রাশিয়ার ইউক্রেইন ইনভেশন ও যুদ্ধের কিছু ট্যাকটিক্যাল বিশ্লেষণ - H M Sohel

#রাশিয়ার_ইউক্রেইন_ইনভেশন_ও_যুদ্ধের_কিছু_ট্যাকটিক্যাল_বিশ্লেষণ 
যুদ্ধ ত শুরু হলো। একদিন শেষও হবে। এ পর্যন্ত অনেক ঘটে যাওয়া ইভেন্টের কিছুকিছুর একদম ট্যাক্টিক্যাল লেভেলের বিষয় অনুধাবন করার চেষ্ঠা করছি। 
রাশানদের যে বিষয়গুলো আমার কাছে প্রাথমিকভাবে সীমাবদ্ধতা মনে হয়েছেঃ
১। অতিরীক্ত ম্যাকানাইজড নির্ভর অপারেশন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে, এমন কি গাল্ফ ওয়ারে এটার প্রেক্ষিত ভিন্ন ছিলো। কারন তখন অ্যান্টি ট্যাংক অস্ত্র গুলো ছিলো গান ও রাইফেল বেইজড।  বহু পরে চালু হয় গ্রেনেড দেন মিজাইল। মিজাইলের উন্নয়ন গুলো প্রিমিটিভ> ১ম জেনারেশন> ২য় জেনারেশন> ৩য় জেনারেশন ২০০০ সাল পর্যন্ত। (জেনারেশনের ব্যাখ্যা দিতে গেলে লেখা অনেক বড় হয়ে যাবে) ২০২২ সালের দিকে সব আর্মীই প্রায় ৩য় জেনারেশন ইউজ করে এবং ইউক্রেইন কে যেগুলো দেয়া হয়েছে তা হলো চতুর্থ জেনারেশন এমনকি ৪জি+।  সুতরাং আর্মারড কলাম ১৯৪৫, ১৯৯০ এ যা করতে পারতো তা আর হবে না কখনোই। ২০০৬ সালে ৩৪ ডে যুদ্ধের প্রেক্ষিতে ২০১৬ এর দিকে ডিফেন্স গ্রুপে একটি ফিচার লিখেছিলাম বাংলাদেশের সম্ভাব্য অ্যান্টি ট্যাংক ডিফেন্স নিয়ে যা আপনাদের অনেকেই হয়তো দেখেছেন। আমার ভবিষ্যত বাণী সম্পূর্ণ বাস্তবে রুপ নিয়েছে। ইউক্রেইন যুদ্ধের পর আমি আরো কনফিডেন্ট ও তৃপ্ত যে বাংলাদেশের মতো টের‍্যাইনে শত্রুর আগমন মৃত্যু কূপে পরিণত হবে যদি সেই রুপরেখার মত অ্যান্টি ট্যাংক ডিফেন্স তৈরী করা হয়। রাশান রা এই বিষয় টা মিস করেছে মে বি।
২। ইনফ্যান্ট্রির অপ্রতুলতা। ম্যাকানাইজড ফোর্সের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে ইনফ্যান্ট্রি ডেপ্লয় কম হয়েছে। এটাকে ভুল বলবো না, কারন তারা যুদ্ধটাকে সীমিত আকারেই করতে চেয়েছে। ইনফ্যান্ট্রির পর্যাপ্ত আবির্ভাব হলে ইউক্রেনীয় অলিতে গলিতে যুদ্ধ ছড়িয়ে যেত এবং অনেক বেশি সিভিলিয়ান মারা পরতো। রাশান স্ট্রাটেজিক নীডে হয়তো এই অপারেশনাল কন্সট্রেইন ছিলো। কিন্তু ইউক্রেইনের মতো টের‍্যাইনে আরবান ওয়ারফেয়ারে ইনফ্যান্ট্রীর কোন বিকল্প নেই যেটা রাশান রা ব্যবহার করেনি। ফলাফল আপনারা দেখছেন। একমাত্র রাশান ইনফ্যান্ট্রি ক্যান নিউট্রালাইজ ইউক্রেনীয় ট্যাংক হান্টারস ও ম্যানপ্যাডস অপারেটর। ম্যাকানাইজড ফোর্স না। কারন ম্যাকানাইজড ফোর্স সবখানে হুটহাট করে যেতে পারে না। ইভেন রাস্তাতেই ডেবে যাচ্ছে। তা ছাড়া এতে ট্যাক্টিক্যাল সিক্রেসী বলতে কিছুই নাই। কিন্তু ইনফ্যান্ট্রী ক্যান মেইক এ লট অব ডিফারেন্স। 
৩। এয়ারবোর্ণ ফোর্সের ব্যবহারে যথাযথ সূবিধা নিতে পারেনি রাশিয়ান রা। তারা লিংক আপ অপারেশনে ব্যর্থ হয়েছে। যাও করেছে টাইম প্ল্যান অনুযায়ী হয়নি। আমি রাশান দের অপারেশনাল সেন্টার অব গ্রাভিটি এখনো ধরতে পারছিনা। কি যে দাবার চাল মারতেছে তাও জটিল। আমার এয়ারবোর্ণ ফোর্স আছে বলেই আমি তাদের কেন কমিট করবো যদি না গ্রাউন্ড কন্ডিশনিং না হয়? রাশান দের এপ্রোচ ছিলো- স্পেশাল ফোর্স> এয়ারবোর্ণ ফোর্স > ম্যাকানাইজড ফোর্স।  খুবই রিস্কি এপ্রচ। আমার শিক্ষা ও বর্তমান সিচুয়েশনে এপ্রচটা হওয়া উচিত ছিলো ম্যাকানাইজড>এয়ায়ারবোর্ন>ইনফ্যান্ট্রি। কারন এত ডীপ পেনিট্রেশনে লিংক আপ শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে রাশান রা যেটা করেছে তা অনুচিত। মূল্য তারা দিয়েছে। তবে এটা তারা করেছে আমেরিকার 'শক এন্ড অও' এফেক্ট  আনার জন্য। অনেক তড়িঘড়ি ছিলো। 
৪। স্পেশাল ফোর্সের ব্যবহার কই?  যেহেতু আমি ব্যাটেল্ফিল্ডে বা ওয়ারজোনে নাই, সুতরাং চিন্তাগুলো ভুলও হতে পারে। ওপেন সোর্স, ফরেন কলিগ্রাই একমাত্র সোর্স। কিন্তু অদ্যাবধি রাশান স্পেশাল ফোর্সের কোন সাকসেস দেখি নাই। থুক্কু, এম্পলয়মেন্টই ত দেখছি না। অথচ এই যুদ্ধে অনেক স্কোপ ছিলো তাদের এই স্পেশাল ফোর্সের তরবারী প্রদর্শনের। 
৫। লজিস্টিক প্রিপারেশনেরও সীমাবদ্ধতা দেখা গিয়েছে। আমার কোন কোন ক্ষেত্রে মনে হচ্ছে, অনেক  রাশান সৈনিক রাও ভাবেনি যে পুতিন আসলেই তাদেরকে এই যুদ্ধে পাঠাচ্ছে। তাদের যথাযথ প্রি-অপারেশন প্রশিক্ষনের অভাব লক্ষ্য করা গেছে। চালকরা ভুল চালিয়েছে। এই জেনারেশন রাশান সৈনিকদের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা যে ছিলো না, তা প্রতিফলিত হয়। সিরীয় যুদ্ধের অংশগ্রহনের পর এমনটা কাম্য নয়। তাছাড়া টাইম প্ল্যান ধরতে গিয়ে ওরা পেছনের লজিস্টিক কলামের কথা ভুলে গেছে। অতি উৎসাহে ম্যাকানাইজড ব্রেক ইন করেছে,  যে স্পীড লজিস্টিক কলাম রিফিল ও সিংক্রোনাইজ করতে পারে নাই। পরে কিছুটা শুধরে নিয়েছে। 
৬। এয়ার অপারেশন ওরা ভালো করেছে যদিও বেশ কিছু এয়ারক্রাফট খুইয়েছে। এটার কারন ওরা অয়ে পয়েন্ট গুলোতে ইনফ্যান্ট্রী স্ক্রিনিং করে নাই। লো ফ্লাই যেখানে সেইফ হবার কথা, সেখানে লো ফ্লাইং এই বেশি হিট হয়েছে। SEAD অপারেশন এ যথেষ্ঠ সাক্সেস হলেও,  ন্যাটোর দেয়া ম্যানপ্যাড ক্রুদের ম্যানেজ কপ্রা ইনফ্যান্ট্রিরই দ্বায়ীত্ব ছিলো। এখানে এয়ার অপারেশন কিছুটা হোচট খায়। কিন্তু সু৩৪ বম্বার ক্যামনে হিট হলো বুঝলাম না। এর সাথে কম্ব্যাট এয়ার পেট্রল থাকার কথা। বম্বার অনেক উচুতে থাকে। আর ইউক্রেনীয় এয়ার এসেট ত আগেই প্রায় শেষ। তাই সম্ভবত কোন ফরমিডেবল এডি এখনো অক্ষত আছে। 
৭। রাশান ইন্টিলিজেন্স বা এওয়াক্স কি করতেছে আল্লাহই জানে। ন্যাটো এই যুদ্ধে শুধু সোলজার অন দ্য গ্রাউন্ড ছাড়া সর্বাত্বক ভাবে পার্টিসিপেট করে চলছে। তারা ইউক্রেইন কে এওয়াক্স সাপোর্ট, স্পাই এয়ারক্রাফট সাপোর্ট, আই এস আর সাপোর্ট, স্যাটেলাইট সাপোর্ট দিচ্ছে যা যুদ্ধে সরাসরি সোলজার পাঠানোর চেয়েও এই ফেইজে অনেক অনেক ক্রিটিল্যাল। ইউক্রেনীয় রা রাশান দের প্রতিটি ট্যাংক, হেলিকপ্টারের ম্যুভমেন্ট সম্পর্কে আগে থেকেই জানতো ও সে ভাবেই ফাদ পেতে রাখতো। এ ছাড়াও ন্যাটো দেশ গুলোর অনেক স্পেশাল ফোর্স,  এজেন্ট, ট্রেইনার, অ্যাডভাইজার রা ইউক্রেনীয়দের সাথে সাথে যুদ্ধে আছেন। শুধু ইউনিফর্ম ছাড়া। আমার ন্যাটো কলিগদের কাছ থেকে সিরিয়া তে, ইরাকে, আফ্রিকার বিভন্ন দেশে তাদের এই কর্মকান্ডের বহু গল্প শুনতাম একই টেন্টে যখন ঘুমাতাম বা বিভিন্ন দেশে একসাথে কাজ করতাম। তা ইউক্রেইনে রাশান ইন্যেলিজেন্স কি করতেছে। নকি ইউক্রেইনে ওদের নেটওয়ার্কই যথেষ্ঠ শক্তিশালি করে গড়ে উঠেনি? 
৮। ইনফো ওয়ার। রাশান রা ১৯৪৫ এও যেমন পিছিয়ে ছিলো। আসলে শুন্যের কোঠায় ছিলো তখন। এখোনো বহু পিছিয়ে আছে। গ্লোবাল মিডিয়া পশ্চীমারা কন্ট্রল করে। সোশ্যাল মিডিয়াও। আমরা ফেইসবুকে রাশান দের কোন সাকসেসই দেখতে পাই না। কারন সব ব্যান বা ব্লক করে দেয়া। শুধু ইউক্রেনীয় সাকসেস দেখছি। কিন্তু দিন শেষে দেখছি রাশান রা একটার পর একটা স্ট্রাটেজিক স্থাপনা দখল করে নিচ্ছে। যথাঃ নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট, স্ট্রাটেজিক ড্যাম, রিফাইনারী, মিলিটারি বেইজ। যেন ইউক্রেনীয়রা দান করে দিচ্ছে। ইউটিউবে তাদের সব ভিডিও নাই। গায়েব করে দেয়া হচ্ছে। ইউক্রেনীয়রা প্রচুর ইনফো ওয়ারের সাপোর্ট পাচ্ছে। তাদের জন্য পশ্চীমারা মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের ইনফো ওয়ার, প্রপাগান্ডা কন্টেন্ট তৈরী করে ছড়িয়ে দিচ্ছে। যেটা রাশান দের ক্ষেত্রে অপ্রতুল। 
৯। রাশান্ দের সংযম কেও আমি একটা সীমাবদ্ধতা হিসবে ধরবো। ওরা চেয়েছিলো স্পীডি গেইন। শক এন্ড অও। কিন্তু আবার অনেক বেশি রিস্ট্রেইন্ড।  কন্ট্রাডক্টরি। আমেরিকা যখন যুদ্ধে নামে, নরক গুলজার করে নামে অব্জেল্টিভ এচীভ করার জন্য। রাশান দের মায়া মনে হচ্ছে বেশি। এখনো কোন ইউক্রেনীউ হস্পিটাল, স্কুল, বাজার, মার্কেট প্লেস, ব্যাংক বম্বিং করে নাই। অবাক হচ্ছেন এগুলো ত সিভিলিয়ান টার্গেট। তবে এগুলো টার্গেট করলে সমাজে ভীতির মাত্রা ১০ গুন বেশি হয় মিলিটারি টার্গেটের চেয়ে। যদিও রাশান রা কিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পানি শোধানাগার ধংস করেছে। 
১০। রাশান রা এখনো পুরোদস্তর যুদ্ধ শুরুই করেনাই। এই অপারেশন একটা 'স্পেশাল মিলিটারি অপারেশন' নামে শুরু হয়েছে। অনেক এসেট এখনো রাস্তাতেই নামে নাই বা আকাশেই উড়ে নাই। তবে এটাকে সীমাবদ্ধতা বলা উচিত কিনা আমার নিজেরও জানা নেই। রাশান স্ট্রাটেজিস্ট রাই ভালো জানেন। 
তবে রাশান দের ক্রেডিট দিতে হয় নিম্নলিখিত ব্যাপারেঃ
১। মিসাইল ফোর্সের সাকসেস
২। এয়ার ফোর্সের সাকসেস
৩। এয়ার ডিফেন্সের সাকসেস
৪। ম্যনিউভার ফোর্সের ম্যানিউভার। 
৫। নেভাল ডেপ্লয়মেন্ট যা কিনা আগেই সেড়ে ফেলা হয়। 
আমি মনে করি এই যুদ্ধ রাশার জন্য একটা ট্রেনীং গ্রাউন্ড। আসল যুদ্ধটা হবে ন্যাটোর সাথে। যদি হয়, ওখানে হয়তো বর্তমান সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারবে। এগুলো একান্তই আমার বিক্ষিপ্ত ভাবনা। রাশান প্ল্যানারদের মাথায় আমার ঢোকা অসম্ভব। তারাই ভালো জানেন তাদের যুদ্ধের স্ট্রাটেজি। তবে ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে ও যুদ্ধের খুটিনাটি স্টাডি করে করে বিষয় গুলো বুঝার চেষ্ঠা করা আর কি।  আশা করি ইইক্রেইন কে নিয়েও একদিন লিখবো।
#SHARE_If_U_Care_to_let_your_friends_know
ইউক্রেইন যুদ্ধ নিয়ে আমার লেখা আরো কিছু বিক্ষিপ্ত ভাবনাঃ 
রাশান দের ট্যাক্টিক্যাল সীমাবদ্ধতা (8.3.22)ঃ 
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1340016693151614&id=100014298881695
পুতিনের বাবা মা এর অসাধারন টিকে থাকার কাহিনীঃ
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1339287643224519&id=100014298881695
পশ্চীমাদের সাইকোলজিক্যাল ওয়ার /Info-psy war: 
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1334490187037598&id=100014298881695
যুদ্ধ ও সভ্যতা/ War and civilization:  
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1331673330652617&id=100014298881695
অসম্পূর্ণ এয়ার পাওয়ারের বাস্তবতা /  Incomplete Air Power is business frinedly, but not operational friendly. Its a gross waste of investment: 
https://www.facebook.com/groups/1261071233945842/permalink/5077249005661360/
জ্বালানীর অভাব নাকি মেইন্টেন্যান্স ও স্পেয়ার্সের অভাব্জনিত কারনে কনভয়ে গাড়ী থেমে গেছে / Fuel exhauseted or Broke down? 
https://www.facebook.com/groups/1261071233945842/permalink/5077841128935481/
রাশান নিউক্লিয়ার ফোর্স অর্ডার পাওয়ার পর যা করছে / What Russian Deterrence Force are doing now:
https://fb.watch/bE5gNNHlo3/
যুদ্ধবন্দীদের প্রতি রাশান্দের আচরন/  Russian approach to POW:
https://www.facebook.com/groups/1261071233945842/permalink/5069781963074731/
যুদ্ধের ইউরোপের প্রথম ভিকটিমঃ
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1331207030699247&id=100014298881695
রাশান বনাম ইউক্রেনিয়ান সৈন্য (২৩.২.২২)ঃ
https://www.facebook.com/groups/1261071233945842/permalink/5057545997631661/

Comments

Popular posts from this blog

জিরো কুপন বন্ড কী? এইটা কিভাবে কাজ করে?

ব্যাংক ভাইবা - মোঃ ইউসুফ আলী

১ম বিসিএস ভাইভা অভিজ্ঞতা-- আল-আমিন আহমেদ