৪০তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডার - Shohel Rahman Shastry
ভাইভা অভিজ্ঞতা
৪০তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডার ( ৪র্থ)
আমি Shohel Rahman Shastry
তারিখঃ ২৫ জানুয়ারি ২০২২
বোর্ডঃ শামীম আহসান স্যার
সিরিয়ালঃ ১০ (মোট ১৭ জন)
সময়ঃ ২৫ মিনিট
চয়েজঃ ফরেন, পুলিশ, এডমিন, কাস্টমস...
বিষয়ঃ সমাজকল্যাণ (ISWR, DU)
একটি প্রশ্ন বাদে সম্পূর্ণ ভাইভা ইংলিশে।
অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করলাম। সালাম দিলাম চেয়ারম্যান ও বাকি দুজন এক্সটার্নালকে আলাদা আলাদাভাবে।
সালাম নিয়ে আমাকে বসতে বলে চেয়ারম্যান স্যার শুরু করলেন-
আপনার নাম কি?
Where are you from?
I'm from Rangpur বলায় জিজ্ঞেস করলেন আজকে রংপুর থেকে এসেছি নাকি ঢাকায় থাকি।
হলে থাকি বললাম।
-কোন সাল থেকে হলে থাকেন? কিছুটা অবাক বা বিব্রত হয়ে জিজ্ঞেস করলো- এখনও হলে থাকেন!
তারপর জানতে চাইলেন তিনি কেন সব প্রশ্ন ইংলিশে করছেন!
(ফরেন প্রথম সেজন্য)
আপনি এপিয়ার্ড? প্রথম ভাইভা?
হ্যা-সূচক উত্তরে বললেন গুড-গ্রেট!
মাস্টার্স করেছেন? সার্টিফিকেট এনেছেন? আমি খুঁজে পাচ্ছি না কেন? (স্যার কাগজগুলোর মাঝে আমার মাস্টার্সের সনদ খুঁজছিলেন)
-বললাম যে সনদ ওখানেই আছে। সিজিপিএ কত সেটা জানতে চাইলেন।
-টেল মি, ফরেন প্রথম কেন?
-বললাম। সিনিয়রদের পরামর্শের প্রসঙ্গ আসায় জানতে চাইলেন শুধু ফরেন ক্যাডারের পরামর্শ নাকি অন্য? অন্য হলে সেগুলো কোন ক্যাডারের লোক।
-ফরেন সার্ভিসে এসে কি কি কাজ করতে চান?
-বললাম।
আপনি ফরেনে কাজ করবেন। এটার জন্য তো পূর্বপ্রস্তুতির ব্যাপার আছে। আপনি কি কি করেছেন এটাতে আসার জন্য?
বেশ কয়েকটা বললাম। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ভাষা শেখার কথা বলেছিলাম। সেখান থেকে জিজ্ঞেস করলেন এত ভাষা থাকতে রুশ আর হিন্দিই কেন? (সার্টিফিকেট জমা দিয়েছিলাম)
-১৯৭১ থেকে প্রসঙ্গ টেনে উত্তর করলাম।
-রুশ ভাষা কীভাবে ও কোথায় কাজে লাগাবো?
বিভিন্ন বই পড়ার কথা বলেছিলাম। সে প্রসঙ্গ টেনে জানতে চাইলেন 'ফরেনে কাজ করেছে এরকম অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লেখা স্পেসিফিক কারও লেখা পড়েছি কি না-
এটিএম নজরুল ইসলাম স্যারের নাম বললাম-
তিনি কি ছিলেন জানতে চাইলেন।
বইটার নাম?
"ফরেন সার্ভিসে ৩৫ বছর- টক মিষ্টি ঝাল"-
নামের প্রথমাংশ ভুলে গেছিলাম। টক মিষ্টি ঝাল বলে বললাম প্রথমাংশ ভুলে গেছি। সরি বলতে হল।
আপডেট থাকার জন্য কি কি করি?
যমুনা আই ডেস্ক, আন্তর্জাতিক সময়, বিবিসি বাংলা এসব বললাম।
-এখান থেকে প্রশ্ন করলো তাহলে বিসিসির ইন্টারন্যাশনাল এফেয়ার্স রিপোর্ট করে এরকম একজন বিখ্যাত রিপোর্টের নাম বলেন।
-বাংলা সার্ভিসের নাম নিল না। আমি ইংলিশের কারও নাম বলতে পারলাম না। ডিরেক্ট সরি।
এবার চয়েজ লিস্টে হাত দিলো। চেয়ারম্যান স্যার নিজে নিজে পড়া শুরু করলেন। ফরেন, পুলিশ, এডমিন, কাস্টমস, ট্যাক্সেশন...। বললেন, পুলিশ দ্বিতীয়। দেশে অনেক আইন আছে যেসব অনুয়ায়ী পুলিশ চলে। তাদের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের আইনি ভিত্তি আছে। বেশ কয়েকটা আছে। আপনি যেকোনো একটার নাম মেনশন করেন।
পিআরবি উল্লেখ করায় পূর্ণরুপ জানতে চাইলেন।
[অন্য ক্যাডার সম্পর্কিত প্রশ্ন এই একটাই ছিল]
আবার ফরেনে প্রবেশ করলেন।
ফরেনে কাজ করার জন্যও এরকম (পুলিশের মত) আইনি ভিত্তি আছে। বলতে পারবেন কি? ভিয়েনা কনভেনশন বললাম। সাল জানতে চাইলেন। ১৯৬১ উল্লেখ করলাম। এরপর জানতে চাইলেন ঠিক কতটি সুবিধার কথা বলা আছে এই কনভেনশনে। বলতে পারিনি। সরি বললাম।
ডেসক্রিপটিভ বিষয়ে ঢুকলেন। জানতে চাইলেন বাংলাদেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মাঝ দিয়ে যাচ্ছে এখন, কি কি সেগুলো?
এলডিসি গ্রাজুয়েশন, রোহিঙ্গা, কোভিড-১৯ এসব বললাম। মনে হলো এসব জানতে চাননি। স্পেসিফিকভাবে র্যাব-পুলিশ কর্মকর্তাদের উপর আমেরিকার এমবার্গো বলায় বললো এটাই জানতে চাচ্ছি।
এরপর বললো, কি কি ইশু আগামী ১০ বছরেও চলতে থাকবে- সহসাই সমাধান হবে না- চ্যালেঞ্জেস--
আমি আবার এলডিসি গ্রাজুয়েশন, রোহিঙ্গা, কোভিড, ক্লাইমেট এসব বললাম।
রোহিঙ্গা আসায় সমস্যা জানতে চাইলেন রোহিঙ্গারা ঠিক কি কি সমস্যা সৃষ্টি করছে? সমাধানে কি কি করবো। আমি একটা করে বলছিলাম আর স্যার বলছিলো আর কি করবেন, আর কি করবেন। যতক্ষণ আমার ভাণ্ডার শূন্য হয় নাই, ততক্ষণ খেলছে এভাবে!
এলডিসি গ্রাজুয়েশনের চ্যালেঞ্জগুলো কি কি?
জাতিসংঘ চাঁদা, স্বল্পসুদে ঋণ, রপ্তানি সুবিধা হ্রাস ইত্যাদি। (মেধাস্বত্ত মনে ছিল না)
রপ্তানির ক্ষেত্রে সুবিধাগুলো কি কি এবং এটার এক্সাক্ট একটা নাম আছে। স্যার জিএসপি জানতে চাচ্ছিলো। আমার মাথা থেকে শব্দটা উধাও হয়ে গিয়েছিলো। বলতে পারিনি। সরি বললাম আবার। হলে এসে মনে হয়েছে জিএসপি বললে খুশি হতো।
প্রবাসী শ্রমিকদের সমস্যা কোথায়? শ্রমিকের সংখ্যা কমছে কেন। বেশ কয়েকটা কারণ বললাম। আবার আগের মত শুরু করলেন। আর কি কারণ? আর কি কারণ?
করোনা না থাকলেও কমতো। কেন?
বেশ কয়েকটা কারণ বললাম।
কিন্তু তিনি যা জানতে চাচ্ছিলেন, আমি সেখানে পৌঁছাতে পারছিলাম না। পরে সিচুয়েশন তৈরি করে দিলেন। তোমার ভাই বিদেশে যেতে চাইলে কি কি করবে?
আমি এখানেও ফর্মাল উত্তর দেয়া শুরু করলাম। কোনোভাবেই নিচ্ছিলেন না।
স্যার আসলে জানতে চাচ্ছিলো দালাল ধরার ব্যাপারটা৷ পরে বললাম স্যার দালাল ধরবো। টাকা পয়সা দেবো। সে সব করে দিবে। এটাও একটা কারণ প্রবাসী শ্রমিক কমার।
স্যার এতক্ষণে খুশি হইলো। বললো এক্সাক্টলি এটাই এক নাম্বার কারণ। তারপর স্যার নিজের অনেকক্ষণ এই ব্যাপারটা নিয়ে বললো। তিনি ফরেনে কাজ করেছেন বলে অভিজ্ঞতা আছে। বেশ কিছু সময় তার মত কথা বললো। আমি সমাধানে জিটুজির প্রসঙ্গ এড করলাম।
চেয়ারম্যান স্যার এখানে প্রায় ১৭-১৮ মিনিটের কাছাকাছি সময় নিয়ে ফেলেছেন। তিনি বাকি দুজনকে বললো, ওনাকে তাহলে ছেড়ে দেই। অনেক সময় নিয়েছি। আমার আগের নয়জন গড়ে ৮-১০ মিনিট করে ভিতরে ছিলেন। সিরিয়াল নং আটের আপুটা শুধু ছিল ১২ মিনিট। আমি ছিলাম দশে। চেয়ারম্যান স্যার ছাড়তে চাইলেও এক্সটার্নাল দুজন ছাড়লেন না।
এক্সটারনাল-১ঃ (স্যার আমি একটু কথা বলি)
বললেন, আপনি তাহলে সোশিওলজির ছাত্র?
না বলে বললাম স্যার আমি সোশাল ওয়েলফেয়ার এর ছাত্র। তখন তিনি সোশিওলজি আর সোশাল ওয়েলফেয়ার এর পার্থক্য জানতে চাইলেন।
দুটোর সংজ্ঞা আর স্কোপ বলে বোঝানোর চেষ্টা করলাম। দুটোর মধ্যে কোনটা বেসিক, কোনটা এপ্লাইড, এভাবে বলা যায় কি না এসব জিজ্ঞেস করলেন। ডিপার্টমেন্টে এতদিন যেভাবে এসব লিখে আসছি সেভাবেই বললাম।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর মধ্যে দুয়েকটা নাম বলতে পারবো কি না? [এটিই একমাত্র বাংলা প্রশ্ন ছিল, বাকি সব প্রশ্নোত্তর হয়েছে ইংলিশে]
-- বয়স্কভাতা, বিধবাভাতাসহ অন্যান্যগুলো সাথে মুক্তিযোদ্ধা ভাতার প্রসঙ্গ আসায় এখানে একটু প্যাচাইলো।- এই ভাতার একটা নাম আছে, সেটা কি? বললাম। এটাকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অধীন মানতে স্যার নারাজ। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বললাম স্যার আমি এক্সাক্ট জানি এটা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমেই প্রদান করা হয়, তবে সামাজিক নিরাপত্তা কি না এক্সাক্টলি বলতে পারছি না। আমার ভুল হতে পারে।
জানতে চাইলো- ওয়েলফেয়ার স্টেট কি?
এক্সটার্নাল-২ঃ
ম্যাম ছিলেন। দেখে মনে হয়েছে ফরেন মিনিস্ট্রির। তিনি বললেন, ইতোমধ্যে অনেক সময় নিয়ে ফেলেছেন তারা। তিনি বেশিক্ষণ রাখবেন না। শুধু দুটো প্রশ্ন করবেন এবং বললেন 'আমি আশা করবো আপনি উত্তর করতে পারবেন।'
প্রথমে সিচুয়েশন দিলেন। ধরেন আপনাকে ফরেনে নিলাম। আপনি দেশের বাইরে একটা ইনভেস্টমেন্ট সামিটে আছেন। ওখানে ফরেন ইনভেস্টাররা আছে। আপনি তাদেরকে কীভাবে কি বলবেন যাতে তারা বাংলাদেশে ইনভেস্ট করে। অর্থাৎ FDI আনতে কি করবেন?
সরকার প্রদত্ত সুযোগ সুবিধার বিষয়গুলো তুলে ধরলাম। ম্যাম খুশি হলেন।
দ্বিতীয় প্রশ্নও ছিল পরিস্থিতি নির্ভর। জানতে চাইলো এখন যে পরিস্থিতির মাঝ দিয়ে আমাদের দেশ যাচ্ছে, তাতে বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে আপনি কাকে কাকে প্রিফার করবেন?
--মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রসঙ্গ তুলে এবং প্রতিবেশি দেশ হিসেবে বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে ইন্ডিয়াকে ফার্স্ট প্রায়োরিটি দিয়ে উন্নয়নের প্রসঙ্গ এনে চীন ও জাতিসংঘ কেন্দ্রীক যেকোনো সমস্যায় ভেটো পাওয়ার হিসেবে জন্মকালীন বন্ধুরাষ্ট্র রাশিয়ার কথা বললাম। সাথে রপ্তানি বাজার হিসেবে ইইউ এর সাথে ভালো সম্পর্ক রাখার কথা বলতে বলতে ম্যাম থামালেন।
চেয়ারম্যান স্যারকে বললেন তার প্রশ্ন শেষ। চেয়ারম্যান স্যার শেষ ঘোষণা করলেন। কাগজপত্র নিয়ে আমাকে আসতে বললেন। ম্যামের হাতে ছিল সব। এগিয়ে গেলাম। ম্যাম মাস্ক খুলে বললেন- ওয়েল ডান। বেস্ট অব লাক। সুন্দর একটা হাসি দিলেন। ২৫ মিনিটের চাপ আমার এক মুহূর্তেই হাওয়া হয়ে গেল। সহাস্য ধন্যবাদ জানিয়ে আবারও সালাম দিয়ে বের হলাম। ঠিক ১২ঃ১০ মিনিটে ঢুকেছিলাম। বের হয়ে ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি ১২ঃ৩৫ বেজে গেছে।
দোয়া করবেন আমার জন্য।
সোহেল রহমান শাস্ত্রী
সুপারিশপ্রাপ্ত
সহকারী পুলিশ সুপার (৪র্থ)
৪০তম বিসিএস
Comments
Post a Comment