৪০ তম ভাইভাঃ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভাইভা প্রার্থীর ভাইভা অভিজ্ঞতা
৪০ তম ভাইভাঃ
চয়েজঃ কাস্টমস, পুলিশ, প্রশাসন, রোডস এন্ড হাইওয়ে।
সাব্জেক্টঃ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং।
সিরিয়ালঃ ১৪/১৯।
দুরুদুরু বুকে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করলাম। সালাম দিলাম। স্যার বসতে বললেন।
চেয়ারম্যান স্যারঃ BMI কি?
আমিঃ Body Mass Index। স্যার বললেন ভেরি গুড।
স্যারঃ তোমার বিএম আই কত?
উত্তর দিলাম। ( ওয়েট বেড়ে যাওয়ায় সৌভাগ্যক্রমে কিছুদিন আগেই বিএমআই ক্যাল্কুলেট করি)
স্যারঃ বিএম আই একটু বেশি মনে হচ্ছে। (২ জনেই মুচকি হাসি)।
স্যারঃ একটি আদর্শ ইটের সাইজ কত?
উত্তর দিলাম।
স্যারঃ ১০০ মিটার লম্বা ৫ ফিট দেয়াল করতে ইট লাগবে কয়টা?
আমিঃ স্যার, একটু ক্যাল্কুলেট করা লাগবে।
স্যারঃ ক্যাল্কুলেট করতে সময় দিব না। আচ্ছা বল সিমেন্টের ফিল্ড টেস্ট কি কি?
উত্তর দিলাম। স্যার নিলেন উত্তর।
স্যারঃ লেখাপড়া কোথা থেকে করেছ?
আমিঃ ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি।
স্যার এবং এক্সটার্নাল ২ঃ ওখানকার সবাই তো বাইরে চলে যায়। তুমি দেশে আছ কেন?
আমিঃ দেশের জন্য কাউকে না কাউকে তো থাকতেই হবে। 😋😋
এক্সটার্নাল ১ঃ জব কর কোথায়?
উত্তর দিলাম এবং স্যার কি কি কাজ হয় সেটার বিস্তারিত জানতে চাইলেন।
এক্সটার্নাল ১ঃwhat is sunshine policy?
কোন দেশের পলিসি সেটা বললাম কিন্তু পলিসি টা কি সেটা পারিনি।
এক্সটার্নাল ১ঃ what is finance bill?
এটায় শুরুতে বাংলায় বলে ফেলি এবং স্যার ইংরেজিতে বলতে বলেন। ৮১ নম্বর অনুচ্ছেদ বললাম। স্যার কিছু জায়গায় কারেকশন করে দিলেন ।
এক্সটার্নাল ২ঃ ১ম চয়েজের সাথে সাব্জেক্টের সম্পর্ক কি?
আমার সহজ স্বীকারোক্তি ছিল। কোন সম্পর্ক নাই। ৮/৯ বছর পর কাস্টমস এর সারকুলার। তাই স্মুথ প্রমোশনের কথা ভেবে ১ম চয়েজ দেয়া।
এক্সটার্নাল ২ঃ হেসে হেসেই বললেন চাকরী শুরু না করতেই প্রমোশনের চিন্তা করা শুরু করে দিছ।
চেয়ারম্যান স্যারঃ আমাদের সময় এসব বুদ্ধি দেয়ার মত কেউ ছিল না। এখনকার ছেলে মেয়েরা খুব এডভান্সড।
এক্সটার্নাল ২ঃ ওইটা বুঝলাম, পুলিশ কেন ২য় তাহলে?
আমি ক্যাডেট কলেজে পড়ায় ইউনিফর্ম এর প্রতি ফ্যাসিনেশন এর কথা বললাম।
চেয়ারম্যান স্যারঃ তাহলে ডিফেন্স এ যাও নাই কেন?
আমি একবার ট্রাই করছিলাম। সেটা বললাম।
চেয়ারম্যান স্যারঃ পরে আর ট্রাই কর নাই?
পরেরবার জয়েন করলে ব্যাচমেট থেকে জুনিয়র হয়ে যেতাম সেজন্য আর ট্রাই করি নি।
এটা বলার পর চেয়ারম্যান স্যার বললেন 'এটা ঠিক বলছ।'
এটা বলে চেয়ারম্যান স্যার আমার কাগজপত্র দেখছিলেন।
এক্সটার্নাল ২ঃ এসডিজি কি? এমডিজি কি? ডিফারেন্স কি ২ টায়? যেখানে জব করি এখন সেখানে এসডিজির কোন কোন লক্ষ্য স্যাটিসফাই করে?
প্রশ্ন কমন। আমি এক নিঃশ্বাসে সব বললাম। এক্সটার্নাল স্যার উত্তরে সন্তুষ্ট ছিলেন।
এক্সটার্নাল ২ঃ মাস্ক খুল একটু চেহারা দেখি মিল আছে কি না।
মাস্ক খুললাম এবং চেহারায় মিল পাওয়ায় বললেন ঠিক আছে ভাইভা নেয়া শেষ।
পুলিশ ভেরিফিকেশন ফর্মে রেফারেন্স এ একজনের নাম (বিসিএস এডমিন) দেখে চেয়ারম্যান স্যার বললেন উনি তোমার কি হয়?
আমি বললাম ।স্যার এক্সটার্নাল স্যারের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বিদায় দিলেন। সালাম দিয়ে বের হয়ে আসলাম।
১ম বিসিএস ছিল ৩৮ তম। ভাইভা খারাপ হওয়ায় ক্যাডার হওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। আল্লাহর অশেষ রহমতে ৩৮ হতে (নন ক্যাডারে) শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে আছি।
২য় এবং শেষ বিসিএস হল ৪০ তম (৪১ এ রিটেনে এটেন্ড করিনি)। যদিও ২০২৩ সাল পর্যন্ত বয়স আছে, চাকরি পরীক্ষাকে বিদায় বলে দিলাম।
সকলের দোয়াপ্রার্থী।
Comments
Post a Comment