৪৩তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুতি - সাদমান সাকিব

৪৩তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুতি নির্দেশনা দিয়েছেন সাদমান সাকিব, ৪০ তম বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত

পোস্টটি কৃতজ্ঞতাবোধ থেকেই দেয়া, ৪০ এর পুরো পথচলার খুব কঠিন একটা সময়ে বিভিন্নজনের অভিজ্ঞতা,নোট আমার উপকারে এসেছে, আশা করি আমার গল্পটাও কারো না কারো কাজে লাগবে।
বিসিএস লিখিত পরীক্ষার মার্কশীট দেয়ার আগে কিছুই বলাটা সেইফ না, তবে ফলাফল দেখে অনুমান থেকে কিছু জিনিস বলতে পারি।
আমার মনে হয় লিখিততে ভালো করার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিজের দুর্বলতা জানা, সে অনুসারে সেটা যথাসম্ভব মিটিগেট করে অন্য কিছু দিয়ে কাভার দেয়া।
একইসাথে নিজের শক্তির জায়গা নিয়ে অতি আত্মবিশ্বাস কখনোই ভালো কিছু বয়ে আনবে না।
আমার লিখিত পরীক্ষা আশানুরূপ হয়নি, তবে সৃষ্টিকর্তার অপার করুণায় প্রত্যাশিত ফলাফল এসেছে।
এর পেছনে সম্ভবত লিখিততে কিছু ব্যাপার আমাকে সাহায্য করেছে, সেটা নিয়েই কিছু লিখছি।
১. ইংরেজিতে রচনা হিসেবে আনকমন টপিক সিলেকশন।
আমি জানতাম আমি কমন রচনায় অন্যদের চেয়ে ডাটা, ফ্যাক্ট উল্লেখে পিছিয়ে থাকবো,আমার মুখস্থ করার ক্ষমতা কম। এটার প্রতিকার ছিলো যে রচনা কম মানুষ লিখবে সেটায় তাদের টেক্কা দেয়া, আমার মনে হয় এটাতে কিছু নাম্বার বেশি পেয়েছি।
আপনারা যারা অনুবাদে একটু দুর্বল তারা সপ্তাহে একটা
করে বাংলা ও ইংরেজি অনুবাদ প্র‍্যাকটিস করতে পারেন,
এটায় দক্ষতা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।
একই সাথে ভোকাবুলারি এনরিচ করাটা জরুরি, এজন্য
 ওয়ার্ডস্মার্ট ১,২ বইটি দেখতে পারেন।
দৈনিক ৫ টা শব্দ পড়ে রাখলে পরীক্ষার আগে আপনার শব্দভাণ্ডার অন্য অনেকের চেয়ে সমৃদ্ধ থাকবে।
২. বাংলাদেশ বিষয়াবলি পরীক্ষা ছিলো আমার জন্য যমদূতসম। আমি না জানি কোনো অর্থনৈতিক ডাটা, না আঁকতে পারি ভালো ম্যাপ, কোটেশন পারি হাতেগোণা দু-তিনটি। 
একারণে আমার প্ল্যান ছিলো খাতায় লেখা কম থাক, কিন্তু লেখা যেন দেখতে সুন্দর হয়। তাড়াতাড়ি লিখতে গেলে আমার লেখা উপরে থেকে ঝড়ে নুইয়ে পড়া গাছের মতন দেখায়, এজন্য আমি একটা পেন্সিল দিয়ে লাইন টেনে সেটা ধরে নেমেছি, পরে তা মুছেও দিয়েছি।
অনেক কম লেখার কারনে আমার বাংলাদেশ বিষয়াবলি পরীক্ষা আনুমানিক ৩০ মিনিট আগেই শেষ হয়েছিলো, কিন্তু আমি জানতাম ডাটা, ছবি যেহেতু দিইনি, আমার নাম্বার গড়পড়তার চেয়ে কম আসবে।
হয়তো ধারণা ভুল ছিলো।
৩. আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি পরীক্ষা আমার প্রত্যাশার চাইতে ভালো হয়েছিলো। প্রথম অংশে ৪ নম্বর আন্সার করতে পারিনি, তবে যা লিখেছিলাম তা নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলাম।
এক্ষেত্রে আমার পরামর্শ হবে লেখা ৩ অংশে ভাগ করে নেয়া; একটা সুন্দর সূচনা, হালকা বিশ্লেষণ ও শেষে সুন্দর সমাপ্তি ভালো নম্বর এনে দিবে।
দ্বিতীয় অংশে আমার প্ল্যান ছিলো লেখা কয়েকভাগে ভাগ করা। পটভূমি, বর্তমান ঘটনাপ্রবাহ, এর ভবিষ্যৎ ও নিজের কিছু চিন্তা। সাথে কোনরকমে ঘটনা সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ম্যাপ।
ম্যাপ একে বক্স করে দিবেন, দেখতে ভালো দেখাবে।
নীতিপত্রে এক্সেপশনাল কিছু করিনি, এটা নিয়ে তাই কিছু বলছিনা।
৪. আমি বহুবছর গণিত পড়িয়েছি, এই একটা পরীক্ষা নিয়ে কোনো প্রিপারেশন নেয়া ছাড়াই আমার কনফিডেন্স তুঙ্গে ছিলো।
ফলাফল - ১৫ নম্বর ছেড়ে এসেছি, প্রচুর কাটাকাটি হয়েছে, ৩০ এর বেশি আমি আশা করছি না।
৫. বিজ্ঞান ম্যাথের মতনই হয়েছিলো, এত প্রশ্ন দিবে ধারণা করিনি, এরপর ব্লক ডায়াগ্রাম জিনিসটা আমার জন্য নতুন ছিলো, লেখা নিয়ে স্যাটিসফাইড ছিলাম না, ওভারকনফিডেন্সের কারণে প্রিপারেশনে ঘাটতিই এর মূল কারণ।
আমার ধারণা ছিলো ৫০ বা এর একটু বেশি পেতে পারি।
৬. বাংলা পরীক্ষা ছিল সবার শেষে। আমি এই পরীক্ষায় গ্রন্থ সমালোচনা লিখিনি, কমন পাইনি দেখে, এই সময়টা রচনায় দিয়েছিলাম।
খুব ডাটাবহুল লেখা ছিলো না, তবে ভাষাগত দিক থেকে খুব একটা খারাপ হয়তো লিখিনি, ব্যাপ্তি ছিলো ১০ বা ১২ পৃষ্ঠা (পাতা নয়)।
এই হলো মোটামুটি আমার লিখিত দেয়ার অভিজ্ঞতা। 
আমি ৫২০-৫৪০ রেঞ্জে নম্বর আশা করছিলাম, হয়তো এর চেয়ে কিছুটা বেশি পেয়েছি । 
এতকিছু লিখে আপনাদের বিরক্ত করার পেছনে একটাই উদ্দেশ্য, যাতে ডাটা নিয়ে হতাশ না হন, যাতে কোনো বিষয় নিয়ে ভয় থেকে ওখানে ওভারইনভেস্ট করে শক্তির জায়গায় দুর্বল না হন।
লেখার মান বৃদ্ধিতে জোর দিন, একটু বিশ্লেষণধর্মী হয়ে মাথা ঠান্ডা রেখে পরীক্ষা দিলেই আশা করি ভালো একটা ফলাফল পাবেন।
সবাইকে শুভ কামনা পরবর্তী যুদ্ধের জন্য।
দোয়া রাখবেন। 
সাদমান সাকিব
৪০ তম বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত।

Comments

Popular posts from this blog

জিরো কুপন বন্ড কী? এইটা কিভাবে কাজ করে?

ব্যাংক ভাইবা - মোঃ ইউসুফ আলী

১ম বিসিএস ভাইভা অভিজ্ঞতা-- আল-আমিন আহমেদ