রাশিয়া এবং ইউক্রেন - Saifur Rahman Rubel
গত কয়েকদিন ধরে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্য সবচেয়ে স্পষ্টকাতর সিদ্ধান্তগুলো এসেছে। এটার পিছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভালদিমির জেলেনস্কি সবচেয়ে বেশী ভূমিকা পালন করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্টের পুতুল প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে যেভাবে NATO সদস্যপদ পাওয়ার জন্য বক্তব্য দিলেন অভূতপূর্বভাবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভালাদিমির পুতিন কে কূটনৈতিক আলোচনা বাদ দিয়ে সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে।
মি.জেলেনস্কি মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে উল্লেখ করেন, NATO সদস্যপদ পাওয়া আর ইউক্রেনীয়দের সার্বভৌমত্ব রক্ষার একমাত্র বিক্লপ হতে পারে। ইউক্রেন কখনো NATO সদস্যপদ পাওয়ার ইচ্ছা ত্যাগ করবে না। অথচ রাশিয়ার সবচেয়ে বড় দাবী ছিলো, ইউক্রেনকে যাতে কখনো NATO সদস্যপদ দেয়া না হয়। এই যাত্রায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট, পাপেট জেলেনস্কি কে দিয়ে ইউক্রেনের NATO সদস্যপদ পাওয়ার আশা ব্যক্ত করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট যুদ্ধের মাঠে রাশিয়া এবং ইউক্রেনকে নামানোর কাজটা অত্যন্ত সুচতুরভাবে সেরেপেলেছেন।এরপর রুশ প্রেসিডেন্ট কূটনৈতিক ভাষা ত্যাগ তরে অস্ত্র কে বেঁচে নিলেন। ফলশ্রুতিতে, লুহানস্ক এবং দোনেস্ক অঞ্চলকে প্রেসিডেন্ট পুতিন স্বাধীনতা ঘোষণা করে ডিগ্রি জারি করেন এবং সৈন্য পাঠানোর নির্দেশ দেন। ইউক্রেনের সাথে সর্বাত্মক যুদ্ধের অন্তিম পর্যায়ে রয়েছে রাশিয়া। এমনকি, কিয়েভ থেকে রাশিয়ার সকল কূটনৈতিক কে ফিরে নিয়ে আসার ঘোষণা দেয় মস্কো। এর ফলে, কূটনৈতিক চ্যানেলের সরাসরি আলোচনার পথ কার্যত অচল।
রাশিয়া এত দিন অপেক্ষা করেছিলো জার্মানির সাথে সম্পাদিত ১০ বিলিয়ন ডলারের গ্যাস পাইপ লাইন চুক্তি যার কাজ ইতিমধ্যে প্রায় ৯৮% শেষ। 'Nord Stream- 2' গ্যাস পাইপ লাইন চুক্তি নিয়ে কিন্তু আমেরিকা জার্মানি কে বাধ্য করেছে এই চুক্তির কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য। পশ্চিমারা যেভাবে রাশিয়ার অর্থনীতি কে টার্গেট করেছে এবং একেরপর এক অবরোধ দিচ্ছে তা সর্বাত্মক যুদ্ধের মাঠে ঘি ঢালছে।
সামনের দিনগুলোতে ইউক্রেন হবে ইউরোপের আফগানিস্তান। আর এই কাজটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট ভালোভাবে তৈরি করেছে পাপেট জেলেনস্কি কে দিয়ে যার খেসারত দিতে হবে ইউক্রেনের সাধারণ জনগণ এবং বিশ্ববাসীকে। যুক্তরাষ্ট, রাশিয়ার দাবীকে কোনো ভাবে গ্রহন করেনি, বিশেষ করে ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্যপদ থেকে বিরত রাখা থেকে। যখন ইউরোপিয়ানরা ন্যাটোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ;এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্টের নেতৃত্বে ন্যাটো কে আরো একবার প্রাসঙ্গিক করে তুলো ইউরোপিয়ানদের সামনে রাশিয়ার হুমকী মোকাবিলার জন্য। আমেরিকার অস্ত্র বাণিজ্যর বাজারটা আরো সম্প্রসারিত করলো যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যর নীতি নির্ধারকরা। ইতোমধ্যে অস্ত্র বিক্রি শুরু করে দিয়েছে পোল্যান্ড কাছে, ২৫০ টি আব্রাহাম ট্যাঙ্ক বিক্রির মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য কখনো শান্তির জন্য নয়, নিরাপত্তার অজুহাতে অস্ত্র বাণিজ্য আর তাদের নেতৃত্বকে স্থায়িত্ব দেয়া।
প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছিলেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙ্গন বিংশশতাব্দীর ভূ-রাজনীতির সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ছিলো। এই ভাঙ্গন কখনো রাশিয়ার ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি। রাশিয়ার উপর পশ্চিমারা পরিকল্পিতভাবে চাপিয়ে দিয়েছিলো। মি.পুতিনের ইচ্ছা সোভিয়েত ইউনিয়ন কে পুনর্জীবিত করা।
সর্বাত্মক যুদ্ধ আরম্ভ হলে,সামনের দিনগুলোতে ভোগপণ্যর বাজারে অস্থিরতা অনেক বেশি বেড়ে যাবে। বিশেষকরে, তৈল, গ্যাস আর গমের মূল্য বৃদ্ধি পাবে অনেক বেশী পরিমাণ যার সবচেয়ে খারাপ প্রভাব পড়বে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে।
© Saifur Rahman Rubel CU
Comments
Post a Comment