বিশ্ব অর্থনীতিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব ও বাংলাদেশ ড. মোহাম্মাদ দুলাল মিয়া, ড. এম কবির হাসান (মার্চ ০৩, ২০২২ - Bonik barta)
যুদ্ধে জড়ানোর ভালো সময় বলতে কিছু নেই। তবুও বর্তমান সময়টা যে একেবারেই বৈরী, সেকথা বলার অপেক্ষা রাখে না। চলমান অতিমারীর কারণে বিশ্ব এখন একটা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি একেবারেই পর্যুদস্ত। উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থা প্রায় পুরোপুরি অচল ছিল এ সময়ে। অগণিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হওয়ায় বিরূপ প্রভাব পড়েছে জাতীয় অর্থনীতিতে। ২০২০ সালেই বিশ্বের মোট দেশজ উৎপাদন ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। প্রাকৃতিক এ সংকট কাটিয়ে বিশ্ব যখন মন্থরগতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ সেই গতি আরো মন্থর করবে।
ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে আদর্শিক দ্বন্দ্ব অনেক পুরনো। রাশিয়া চায় ইউক্রেনের সরকার রাশিয়ার ছায়া হয়ে থাকুক। অন্যদিকে ইউক্রেন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে রাশিয়ার আদর্শ থেকে দূরে থেকে পশ্চিমা ধাঁচে নিজেকে গড়তে চায়। এরই মধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যেন কোমর বেঁধে নেমেছেন ন্যাটোয় যোগ দেয়ার জন্য। ইউক্রেন যদি এ লক্ষ্যে সফল হয়, সোভিয়েত-পরবর্তী রাশিয়ার পরাশক্তি হয়ে ওঠার যে খায়েশ তা হালে পানি পাবে না। এমনিতেই ন্যাটো পূর্ব দিকে বিস্তৃত হয়ে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে আলাদা হওয়া অনেক স্বাধীন রাষ্ট্রকে সদস্য করেছে। ন্যাটোর এ বিস্তার রাশিয়ার কাছে যারপরনাই অপছন্দ। নিজের দরজার সামনে ন্যাটো কড়া নাড়বে, এটা রাশিয়া চায় না। কারণ এতে রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে বলে দেশটি অনেক দিন থেকেই বলে আসছে। তাই ইউক্রেনের ন্যাটোয় যোগ দেয়া রাশিয়া যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করবে বলেই বিজ্ঞ মহলের ধারণা।
নিজেদের মধ্যে এই বিরাজমান বিভেদ নিরসনে দফায় দফায় বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কারণ রাশিয়া বা ইউক্রেন কেউ নিজ নিজ অবস্থান থেকে এক চুলও সরে আসতে রাজি নয়। ২০ বছরের বেশি সময় ধরে পুতিনের ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রধান হাতিয়ার ছিল রাশিয়াকে সুপারপাওয়ার হিসেবে বিশ্বদরবারে হাজির করা। এ অবস্থায় ইউক্রেনকে যদি ন্যাটোয় যোগ দেয়া থেকে বিরত রাখতে রাশিয়া ব্যর্থ হয়, তবে বৈশ্বিক মোড়ল হয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষা রাশিয়ার অঙ্কুরেই বিনষ্ট হবে। এদিক থেকে বিবেচনা করলে ইউক্রেনকে সামরিকভাবে আক্রমণ করা ছাড়া রাশিয়ার কোনো বিকল্প ছিল না। তবে রাশিয়া এত তাড়াতাড়ি সামরিক আগ্রাসনে যাবে এমন ধারণা খুব কম লোকেরই ছিল। অনেকেরই অনুমান ছিল যে রাশিয়া ইউক্রেন সীমান্তে সৈন্য বহর সাজিয়ে দরকষাকষি করে বড় কিছু একটা আদায় করে নেবে। তবে এমন ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে এরই মধ্যে।
বলাবাহুল্য, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যত তড়িঘড়ি করে সংঘটিত হলো, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব এত দ্রুত উপলব্ধি করা যাবে না। তার প্রভাব পড়বে ধীরে কিন্তু লম্বা সময় ধরে। এ যুদ্ধে সর্বাগ্রে ইউক্রেনীয় জনগণের জন্য অবশ্যই একটি দুঃখজনক অধ্যায়। দেশটির ক্ষতির পরিমাণ কী হবে তা এখনই অনুমান করা অসম্ভব। এরই মধ্যে একটি বিষয় পরিষ্কার যে রাশিয়া যত দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে পারবে বলে মনে করেছিল, বাস্তবে তা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও রাশিয়ার বড় কোনো সাফল্য দৃশ্যমান নয়। ইউক্রেন যদি গেরিলা আক্রমণেই যুদ্ধ মোকাবেলা করে, তবে এ যুদ্ধ অনেক দিন স্থায়ী হতে পারে। এতে ইউক্রেনীয় জনগণের জানমালের অভাবনীয় ক্ষতি হবে একথা নিশ্চিত।
অন্যদিকে রাশিয়ার জনগণও এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে এ যুদ্ধের কারণে। ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্ররা এরই মধ্যে অনেক রকমের অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছে রাশিয়ার ওপর। পশ্চিমের আকাশপথ পুরোপুরি বন্ধ রাশিয়া এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রির জন্য। সুইফট থেকে রাশিয়ান ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে বাদ দেয়া হচ্ছে। ফিফা, ইউয়েফা, অলিম্পিকসহ অন্যান্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থেকে রাশিয়াকে বাদ দেয়া অনেকটাই নিশ্চিত। ক্রীড়া সংস্থা ও নামিদামি ক্লাবগুলো রুশ কোম্পানি বা রাষ্ট্রীয় সংস্থার স্পন্সরশিপ বাতিল করেছে। দেশটির পুঁজিবাজার নিম্নগামী। ব্যাংকগুলোয় তারল্যের সংকট চরমে। অনেক বড় বড় বিদেশী বিনিয়োগকারী রাশিয়ার কোম্পানি ও রাষ্ট্রীয় সংস্থার, বিশেষ করে তেল ও গ্যাস কোম্পানিতে বিনিয়োগ তুলে নেয়ার কথা জানিয়েছে। এমনিতেই ২০১৪ সালে ক্রাইমিয়াকে সংযুক্ত করার পর থেকে রাশিয়ার অর্থনীতি অনেকটাই স্থবির। তারপর নতুন করে যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, বিনিয়োগে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তা, বাণিজ্যিকভাবে একঘরে হয়ে পড়া অর্থনীতি রাশিয়ার জনগণের জন্য অসহনীয় হবে, বর্তমান অবস্থা এমনটাই ইঙ্গিত করে।
অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার বাড়িয়ে একলাফে ২০ শতাংশে উন্নীত করেছে। রাশিয়া আশা করছে সুদের এ হার ব্যাংকে গচ্ছিত জনগণের টাকার অবমূল্যায়ন রোধে সহায়ক হবে, কারণ ডলারের বিপরীতে রাশিয়ান রুবলের প্রায় ৩০ শতাংশ হারে অবমূল্যায়ন হয়েছে। তদুপরি এ হার জনগণকে সঞ্চয়ে উৎসাহী করবে, যা মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে সহায়ক হবে। কিন্তু এতে রাশিয়ার অর্থনীতির শেষ রক্ষা হবে এমন মনে করার মানুষ বেশি নেই, যদিও রাশিয়া অনেক দিন প্রস্তুতি নিয়েই এ যুদ্ধে নেমেছে। দেশটির চলতি হিসাবের উদ্বৃত্ত ৬৩ হাজার কোটি মার্কিন ডলার যা প্রায় দুই বছরের আমদানি ব্যয় বহন করার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার ফলে প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি ব্যাহত হলে সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি ঠেকানো যাবে না। অবশ্য অর্থনীতিকে সচল করার জন্য দেশটির নীতিনির্ধারকদের কাছে অন্য কোনো হাতিয়ার আছে বলে মনে করার বেশি কারণ নেই।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের পর ইউরোপের অনেক দেশই অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এ যুদ্ধের ফলে। যদিও বিশ্ব অর্থনীতিতে রাশিয়ার অবদান মাত্র ৬ শতাংশ, চলমান সংকট বিশ্ব অর্থনীতিতে অবশ্যই বিরূপ প্রভাব ফেলবে। ১৯৭৩ সালে যখন বিশ্বজুড়ে ‘তেল সংকট’ দেখা দেয় তখন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যের অবদান আজকের রাশিয়ার অবদানের চেয়েও কম ছিল। তবুও তেল সংকটে এক নাজুক অবস্থা তৈরি হয়েছিল বিশ্বজুড়ে। কারণ জ্বালানির জন্য অল্প কিছু তেল, গ্যাস রফতানিকারক দেশের ওপর বিশ্ব নির্ভরশীল। আর এটাই বৈশ্বিক রাজনীতিতে রাশিয়ার প্রধান দাবার গুঁটি। দেশটির গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মজুদ এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তাদের সরবরাহ রাশিয়ার একটি প্রধান হাতিয়ার। ইউরোপের মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদার ৪০ শতাংশ এবং জ্বালানি তেলের এক-তৃতীয়াংশ রাশিয়া একাই সরবরাহ করে। রাশিয়া ছাড়াও নরওয়ে, আলজেরিয়া ও আজারবাইজান ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ করে। ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি জার্মানি তার প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদার ৬৫ শতাংশ রাশিয়া থেকে আমদানি করে। এছাড়া ইতালি তার মোট গ্যাসের চাহিদার ৪৩ শতাংশ এবং ফ্রান্স ১৬ শতাংশ রাশিয়া থেকে আমদানি করে। ইউরোপের অন্য ছোট দেশ, যেমন চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ও স্লোভাকিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদার সিংহভাগই জোগান দেয় রাশিয়া। বলা যায়, রাশিয়ার জ্বালানি শক্তিই ইউরোপের বাড়িগুলোকে উষ্ণ রাখে, কারখানাগুলো সচল রাখে আর যানবাহনগুলোকে দেয় প্রয়োজনীয় জ্বালানি। তাই রাশিয়া যদি গ্যাস ও জ্বালানি তেল সরবরাহে হস্তক্ষেপ করে, ইউরোপের অর্থনীতি যে চরম জ্বালানি সংকটে পড়বে, সেকথা বলার অপেক্ষা রাখে না।
তবে এ যুদ্ধের প্রভাব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তেমন পড়বে না বলেই ধারণা। কারণ বাইডেন প্রশাসন দেশটির রিজার্ভ থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ বাড়ানোর পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বল্প পরিসরে এখন একটি জ্বালানি রফতানিকারক দেশ। কিন্তু ব্যষ্টিক অর্থনীতিতে যুদ্ধের অভিঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও নেতিবাচক হবে। কারণ ইউরোপ ও মার্কিন অর্থনীতি পরস্পর সংযুক্ত।
বলাবাহুল্য, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রতিশোধ হিসেবে রাশিয়া তার জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসকেই তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করবে। ২০২১ সালে একবার ইউক্রেন সংকট গভীর হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়া ইউরোপে তার গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছিল। মস্কো তখন শুধু তার চুক্তিভিত্তিক গ্যাসটুকু ছাড়া অতিরিক্ত প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছিল। আর তাতেই ইউরোপে গ্যাসের দাম হু-হু করে বেড়ে যায়। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের উল্লম্ফন দেখা যায়। ব্যারেলপ্রতি বর্তমানে তেলের দাম প্রায় ১০৫ মার্কিন ডলার, যা শেষ দেখা গিয়েছে ২০১৪ সালে, যখন অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল রেকর্ড উচ্চতায়। গ্যাসের দামও বাড়ছে অনুরূপভাবে। রাশিয়া যদি সত্যিই জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে রাশ টেনে ধরে, প্রয়োজনীয় জ্বালানির চাহিদা বিশ্ব কীভাবে পূরণ করবে তা নিয়ে রয়েছে বড় অনিশ্চয়তা।
ইউরোপের জন্য অবশ্য এটা হতে পারে অনিষ্টে ইস্ট লাভ। কারণ এ মহাদেশের অনেক দেশই নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ লক্ষ্যের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। রাশিয়া জ্বালানি সরবরাহ কমালে ইউরোপের দেশগুলো জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের একটা বড় যুক্তি খুঁজে পাবে এবং বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ হবে। তবে এটা শুধু বড় একটা বিনিয়োগেরই বিষয় নয়, দীর্ঘ সময়েরও ব্যাপার বটে। রাশিয়া যদি সে সময় দিতে রাজি না হয়, তবে বিশ্ব নতুন এক জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হবে।
বর্তমানে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির যে গতি, তাতে বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে। যদি তা হয়, তবে মুদ্রাস্ফীতি সামাল দেয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য জটিল হয়ে উঠবে। এমনিতেই করোনার নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে ওঠার জন্য বিশ্বজুড়ে অভাবনীয় সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতি চালু রয়েছে। এ নীতিকে এখনই পরিবর্তন করলে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার হুমকির মুখে পড়বে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঝুলিতে থাকা সব সমরাস্ত্র দিয়ে করোনার প্রভাব মোকাবেলা করার চেষ্টা হয়েছে। এ অবস্থায় নতুন করে মূল্যস্ফীতি সামাল দেয়ার কার্যকরী কোনো নীতি অবশিষ্ট নেই বলেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা। অর্থাৎ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বেশি সময় স্থায়ী হলে সাধারণ জনগণের সমৃদ্ধি ও হিতসাধন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান বিপজ্জনক বৈশ্বিক পরিস্থিতি অনেক দেশকেই বহিঃশত্রুর কাছে নিজেকে দুর্বল বিবেচনা করবে, বিশেষ করে বড় প্রতিবেশীর সঙ্গে ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাকে নাজুক মনে হবে। দেশগুলো তাই প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধিতে তত্পর হবে। এরই মধ্যে জার্মানি ২০২২ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা বাজেট ১০ হাজার কোটি ইউরোয় বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। শুধু তাই নয়, ন্যাটোর চাহিদা মোতাবেক দেশটি তার মোট দেশজ উৎপাদনের ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে খরচ করতে রাজি। আরো অনেক দেশ এ তালিকায় অচিরেই যুক্ত হবে। এ তত্পরতা যদিও মোট দেশজ উৎপাদনকে প্রভাবিত করবে না, এটি জনগণের কল্যাণ রহিত করবে। কারণ প্রতিরক্ষার জন্য ব্যয়কৃত সম্পদ আরো উন্নয়নমূলক কাজ, যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা বা অবকাঠামোয় বিনিয়োগ করা যেত।
বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি নির্ভর করবে বিশ্বনেতারা কোন বিকল্পটা বেছে নেবেন তার ওপর। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক কার্যক্রম প্রমাণ করে যে রাশিয়া এরই মধ্যে একটি গর্হিত বিকল্প বেছে নিয়েছে। তেমনিভাবে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য সরকার ‘নিষেধাজ্ঞা’ বিকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে, যা শুধু রাশিয়ার নয়, তাদের নিজেদেরও ক্ষতি করবে। এখন দেখার বিষয় রাশিয়া তাদের প্রতীকীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে বা রাশিয়ার প্রতিপক্ষ আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কিনা। নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা প্রতিক্রিয়া যত বাড়বে রাশিয়ার জন্য তার পরিণতি হবে ততই ভয়াবহ। তবে বিশ্ব অর্থনীতিও এ ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয় মোটেও।
ড. মোহাম্মাদ দুলাল মিয়া: সহযোগী অধ্যাপক নিজওয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ওমান
ড. এম কবির হাসান: অধ্যাপক, নিউঅরলিন্স বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট প্রাইজ ইন ব্যাংকিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স-২০১৬ বিজয়ী
Comments
Post a Comment