ভলদেমির জেলেনস্কি
ভলদেমির জেলেনস্কি
ছবিতে দৃশ্যমান ব্যক্তিটি ভলাদেমির জেলেনস্কি, ইউক্রেনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট । মজার ব্যাপার হলো ওনার এই মূহুর্তের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ এবং ওনার নাম একই। শুধু উচ্চারণ গত পার্থক্যের জন্য রাশিয়ান আর ইউক্রেনীয়ান ভাষার হিসাবে স্পেলিং এলাদা।
রাশিয়ান ভাষায় যেটা ভ্লাদিমির ( পুটিনের ফাস্ট নেম) সেটাই ইউক্রেনীয়ান ভাষায় হয়ে গেছে ভলদেমির। অনেকটা হিন্দি উচ্চারণ "হেমনত কুমার" আর বাংলা উচ্চারণ "হেমোন্তো কুমার" এর মত।
যাই হোক, ২০১৯, উনি যে বছর প্রেসিডেন্ট হলেন, তার আগের বছর পর্যন্ত রাজনীতির সাথে ওনার সরাসরি কোনো যোগাযোগই ছিল না ! অবাক হলেন তো ? ইউক্রেনের বর্তমান প্রেসিডেন্টের প্রথম পরিচয় উনি একজন পপুলার অভিনেতা, সেরা স্ট্যান্ডাপ কমেডিয়ান।
তখন ২০১৪, ইউক্রেনের জাতীয় টেলিভিশনে "সারভেন্ট অফ দা পিপল" নামে একটি ধারাবাহিক শুরু হয় । ধারাবাহিকের কাহিনির থিম অনেকটা অনিল কাপুরের হিন্দি ছবি "নায়ক" অথবা বাংলা "MLA ফাটাকেষ্ট"-এর মত । তার মূখ্য চরিত্রে অভিনয় করেন জেলেনস্কি । অসম্ভব জনপ্রিয় হয় ধারাবাহিক এবং লোকপ্রিয় হন জেলেনস্কি । ২০১৯ পর্যন্ত চলে ধারাবাহিকটি । ইউক্রেনের মানুষের বিশ্বাস জন্মাতে শুরু করে, পর্দার মানুষটি বাস্তবেও তাদের প্রেসিডেন্ট হবার যোগ্য এবং উনিই তাদের সমস্ত সমস্যা মিটিয়ে ফেলতে পারবেন ।
এরপর জেলেনস্কির জীবনের গতিপথ নতুন খাতে বইতে শুরু করে । ২০১৯ সালে প্রবল জনমতের দাবিতে জেলেনস্কি নির্বাচনে দাঁড়াতে রাজি হন । নতুন দলও গঠন করেন, নামটাও দেন টিভি সিরিয়ালের নামেই " Survent of The People" । এদিকে ইউক্রেনের জনগন নতুন দিনের স্বপ্নে বুঁদ হয়ে ছিলেন । নির্বাচনে জিততে জেলেনস্কির কোনো সমস্যাই হল না । কয়েকমাসের মধ্যে একজন কমেডিয়ান ভাগ্যের কৃপায় ও ইউক্রেনবাসীর পাগলামীতে হয়ে বসলেন সেদেশের প্রেসিডেন্ট !
তার না ছিল রাজনৈতিক জ্ঞান, না ছিল দেশ চালানোর মত পোড় খাওয়া মানসিকতা । মানে এই ধরুন সোনু সুদকে ধরে আপনারা দেশের প্রধানমন্ত্রী করে দিতে চাইলেন, কারন উনি বেশ জন হিতকর কাজ করেছেন। ব্যাপার খানা ওই রকমই খানিকটা!!
আজ এই যুদ্ধের পরিমন্ডলে ইউক্রেনবাসী সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনবোধ করছে একজন বলিষ্ঠ দেশনায়কের । ইউক্রেনবাসী আজ নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে আবেগ দিয়ে দেশ চালানো যায় না, দেশ চালাতে দরকার এক শক্তিশালী নেতার ।
২০২১ সম্ভবত ওনার উত্থানের প্লট থেকেই একটা ফেমাস কোরিয়ান সিরিজ "ডেভিল জাজ" নির্মিত হয়েছিল। একজন স্ট্যান্ডাপ কমেডিয়ান জনপ্রিয়তা অর্জন করে ওই ভাবে একটা স্যোশাল ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট গঠন করে (ধরুন ওই সোনু সুদ ফাউন্ডেশনের মতন) , আর জনগণকে মিথ্যা দেখায় যে কতটা সমাজকে কতটা সেবা করছে!! আর শেষ পরিনতি নেমে আসে কোরিয়ায় জরুরী অবস্থা জারী করে সব ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে আর অসংলগ্ন সিদ্ধান্ত নেওয়াতে।
এই জিনিস গুলো যেকোনো দেশের জনগণের কাছেই শিক্ষনীয়। উনি আবেগে ভেসে রাশিয়ার বিরোধিতা করতে গিয়ে নিজের দেশের মানুষকে ক্রীতদাস বানিয়ে ছাড়লেন। যে দেশের রাজধানী দুদিনে পতন হয়, সেখানে উনি আর যাই হোক, কিছু সাম্ভাব্য বিদেশি সাহায্যের আশায় এই ভাবে দেশের স্বাধীনতাকে বিপদে না ফেলতেই পারতেন।
অনেকটা কেরানীর চাকরি করা আমাদের মতন সাধারণ মানুষের পাড়ার কুস্তীগির হোতকা দার কথায় ভরসা রেখে গ্রেট খালিকে কুস্তিতে চ্যালেঞ্জ দেওয়ার মতনই। পরিনতি চোখের সামনেই!!
(সংগৃহীত )
Comments
Post a Comment