কে. এম. রাফসান রাব্বি - ৪০তম বিসিএস প্রশাসন (সুপারিশপ্রাপ্ত)

সফল ভাইভা অভিজ্ঞতা 

৪০তম বিসিএস ভাইভা ।কে. এম. রাফসান রাব্বি 

৪০তম বিসিএস প্রশাসন (সুপারিশপ্রাপ্ত) 

বোর্ডঃ বিজ্ঞ সদস্য প্রফেসর মোঃ হামিদুল হক স্যার

সিরিয়ালঃ ৩ 

সময়: ১৬-১৭ মিনিট

চয়েসঃ পররাষ্ট্র, প্রশাসন, কাস্টমস... 

প্রথমে অনুমতি নিয়ে রুমে প্রবেশ করে সব স্যারদের সালাম দিলাম। চেয়ারম্যান স্যার আমাকে বসতে বললেন। এরপর এক্সটার্নাল-১ স্যার প্রশ্ন শুরু করলেন। 

এক্স-১ঃ Rafsaan, Where do you come from?

আমিঃ Sir, I came from Jhenaidah (I guess, স্যার আমার পার্মানেন্ট অ্যাড্রেসই জিজ্ঞেস করেছিলেন) 

এক্স-১ঃ আচ্ছা রাফসান, তুমি মৈত্রী সেতু নিয়ে কি জানো? 

আমিঃ স্যার, ফেনি নদীর ওপর দিয়ে যে সেতুটি নির্মিত হচ্ছে সেটির কথা বলছেন? 

এক্স-১ঃ হ্যাঁ, বলো ... 

আমিঃ জ্বি স্যার, ধন্যবাদ। ফেনী নদীর ওপর দিয়ে বাংলাদেশ এবং ভারতের যৌথ উদ্যোগে যে সেতুটি নির্মিত হচ্ছে সেটিই মৈত্রী সেতু নামে পরিচিত। এটি বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি এবং ভারতের ত্রিপুরাকে সংযুক্ত করবে। 

এক্স-১ঃ তুমি কি এক্স্যাক্ট লোকেশনটা বলতে পারবে যে কোন দুটি প্রান্তকে কানেক্ট করেছে? 

আমিঃ জ্বি স্যার। এটি খাগড়াছড়ির রামগড় প্রান্ত থেকে ত্রিপুরার আগরতলাকে কানেক্ট করেছে। 

এক্স-১ঃ ত্রিপুরার আগরতলা! Are you sure?

আমিঃ Sir, I am more or less sure but not 100% confident. 

এক্স-১ঃ সাবরুমের নাম শুনেছ? 

আমিঃ জ্বি স্যার, স্যরি। আগরতলার সাব্রুমকে কানেক্ট করেছে। 

এক্স-১ঃ Okay Rafsaan. Can you please tell us the name of three leaders who got Outstanding Achievement Award for their contribution in dealing with Covid-19 Pandemic situation?

আমিঃ Yes Sir, I Can. The first one is our Honorable Prime Minister Deshrotno Sheikh Hasina (obviously from Bangladesh), seconde one is Jacenda Arden from Newzealand, and third one is Mia Amor Mottley from Barbados. 

এক্স-১ঃ Good. আচ্ছা এখন বল তো, বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কিভাবে নিরূপিত হয়?

আমিঃ (এই প্রশ্নে আমি একটু নার্ভাস হয়ে পড়ি) স্যার, বাংলাদেশের সংবিধানের আর্টিকেট ৪৮ থেকে আর্টিকেল ৫৪ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির কার্যপরিধি বিবৃত আছে। 

এক্স-১ঃ তুমি একটু আর্টিকেল মেনশন করে বলো... 

আমিঃ (এই অবস্থায় আরেকটু ঘাবড়ে যায়) স্যার, বাংলাদেশের সংবিধানের আর্টিকেল ৭৩ অনুযায়ী সংসদের সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি। 

এক্স-১ঃ আরেকটু স্পেসিফিক ...

আমিঃ স্যার, বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে সকল নির্বাহী ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলে প্রযুক্ত হয়। 

[এক্স-১ এবং চেয়ারম্যান স্যার ইশারায় করলেন। বুঝলাম উত্তর মনোমত হয়নি] 

এক্স-১ঃ আচ্ছা বল, বাংলার ইতিহাসের সাথে দুটি আম্রকানন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তুমি কি দুটি আম্রকাননের ইতিহাস বলতে পারবে? 

আমিঃ স্যার, এই মুহূর্তে আমার একটি আম্রকাননের ইতিহাস মনে পড়ছে। আমি সেটি বলছি। এর মধ্যে এরেকটি মনে পড়লে আমি সেটি বলছি, স্যার। প্রথমটি হচ্ছে মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আম্রকানন যেখানে আমাদের মুক্তি সংগ্রামের প্রথম অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়েছিল। আর স্যার আমার দ্বিতীয় আম্রকাননের ইতিহাস এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না, স্যরি স্যার। 

এক্স-১ঃ পলাশীর যুদ্ধ কোথায় হয়েছিলো? 

আমিঃ (স্মিত হেসে) আম্রকাননে স্যার। 

এক্স-১ঃ (হেসে বললেন) এই তো... এখন ঠিক আছে। (এরপর এক্স-২ স্যারের কাছে হ্যান্ডওভার করলেন) 

এক্স-২ঃ আচ্ছা তোমার ফার্স্ট চয়েস কি?

আমিঃ স্যার, বিসিএস ফরেইন অ্যাফেয়ার্স। 

এক্স-২ঃ তোমার হোম ডিসট্রিক্ট তো ঝিনাইদহ। ঝিনাইদহ জেলার নামকরণ কিভাবে হয়েছিলো বলতে পারবে?

আমিঃ জ্বি স্যার, আমি পারবো। ঝিনাইদহ জেলাটি নবগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। আঞ্চলিক ভাষায় ঝিনেই শব্দের অর্থ ঝিনুক আর দহ শব্দের অর্থ গ্রাম। নবগঙ্গা নদীতে শ্রমজীবী মানুষ ঝিনুক কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। সেখান থেকেই এই জেলার নাম হয়েছে ঝিনুকের গ্রাম বা ঝিনাইদহ। 

এক্স-২ঃ গুড। আচ্ছা, বারো ভূঁইয়া নিয়ে কি জানো? 

আমিঃ স্যার, বাঙালি বীরের জাত। সে আবহমান কাল থেকেই কখনো বিদেশী শাসন মেনে নেয়নি। এজন্যে মোঘল শাসন যখন সাম্রাজ্য বিস্তার করতে বাংলায় চলে আসে তখন বাংলার বেশকিছু জমিদার একতাবদ্ধ হয়ে বাংলার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে মোঘলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। ইতিহাসে তাড়াই বারো ভুঁইয়া নামে পরিচিত। 

এক্স-২ঃ আচ্ছা, তুমি রাজা হরিশ্চন্দ্রের নাম শুনেছ? 

আমিঃ জ্বি স্যার। শুনেছি। 

এক্স-২ঃ উনাকে নিয়ে কি জানো? 

আমি স্যরি স্যার, উনাকে নিয়ে আমি বিশেষ কিছু জানি না। 

এক্স-২ঃ তোমরা ভাই বোন কয়জন?

আমিঃ স্যার, আমার ছোট বোন আছে। 

এক্স-২ঃ কোন ক্লাসে পড়ে? 

আমিঃ স্যার, ও এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অবতীর্ণ হবে। 

এক্স-২ঃ তুমি তো অ্যাপিয়ার্ড দীয়ে পরীক্ষা দিয়েছ। মাস্টার্স করনি? 

আমিঃ জ্বি স্যার। করেছি। 

এক্স-২ঃ তাহলে সার্টিফিকেট কোথায়?

আমিঃ স্যার, রেজাল্ট হয়েছে কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্টিফিকেট ইস্যু হতে বেশ দেরী হয়। (এখনো হয়নাই। ভাইভা হইছে আর ১ বছর আগে) 

এরপর আবার এক্স-১ স্যার প্রশ্ন শুরু করলেন। 

এক্স-১ঃ আচ্ছা বল, মুক্তিযুদ্ধের সময় সাব সেক্টর কয়টি ছিল? 

আমিঃ স্যার, ৬৪টি 

এক্স-১ঃ What is the full form of ASEAN?

আমিঃ Association of Southeast Asian Nations. 

এক্স-২ঃ আশিয়ান দেশগুলোর নাম বল?

আমিঃ (পাঁচটা বলার পর থামিয়ে দিলেন স্যার। এরপর চেয়ারম্যান স্যারের কাছে হ্যান্ডওভার করলেন আমাকে) 

চেয়ারম্যান স্যারঃ মুক্তিযুদ্ধের সময় দুইজন আমেরিকানের রোল নিয়ে কিছু বল। 

আমিঃ স্যার। প্রথমজন হচ্ছেন, আর্চার কে ব্লাড, যিনি ব্লাড টেলিগ্রাম পাঠানোর জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। আমাদের মহান মুক্তি সংগ্রামের সময় পাক হানাদার বাহিনীয় নৃশংসতার কথা তিনিই এই টেলিগ্রামের মাধ্যমে আমেরিকাতে পাঠান। এর জন্যে তাকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। আর দ্বিতীয় জন হচ্ছেন রবার্ট কেনেডি (টেড কেনেডি হবে, ভুলে রবার্ট বলে ফেলছিলাম। স্যার ধরেননি), যিনি মার্কিন সিনেটর ছিলেন। এবং মহান মুক্তি সংগ্রামের সময় ৮০ লক্ষ শরনার্থী যখন ভারতে অবস্থান করছিল তখন তিনিই প্রথম ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর জন্য মার্কিন সিনেটে প্রস্তাব পেশ করেন। 

চেয়ারম্যান স্যারঃ Can you please tell us the role of Justice Abu Sayeed Chowdhury during our liberation war? 

আমিঃ Yes Sir, I can. Justice Abu Sayeed Chowdhury brough the Bangladeshi delegation to United Nations and United Kingdom to get support from our Diaspora living in UK and also get support from the UK citizens. 

চেয়ারম্যান স্যারঃ What was his designation?

আমিঃ Sir, I am not pretty much sure but if you give me the chance, I can give a try. (Actually আমি স্পেশাল এনভয় না হাইকমিশনার এই দুইটার মধ্যে কনফিউজড ছিলাম। স্যার আর আমাকে চান্স দেননি) 

চেয়ারম্যান স্যারঃ তুমি এখন আসতে পারো। 

[এরপর কাগজপত্র নিয়ে সব স্যারদের সালাম দিয়ে বের হয়ে আসি।] 

এটি আমার চাকরি জীবনের দ্বিতীয় ভাইভা ছিল। প্রথম ভাইভা ছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। সুতরাং আমার ভাইভা ফেইস করার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত কম। মহান আল্লাহর রহমতে দুটি ভাইভাতেই চাকুরী হয়েছে। দুটি ভাইভাতেই আমি আমার বেসিক ইন্সটিংটের ওপর ভরসা করেছি। চেষ্টা করেছি কনফিডেন্ট থাকার। আমি যেমন সেটাই তুলে ধরার। ভুল করলে অ্যাপলজেটিক হওয়ার। কোনকিছু পুরো পারলে পুরাটুকু বলার আর আংশিক পারলে সেটি অনুমতি নিয়ে বলার। আমি এখানে যেভাবে উত্তরগুলো করেছিলাম ঠিক সেভাবেই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমার দুটি ভাইভাতেই বোর্ড অনেক ফ্রেইন্ডলি ছিল মহান আল্লাহর রহমতে। আশা করি আমার এই অভিজ্ঞতাগুলি আপনাদের প্রিপারেশন নিতে কিছুটা হলে সহায়ক হবে। 

লেখকঃ 

কে. এম. রাফসান রাব্বি 

৪০তম বিসিএস প্রশাসন (সুপারিশপ্রাপ্ত) 

মেধাক্রমঃ ৪৮ 

সাবেক সহকারী পরিচালক, 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

Comments

Popular posts from this blog

জিরো কুপন বন্ড কী? এইটা কিভাবে কাজ করে?

ব্যাংক ভাইবা - মোঃ ইউসুফ আলী

১ম বিসিএস ভাইভা অভিজ্ঞতা-- আল-আমিন আহমেদ