৪০ বিসিএস প্রশাসন - তারেক রহমান

সফল ভাইভা অভিজ্ঞতা

তারেক রহমান

৪০ বিসিএস প্রশাসন (মেধাক্রম: ৪র্থ) 

ভাইভা অভিজ্ঞতা: ০১ মার্চ ২০২১.

(২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ আমার দুদকে এডি হিসেবে ভাইভা  ছিল। আমি দুদকের ভাইভাকে বিসিএস এর মক ভাইভা হিসেবে দিতে যাই। দুদকে একাউন্টিং এর বাইরে আমাকে কিছুই জিজ্ঞাসা করে নাই, আমি কিছু পারিও নাই। কিন্তু লাকিলি দুদকে এডি হিসেবে আমার ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়েছে হয়তো ঈদের পরে রেজাল্ট দিয়ে দিবে।) 

বোর্ড: আব্দুল মান্নান স্যার

সিরিয়াল: ২/১৫

চয়েজ: এডমিন, পুলিশ, কাস্টমস, ইকোনমিক, ট্যাক্স, অডিট, আনসার ..... (জেনারেল ক্যাডার সব চয়েজ দিয়েছিলাম।) 

সময়: ২৫ মিনিট (+-) 

আমি যে কোন ভাইভাতে স্যুটের বোতাম লাগিয়ে রুমে প্রবেশ করি। স্যার বসতে বললে স্যুটের বোতাম খুলে তারপরে বসি। 

রুমে প্রবেশ করে চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে একটা সালাম দিলাম। মাস্ক পরা ছিল। আমাকে মাস্ক খুলতে বলেনি। বসতে বলল, আমি যথারীতি স্যুট কাস্টমস মেনে বসলাম। 

চে: You are Tareque Rahman. You are lecturer of Accounting of .......  (আমি ৩৭ বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার ছিলাম। কিন্তু যোগদান করিনি। তাই আমার নামের পাশে আমার কলেজের নামটা উল্লেখ নাই। উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী বিসিএসের ডিটেইলস পরবর্তী বিসিএসের ভাইভার সময় যে কাগজটা চেয়ারম্যানকে প্রোভাইড করা হয় সেই কাগজে লিপিবদ্ধ থাকে।) 

আমি: Sorry sir. I was recommended as General Education cadre. But unfortunately I didn't join there. Now I am working as an Assistant Director of DGFI. (আমি এটা বলার পর এক্সটার্নাল-২ আমার ডকুমেন্টস চেক করে এনওসি দেখলো।) 

চে: তুমি DGFI তে আছো? 

আমি: জ্বি স্যার। 

চে: তো বাবা বলো, তোমার প্রথম পছন্দ কি? 

আমি: বিসিএস প্রশাসন। 

চে: বিসিএস প্রশাসন তোমার কেন পছন্দ? 

আমি: স্যার, আমি কি অফিসিয়ালি বলবো নাকি আনঅফিসিয়ালি বলবো? 

চে: (হাসি দিয়ে) তুমি তোমার মত করে বলো। 

আমি: স্যার, প্রশাসন ক্যাডারকে আমি ভালোবাসি। 

চে: (অবাক হয়ে) কি? 

আমি: জ্বি স্যার, প্রশাসন ক্যাডারকে আমি ভালোবাসি। 

(সবাই হেসে দিলেন।)

চেয়ারম্যান পরে এক্সটার্নালকে কোশ্চেন করতে বললেন। 

এক্স-১: তোমার সাবজেক্ট কি? 

আমি: একাউন্টিং, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। 

এক্স-১: (স্যার আমাকে বিষয়ভিত্তিক কোশ্চেন করছেন। আমি জীবনেও একাউন্টিং থেকে কোন কোশ্চেন পারিনা। তবে এদিন ভাগ্যটা আমার সুপ্রসন্ন ছিল বলে, তিনি যা যা জিজ্ঞেস করছেন তা আমি পারছি।) মানি লন্ডারিং কি? 

আমি: (DGFI তে মানি লন্ডারিং এর উপরে একটা ট্রেনিং করেছিলাম। সেই ট্রেনিংয়ের সমস্ত জ্ঞান এখানে ঝেড়ে দিলাম। খুব সুন্দর করে ওভার ইনভয়েসিং, আন্ডার ইনভয়েসিং এর ০৪ টা টার্মসহ মানিলন্ডারিং বুঝিয়ে দিলাম। এখানে আমি একাউন্টিং এর প্রফেসর হয়ে গেলাম।) 

স্যাররাও খুশি, আমিও খুশি। (বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাইভাতে আমাকে একাউন্টিং থেকে যা যা জিজ্ঞেস করেছে আমি সব সরি, জানিনা স্যার, থ্যাঙ্ক ইউ স্যার বলে পার করে দিয়ে আসি। অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আমি চাকরী পেয়ে ছিলাম অফিসার জেনারেল-১৯)  

এক্স-১: ট্রেজারি বন্ড, ওয়েজ আর্নার বন্ড এখানে কিছু কোশ্চেন করছেন। এগুলো আমার সাবজেক্টিভ কোশ্চেন।  এগুলো আমি আনসার দিতে পেরেছি। 

এক্স- ২: তুমি DGFI তে জয়েন করছো আগস্ট মাসে। আগে কোথায় ছিলে? 

আমি: স্যার, আমি বাংলাদেশ ব্যাংকে অফিসার জেনারেল হিসেবে দেড় বছরের মত চাকরি করেছি। 

এক্স-২: অফিসার জেনারেল কোন গ্রেড? 

আমি: দশম গ্রেড স্যার।

চে: বঙ্গবন্ধুর ২টা ছবি দেখতে বললেন। (আমার পেছনে বরাবর দেয়ালে ঝুলানো ছিল।) এই দুইটা ছবির কাহিনী বল। 

আমি: (একটা ছবি ছিল ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু দেওয়া বাংলায় ভাষণ আরেকটা ছবি ছিল ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে লন্ডন থেকে বাংলাদেশে আসার সময় তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ বঙ্গবন্ধুর গাড়ির দরজা খুলে দিলেন সেই ছবি।) 

চে: বঙ্গবন্ধু ইংল্যান্ড নেমে সেখানে কি আলোচনা করেছিলেন? 

আমি: সরি স্যার আমি সঠিক জানিনা। তবে I can guess. 

চে: ওকে। গেস করে বলো। 

আমি: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইংল্যান্ডের কাছে বাংলাদেশের স্বীকৃতি চেয়েছিলেন। 

চে: আর? 

আমি: সরি স্যার। 

চে: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ করার কথা বলেছিলেন। 

আমি: জ্বি স্যার। (চাকরিতে জ্বি স্যার, হ্যাঁ স্যার করতে করতে মুখ দিয়ে শুধু জ্বি স্যারই বের হয়।) 

চে: তুমি কি বঙ্গবন্ধুর আমার দেখা নয়াচীন বইটা পড়েছ? 

আমি: জ্বি স্যার। 

চে: সত্যিই পড়েছ? 

আমি: জ্বি স্যার। 

চে: ওই বইটা বঙ্গবন্ধু কি বলেছেন? 

আমি: স্যার, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নয়া চীনের যে অর্থনৈতিক উত্থান সেটা দেখে খুব বিস্মিত হয়েছেন এবং নয়াচীন ভবিষ্যতে সুপারপাওয়ার হবে এটা তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করে গিয়েছেন। 

চে: আর কি? 

আমি: চুপ করে ছিলাম।

চে: People's Republic of China. (এটা নিয়ে স্যার অনেক সময় কথা বললেন। আমি শুধু জ্বি স্যার, হ্যাঁ স্যার করে গেলাম।) 

আমি: জ্বি স্যার। 

চে: (স্যার আমাকে প্রশ্ন করতে গিয়ে চিন্তা করতেছিলেন) গণপ্রজাতন্ত্রের কথা প্রথম বলা আছে একটা সনদে? (স্যার সনদের কথা মনে করতে পারছিলেন না) 

আমি: স্যার, মদিনা সনদ? 

চে: রাইট রাইট। মদিনা সনদে কি বলা আছে বল? 

আমি: স্যার গণতন্ত্রের কথা বলা আছে। (আমি আসলে জানি না কি বলা আছে? ফাঁকা বুলি মেরে দিছি।) 

চে: আর? 

আমি: সরি স্যার। 

চে: (মদিনা সনদ নিয়ে অনেক কথা বললেন। আমি শুধু শুনে গেলাম।) 

এক্স-২: বাংলাদেশের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা কোনটি? 

আমি: স্যার NSI. 

এক্স-২: (পরবর্তীতে স্যার গোয়েন্দা সংস্থা রিলেটেড অনেক প্রশ্ন করেন গোয়েন্দা সংস্থার কাজ, আমরা কি করি ইত্যাদি ইত্যাদি) RAW, মোসাদ কি? CIA কোন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা? 

আমি: এগুলো সব বলছি। 

এক্স-২: Block Chain কি? 

আমি: সরি স্যার। আইডিয়া নাই। 

এক্স-২: আইডিয়া নাই? 

আমি: না স্যার। 

এক্স-২: GAVI কি? 

আমি: Global Alliance for Vaccine .... (বলার পর "Immunization" মনে আসতেছিল না।) তখন বলছি - সরি স্যার, "I" তে কি সেটা ঠিক মনে করতে পারছি না।

এক্স-২: চেষ্টা করো। 

আমি: (ফাইনালি পারছি।) 

এক্স-২: তুমি একবার জাতির পিতা আবার জাতির জনক বলছো? বঙ্গবন্ধু উপাধি আসলে কি? 

আমি: স্যার, জাতির পিতা। স্যার জনক ক্ষুদ্রার্থে, আর পিতা বৃহদার্থে। জন্ম দিলেই জনক হওয়া যায়। 

এক্স-২: "জনক ক্ষুদ্রার্থে" বলে নিজেই স্বগোক্তি করলেন। (সংবিধানে "জাতির পিতা" বলা আছে এটা উল্লেখ করার কথা আমার মনে ছিল না।)  

আরো কিছু প্রশ্ন ছিল। ঠিক মনে নাই। স্যাররা যখন বললেন ঠিক আছে, তুমি আসো। তখন আমি স্যুট কাস্টমস মেনে দাঁড়িয়ে গেলাম এবং সার্টিফিকেটের জন্য এক্সটার্নাল-২ এর কাছে গেলাম। 

ফাইনালি চলে আসার সময় এক্সটার্নাল-২ আমাকে সার্টিফিকেট দেওয়ার সময় আমি দেখি সেটা অন্যজনের সার্টিফিকেট। তখন আমি বললাম স্যার এটা আমার না, আমারটা ওইপাশে। তখন স্যার আমারটা দিয়ে বললেন, ঠিক আছে। 

সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে সালাম এবং ধন্যবাদ দিয়ে চলে আসলাম।।

Comments

Popular posts from this blog

জিরো কুপন বন্ড কী? এইটা কিভাবে কাজ করে?

ব্যাংক ভাইবা - মোঃ ইউসুফ আলী

১ম বিসিএস ভাইভা অভিজ্ঞতা-- আল-আমিন আহমেদ