ব্যাংক রেট জুন ২০২২
কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অর্থের প্রয়োজন হলে, দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে পুনরায় ক্রয় করা হবে, এমন নিশ্চিয়তার ভিত্তিতে ট্রেজারী বিল বা বন্ড বা অন্য কোন বন্ডের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হতে অর্থ সংগ্রহ করাকে Repurchase Agreement ( REPO) বা সংক্ষেপে REPO বলা হয়।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে REPO হলো এক ধরনের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি। যার একপক্ষ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অপরপক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এতে মূলতঃ দুইপক্ষের মধ্যে দুইটি চুক্তি হয়ঃ
ক) বিভিন্ন দায় মেটানোর লক্ষ্যে ও লিকুইডিটি কম থাকার জন্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ট্রেজারী বিলের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করবে।
খ) ভবিষ্যতে (এক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট তারিখ থাকে) একটি নির্দিষ্ট হারে বাণিজ্যিক ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, তার ট্রেজারী বিল পুনরায় ক্রয় করে নেবে।
এখানে নির্দিষ্ট হারটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই হারকেই REPO Rate বলে। বাংলাদেশের বর্তমান REPO Rate 5% (সার্কুলার দ্রষ্টব্য Source: www.bb.org.bd)। যেটি ২৫ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে অর্থাৎ ৪.৭৫% থেকে বেড়ে ৫% হয়েছে।
এক্ষেত্রে আগ্রহীদের কাছ থেকে দুটি প্রশ্ন আসা খুবই স্বাভাবিক?
১. বাংলাদেশে REPO জরুরি কি-না? কেন এটা জরুরি?
২. বাংলাদেশ ব্যাংক কেন বারংবার REPO Rate পরিবর্তন করে?
প্রথম প্রশ্নের উত্তরটা আগে জরুরি, কেননা দ্বিতীয় প্রশ্নটি তার সাথেই সম্পর্কিত। Emerging Economy গুলোর অর্থ সঞ্চালন খুবই Volatile হয়। Investment friendly মার্কেটে তাই অর্থের চাহিদা ও যোগানে প্রায়শই অমাঞ্জস্য থাকে। আর এটাই স্বাভাবিক। তাই এই সকল দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অর্থনীতির Blood Supply তথা Money Supply (বিশেষত Broad Money Supply যাকে M2 বলা হয়) নিয়ন্ত্রন করতে হয়। তাই যখন আমাদের দেশের অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি করার প্রয়োজন হয়, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা বাংলাদেশ ব্যাংক Repurchase Agreement (REPO) এর মাধ্যমে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দ্বারা বাজারে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি করে। কারণ এর মাধ্যমে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক হতে অর্থ লাভ করে, যা দিয়ে তারা বাজারে পরিচালন (Circulation) করতে পারে। ফলে, বাজারে অর্থের প্রবাহ বেড়ে যায়। এতে Investment boost হয়, এবং অর্থনীতি Boom করে। REPO Rate আমাদের দেশের পলিসি রেট হিসেবে পরিচিত।
তাহলে বলুন তো, যদি বাজারে অর্থ প্রবাহ চাহিদার তুলনায় বেশি হয়, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কী করতে হবে?
এবার আসা যাক বাংলাদেশ ব্যাংক কেন বারংবার (চিত্রে ডেটা সংযোজিত, তবে এতে বর্তমান রেট অনুপস্থিত) REPO Rate পরিবর্তন করে? আমরা আগেই জেনেছি বাংলাদেশের অর্থনীতি হলো emerging economy। তাই অর্থনীতির বুমিং এর লক্ষ্যে আমাদের স্বাভাবিকভাবেই Expansionary Monetary Policy Stance নিতে হয়। আর এর ফলে উচ্চ মূদ্রাস্ফীতি খুবই স্বাভাবিক। আবার বৈশ্বিক চরমভাবাপন্ন পরিস্থিতির ইমপ্যাক্ট মোকাবেলায় Money Supply বাড়াতে/কমাতে হয়। এই যেমন করোনাকালে যখন অর্থনৈতিক মন্দা ছিলো তখন Money Supply বাড়ানো খুব জরুরি ছিলো। এজন্য সেসময় REPO Rate ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। এই মূহুর্তে গ্লোবাল ডিমান্ড, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সাপ্লাই চেইন ডিস্টার্বেন্স হওয়াইয় মূল্যস্ফিতি বেড়েছে। আবার সফল ভ্যাক্সিনেশনের কারণে করোনার প্রভাব কমে যাওয়ায় আমাদের মানি সাপ্লাই বেগবান হয়েছে ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক REPO Rate ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছে। যদি CEIC Data (সংযোজিত ২য় চিত্র) লক্ষ্য করি, ২০১০ সালের দিকে আমাদের REPO Rate অনেক কমাতে হয়েছিলো। কেন জানেন? AFC বা এশিয়ান ফিনান্সিয়াল ক্রাইসিসের কারণে। আমাদের Financial Crisis কোর্সে মালয়েশিয়ার প্রেসিডেন্টের অর্থ উপদেষ্টা ডঃ রেজা সাইগর (প্রফেসর, সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি) বলেছিলেন এমার্জিং কান্ট্রি গুলোতে ফিনান্সিয়াল ক্রাইসিসের প্রভাব পড়ে দুই বছর পর। আর তা মোকাবেলায় অগ্রণী হতে হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে। যা গত দুইবারের ক্রাইসিসসহ এবারের করোনা মহামারী মোকাবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংক তা বরাবরের মত সফলতার সাথে ও নীরবে পালন করে এসেছে। আসলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে এসব নীরবেই রক্ষা করতে হয়, কেননা হৃদপিন্ডের শব্দ বুকে মাথা রেখেই শুনতে হয়, বাইরে থেকে শোনা গেলে বিপদ।
Comments
Post a Comment