাংলাদেশ বিষয়াবলির প্রশ্নের উত্তর পড়ে রচনা লেখার প্রিপারেশন নেয়। আমার মনে হয় কিছু কমন রচনা বাংলা এবং ইংরেজিতে আলাদা ভাবে পড়া উচিত, যাতে রচনা কমন পড়লে লেখা ভালো হয়। রচনা লেখার ক্ষেত্রে চার্ট/ডাটার থেকে শব্দ প্রয়োগ ও বাক্য গঠনে মনোযোগ দিন। একজন ইংরেজি শিক্ষক দেখবেন আপনি কেমন বাক্য লিখেছেন আর কেমন ভোকাবুলারি ব্যবহার করেছেন, কি কি চার্ট দিলেন সেইটা মুখ্য হবে না।
# সংলাপ, ভাব সম্প্রসারণ, সারাংশ পরীক্ষার হলে কোন রকম একটা বানিয়ে লিখলেই হবে এই ধারণা পরিহার করুন। আপনি যদি সংলাপে আপনার উৎকৃষ্ট চিন্তার বহিঃপ্রকাশ করতে না পারেন, মনের ভাবের গঠনমূলক সম্প্রসারণ করতে না পারেন তাহলে মার্কে পিছিয়ে যাবেন।
# লিখিততে টাইম ম্যানেজমেন্ট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ২০০ মার্কের পরীক্ষায় প্রতি ৫ মার্কের জন্য ৬ মিনিট এবং ১০০ মার্কের পরীক্ষায় প্রতি ৫ মার্কের জন্য ৯ মিনিট বরাদ্দ থাকে। সেক্ষেত্রে কোন প্রশ্ন অনেক বড় না লিখে সকল প্রশ্ন মান বন্টনের আনুপাতিক হারে সমান দেওয়া উচিত। একটা প্রশ্ন খুব বেশি লিখলে আরেকটা ছোট হয়ে যায়। এতে এভারেজ মার্ক কম হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উত্তর এমন ভাবে দিন যাতে সকল প্রাসঙ্গিক বিষয় সংক্ষেপে উত্তরে চলে আসে।
# ঘরে বসে প্রিভিয়াস ইয়ারের প্রশ্নে বা অন্য কোনো প্রশ্নে মডেল টেস্ট দিতে পারেন, তাহলে সময় সম্পর্কে বেটার ধারণা পাবেন।
# ম্যাপ, ডাটা, চার্ট ইত্যাদি প্রাসঙ্গিক না হলে এইগুলো দেওয়ার কোনো প্রয়োজন দেখি না। একটা ম্যাপ আঁকতে যেই সময় লাগে ততক্ষণে অনেককিছু লেখা যায়। যেমন, বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদের গুরুত্ব আসলে এইখানে নদী/খালের ম্যাপ আঁকার কোনো প্রয়োজন নেই।
# অতিরিক্ত তথ্য দিতে গিয়ে কোনো ভুল তথ্য উপস্থাপন করা উচিত নয়। পরীক্ষকের চোখে ভুল ধরা পরলে হিতে বিপরীত হবে। বানান ভুল না করে ব্যাকরণগত শুদ্ধ বাক্য লিখলেই বেশি মার্ক আসবে।
# গণিত ও মানসিক দক্ষতা বাড়িতে খাতায় লিখে চর্চা করুন। বাড়িতে বই দেখে সব পারি মনে হলেও পরীক্ষার হলে উত্তর মেলানো কঠিন হবে যদি পূর্বের প্র্যাকটিস না থাকে।
# বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বর্ণনামূলক প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে যে সকল প্রশ্নের উত্তর টু দ্যা পয়েন্ট দেয়া যায় সেগুলোর উত্তর করুন, এতে মার্ক কাটার জায়গা থাকবে না। বিজ্ঞানের যেসকল প্রশ্নের উত্তরে চিত্র দেওয়া সম্ভব, সেইখানে চিত্র দিন।
# প্রাসঙ্গিক চিত্র আঁকতে হবে তবে খুব বেশি সময় নেয়া যাবে না এবং চিত্রের লেবেলিং যথাযথ হতে হবে।
# হাতের লেখা যেন স্পষ্ট হয় সেইদিকে খেয়াল রাখা উচিত। অনেকে শেষ সময়ে তাড়াতাড়ি লিখতে গিয়ে এমন ভাবে লিখে যে নিজের লেখা নিজেই বুঝবে না।
# পরীক্ষার হলে দেখাদেখি করলে সময় ও মনোযোগ দুইটাই নষ্ট হয়। দেখাদেখি না করে ঐ রুমের মধ্যে আপনিই সেরা এই মনোভাব বজায় রেখে পরীক্ষা দিন। প্রশ্ন সহজ না কঠিন তা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই, যেমনই হোক সবার জন্যই সমান।
# যেহেতু লিখিত+ভাইভা মিলেই রেজাল্ট হয়, সেহেতু লিখিততে যতটা এগিয়ে থাকবেন, ক্যাডার দৌড়েও ততটাই এগিয়ে যাবেন। আর লিখিত পরীক্ষা কেমন হবে তা নির্ভর করবে আপনার কৌশল আর পরিশ্রমের উপর। সকলের জন্য শুভকামনা।
পলাশ আহমেদ
প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত
৪০তম বিসিএস।
Comments
Post a Comment