৪০ বিসিএস ভাইভা - প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত - Sayma Sharmin
১৩ ফেব্রুয়ারী
বোর্ডঃ জনাব মান্নান স্যার
সিঃ ১২
বিষয়ঃ ইংরেজি
প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত
সালাম দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই বসতে বললেন, থ্যাংকস দিয়ে বসলাম।
চেয়ারম্যান স্যারঃ তোমার বাড়ি কোন জায়গায়?
আমিঃ মৌলভীবাজার। এখানে অনেক বলেছি, এলাকা নিয়ে।
এক্সটার্নাল ম্যাম এবং চেয়ারম্যান স্যার দুজনেই বললেন তোমার কথার মধ্যে চিটাগং এর এক্সেন্ট আছে।
আমি ঃ আসলে চিটাগাং এর সাথে সিলেটের কালচারালি ও অনেক মিল। আমার অনেক ফ্রেন্ড আছে চিটাগাং এর... আরো অনেক বললাম
চেয়ারম্যান স্যারঃ অনার্স এর রেজাল্ট খুবই ভালো। মাস্টার্স এর রেজাল্ট আরো ভালো। মা, তুমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলে না কেনো?
আমিঃ স্যার, আসলে আমার বাবার স্বপ্ন আমি ম্যাজিস্ট্রেট হবো। সেজন্যে... ব্লা ব্লা
চেয়ারম্যান স্যারঃ শুধুই বাবার স্বপ্ন?
আমিঃ না স্যার, বাবার স্বপ্নেএ সাথে আমার স্বপ্ন ও একসময় এক হয়ে যায়। এখানে একটা ঘটনা আছে। আমি যখন ক্লাস এইটের স্কলারশিপ পাই তখন জেলায় একটা প্রোগ্রাম হয় সংবর্ধনা দেয়ার জন্য। সেখানে চিফ গেস্ট ছিলেন তখনকার মৌলভীবাজার এর জেলা প্রশাসক জনাব আলকামা সিদ্দিকী স্যার। উনার শৈশবের বেড়ে উঠার সাথে আমার শৈশবের বেড়ে উঠার মিল আছে। উনি একটা মনোমুগ্ধকর স্পিচ দিয়েছিলেন। এটা এতোটা নাড়া দিয়েছিল যে, আমি তখনই ডিসিশন নেই উনার মতো হবো।
চেয়ারম্যান স্যারঃ তাই নাকি! আলকামা সিদ্দিকী তো খুব ভালো মানুষ। বলো তো উনার বাড়ি কই?
আমিঃ আমি সে টা জানি না স্যার।
চেয়ারম্যানঃ বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের বাড়ি কই?
আমিঃ সেটাও তো জানি স্যার। তবে উনি ৪ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন।
চেয়ারম্যান স্যারঃ আচ্চা,বলো বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান র বাড়ি কই?
আমিঃ স্যার,আমি তো সেটাও জানি না।
চেয়ারম্যান স্যারঃ ওকে, বলো শামসুর রহমানের বাড়ি কই।
আমি ঃরায়পুরা।
চে স্যারঃ এখন বলো মতিউর রহমান এর বাড়ি কই?
আমিঃ স্যার,রায়পুরা, বলেই হেসে দিছি। স্যার, এটা আমি জানতাম না, আপনার কথায় ধরে নিছি।
চে স্যারঃ বাহ, তুমি শুধু সুন্দর করে কথা বলো না, বুদ্ধিমতীও। হাসি..আচ্চা, দেশে এখন একটা অঘোষিত ক্রাইসিস চলতেছে, বলো সেটা কি
আমিঃ করোনা, ( না বললেন) নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ, এফডিসি নির্বাচন (এটা বলাতে সবাই একসাথে হাসি, আমিও হাসতেছি)
চে স্যারঃওকে, তোমার ইংলিশ এর দক্ষতা যাচাই করি। বলো, What are the qualities a Deputy Commissioner needs?
আমিঃ Leadership, Decision Making quality, Honesty...
চে স্যারঃ আচ্ছা, বলো বিসিএস ক্যাডার হলে কি করবা তোমার এলাকার জন্য?
আমিঃ অনেক কথা বলছি এখানে আমার সারাজীবনের অভিজ্ঞতা। ( স্যাররা স্যাটিসফাইড ছিলেন)
চে স্যারঃ দেশে কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়িত হচ্ছে? মুজিব বর্ষের উদ্দেশ্য কি?
আমিঃ অনেক বলেছি।
এক্সটার্নাল স্যারঃ আচ্ছা, ধরো, তুমি বড়লেখার ইউএনও, সরকারি নিয়ম বাস্তবায়ন ছাড়া আর কি দায়িত্ব পালন করবা, বলো।।
আমিঃ অনেক গোছাইয়া বলেছি,স্যার এটাতে সবচেয়ে স্যটিস্ফাইড ছিলেন।
চে স্যার ঃ গান গাইতে পারো?
আমিঃ না স্যার।
চেয়ারম্যান স্যারঃ ওকে, তাইলে একটা কবিতা বলো।
আমিঃ স্যার, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় যেটা আবৃত্তি করেন সেটাই করি। বলে রবার্ট ফ্রস্টের Stopping by Woods on a Snowy Evening আবৃত্তি করলাম। শেষে বললাম, স্যার এই কবিতাটার মর্মাথ আমি আমার জীবনে ধারণ করি।
চে স্যারঃ বাহ! এটা তো আমার ও প্রিয় কবিতা।এরপরে টেবিলে একটা কাগজ ছিলো এখানে একটা কবিতা ছিলো। আবৃত্তি করতে বললেন, যেখানে জহির, মনির এই দুইটা নাম ছিলো। বললেন এরা কারা?এবং কবিতায় কাদের ফিরে আসার কথা বলা হয়েছে?
আমিঃ হঠাৎ বুঝতে পারিনি, বললাম বুদ্ধিজীবীদের ফিরে আসার কথা বলা হয়েছে?
এক্সটার্নাল ম্যামঃ আবৃত্তি তো ভালোই করেছো। কিন্তু শুধু সুন্দর করে কথা বললে হবে না বাংলা সাহিত্য ও পড়তে হবে।
আমিঃ স্যার, এখানে জহির রায়হান আর মুনির চৌধুরীর ফিরে আসার কথা বলা হয়েছে, ডিটেইলস বললাম।
চেয়ারম্যান স্যারঃ উদয়ের পথে শুনি কার বানী এর আগের লাইন বলো।
আমিঃ স্যার,মনে করতে পারতেছি না। হিন্টস দেয়ার পরেও আসে নি।
ম্যামঃ স্যার, ও শুধু ইংলিস সাহিত্য পারে।
এক্সটার্নাল স্যারঃ স্যার, ওকে অনেকক্ষণ রাখছি। আর ছেড়ে দেই? তারপর বললেন এটাই লাস্ট কোশ্চেন, আনোয়ার পাশার নাম শুনেছো? উনার রাইফেল রোটি আওরাত পড়েছো? এই বইয়ের লাস্ট লাইন বলো।
আমিঃ মনে মনে ভাবছিলাম কি ভাগ্য আমার! সাহিত্য সমালোচনা পড়ার সুবাদে লাস্ট লাইন ও মনে আছে। বলে ফেললাম। সবাই স্যাটিসফাইড। ওকে এখন যেতে পারো। তখনই ম্যাম বললেন, বাংলা সাহিত্য আরো পড়বা ঠিকাছে? আমি জ্বি ম্যাম বলে উঠলাম।
তখনই চেয়ারম্যান স্যার বললেন, তুমি তো একদিন পুলিশের আইজিপি হয়ে যাবা। সব সামলাতে পারবা তো? ম্যাম সাপোর্ট দিলেন, স্যার সে পারবে।
( একবারও মনে হয় নি ভাইভা বোর্ডে আছি।পুরোটা সময় চিল মুডে ছিলাম)
Comments
Post a Comment