রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত - Jonayed Hossain
একেবারে অল্প কথায় বললে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের মূল বিষয় 'ন্যাটো'
ন্যাটো (NATO- North Atlantic Treaty Organisation) হলো ৩০ টি দেশের একটা সামরিক জোট যা ১৯৪৯ সালে গঠিত হয়। এর নেতৃত্বে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আরো সহজ করে বললে ন্যাটো হলো আমেরিকার নেতৃত্বাধীন ৩০ টি দেশের একটি জোট যারা একত্রে মিলে কমন শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে!
ইরাকে আমেরিকা মূলত যুদ্ধ করলেও সেখানে ন্যাটোর অন্যান্য সদস্যরা যেমন, ব্রিটেন, কানাডা ইত্যাদি দেশও কিন্তু সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। ন্যাটোতে পারমাণবিক শক্তিধর আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স ছাড়াও অর্থনৈতিক পরাশক্তি জার্মানি, স্পেন, ইতালি, কানাডা রয়েছে। সবগুলো দেশের সামরিক শক্তি একসাথে নিলে হয় ন্যাটো। বুঝতেছেন? এখানেই সমস্যাটা।
আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সাবেক পুঁজিবাদী ব্লকের শক্তি ন্যাটো, অন্যদিকে সমাজতান্ত্রিক ব্লকের হাতে এরকম কোন শক্তি আপাতত নেই (সোভিয়েত ইউনিয়ন এর নেতৃত্বাধীন ওয়ারশ চুক্তি ছিল যা ১৯৯১ সালে বিলুপ্ত হয়)। চায়না এবং রাশিয়া আলাদাভাবে শক্তিশালী রাষ্ট্র হলেও সামরিক কোন জোটে তারা সরাসরি নেই এবং দুই দেশের সরাসরি স্বার্থ এক এবং অভিন্ন নয়।
এদিকে সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্র বুলগেরিয়া, এস্তোনিয়া, লাটবিয়া, লিথুনিয়া, রোমানিয়া এবং স্লোভাকিয়া ইতোমধ্যে ন্যাটোর সদস্য হয়ে গেছে! ২০১৪ সালে ইউক্রেনের রুশপন্থী প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইউকোনোভিচ এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর ইউক্রেন চালাচ্ছে মার্কিনপন্থী সরকার। তারাও চাচ্ছে ন্যাটো জোটে যোগ দিতে। রাশিয়ার আপত্তি হলো ইউক্রেন যদি ন্যাটো জোটে যোগ দেয়, তাহলে রাশিয়ার সীমানায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছে যাবে এবং আসলেই পৌঁছে যাবে। (রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তের দৈর্ঘ্য দীর্ঘ ২২৯৫ কিলোমিটার!) এতে রাশিয়ার শক্তি নিশ্চিতভাবেই হ্রাস পাবে এবং নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।
এই সংকটকে কিউবার ক্ষেপনাস্ত্র সংকটের সাথে তুলনা করা যায়। ১৯৬২ সালে রাশিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৯০ কিলোমিটার দূরে কিউবায় পারমাণবিক অস্ত্রবাহী ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বহু দেনদরবারের মাধ্যমে রাশিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে নেয়। রাশিয়ার যুক্তি হলো, ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্য হলে ইউক্রেনের মাটি ব্যবহার করে ন্যাটো বা আমেরিকা রাশিয়ার বিরুদ্ধে যেকোনো ব্যবস্থা সহজেই নিতে পারবে, তখন রাশিয়ার কিছু করার থাকবে না। তাই যেকোনো মূল্যে ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যোগ দিতে দেওয়া হবে না।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। রাশিয়া অনেক বড় দেশ হলেও এর বেশিরভাগ সীমান্ত বরফে আচ্ছাদিত। কৃষ্ণসাগরে প্রবেশ, ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ বা ইউরোপের সাথে বাণিজ্য সবকিছুর জন্য রাশিয়ার কাছে ইউক্রেন হলো অত্যাবশ্যকীয় একটি দেশ। রাশিয়া নিশ্চিতভাবেই চাইবে না সেখানে পশ্চিমাপন্থী কোন সরকার থাকুক, আর সে সবসময় টেনশনে থাকুক। সুতরাং সে নিজের পছন্দের কাউকে বসাবেই।
যুদ্ধ খুব কঠিন একটি বিষয়। এর পরিণাম আসলেই ভয়াবহ। এই যুদ্ধ হয়তো পৃথিবীর ইতিহাস পাল্টে দিবে। তবে সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হবে সাধারণত মানুষ! 😢
যুদ্ধ ক্ষণস্থায়ী হোক, শান্তি নেমে আসুক ধরণীতে..
©
Jonayed Hossain
Comments
Post a Comment