জেলনস্কির মিনতি কি শুনবে তাঁর মিত্ররা....!! (ইউক্রেন)

#জেলনস্কির মিনতি কি শুনবে তাঁর মিত্ররা....!!
✍️ ব্রিটিশ গোয়েন্দা তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ইউক্রেনে ৮০টির বেশি হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। মস্কো দাবি করছে, বৃহস্পতিবার সেনা অভিযানে ইউক্রেনের অন্তত ৭৪ টি সামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, দেশজুড়েই রাশিয়ার হামলা শুরু হয়েছে।যা ইউক্রেন সেনারা প্রতিহত করতে প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
✍️ অপরদিকে জেলনস্কির অনুরোধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন  তার মিত্র রাষ্ট্রগুলো কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মস্কোর উপর। জনাব বাইডেন বলেন, আমেরিকায় রাশিয়ার  ১ ট্রিলিয়ন সমমূল্যের সম্পদ ও অর্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি জব্দ করবে। তবে আবারো একটি বিষয় তিনি পরিষ্কার করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কোন সামরিক পদক্ষেপ নিবেনা। "আমি এবং আমার স্ত্রী ইউক্রেনের জন্য সারারাত প্রার্থনা করব, বলেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।" তাঁর প্রার্থনায় যেনো ইউক্রেনবাসী রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকাতে পারবে.....!! 
✍️ এদিকে রুশ-বাহিনী ইউক্রেনের চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দখলসহ দখলে নিয়েছে আরো অন্যান্য সামরিক ঘাঁটি যা অকপটে স্বীকার করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলনস্কি। জেলনস্কি বলেন, "এ যুদ্ধ পুরো  ইউরোপে ছড়িয়ে  পড়বে। তাই ইউরোপ দেশগুলোর বিশেষত ন্যাটো রাষ্ট্রগুলোর উচিত হবে রাশিয়ার এই অনৈতিক আগ্রাসনকে সময় থাকতে প্রতিহত করা"।
✍️ প্রেসিডেন্ট জেলনস্কি এক টুইট বার্তায় জানান, তিনি এ যুদ্ধ বন্ধের জন্য রুশ ফেডারেশন সভাপতির দপ্তরে ফোন করলে সেদিক থেকে 'নীরবতা' ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। এমতাবস্থায়, নিরুপায় জেলনস্কি তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানকে জরুরী ভিত্তিতে ফোন করে তুরস্কের আকাশসীমা রুশ বিমান বাহিনীর জন্য বন্ধ করতে অনুরোধ জানান। এছাড়াও তুরস্কের বসফরাস ও দার্দানেলিস প্রণালি দুটি দিয়ে সব ধরনের রুশ যুদ্ধ-জাহাজ চলাচল বন্ধ করারও আহ্বান জানান ইউক্রেন।
✍️ ইউক্রেনের মতে, মন্ট্রেক্স  চুক্তি অনুযায়ী তুরস্ক এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য। তুরস্ক অবশ্য তার এই সিদ্ধান্ত জানায় নি; খুব শীঘ্রই জানাবে বলে জানিয়েছে। এদিকে তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান জরুরী ভিত্তিতে দেশটির নিরাপত্তা কাউন্সিলের জরুরী বৈঠক ডেকেছেন পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করার জন্য।
✍️ প্রকৃত অর্থে, প্রেসিডেন্ট জেলনস্কির প্রতিটি বিবৃতিতে মিত্রহীনতার  সাক্ষী হচ্ছে বিশ্ববাসী। বোঝাই যাচ্ছে, তার পশ্চিমা মিত্ররা তাঁকে যুদ্ধে ঠেলে দিয়ে এখন লেজ গুটিয়ে নিয়েছে। যদিওবা পশ্চিমাদের আসল চরিত্র এটিই। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে,পশ্চিমারা কারো প্রকৃত বন্ধু হতে পারেনা।
✍️ স্মরণ করুন, ২০০৩ সালের ১৯ মার্চের কথা। সেদিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও পোল্যান্ডের সম্মিলিত বাহিনী ইরাকে সামরিক আগ্রাসন চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ও যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের ভাষ্যনুযায়ী, তাদের লক্ষ্য- ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র ধ্বংস করা, সাদ্দামের সন্ত্রাসের প্রতি সহযোগিতা শেষ করা এবং ইরাকি জনগণকে মুক্ত করা। রক্তক্ষয়ী এই সামরিক আগ্রাসনের স্থায়িত্ব ছিল একমাস।
✍️ 'French academic dominique reynie' এর হিসেব অনুযায়ী ২০০৩ সালের ৩ জানুয়ারি হতে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্বের নানা প্রান্তের সর্বমোট ৩ কোটি ৬০ লক্ষ লোক ইরাকের উপর সম্ভাব্য আক্রমণের প্রতিবাদস্বরূপ সর্বমোট ৩০০০ বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করে। সেদিন ইঙ্গো-মার্কিন হামলা কি থেমে ছিল..!! না,থামেনি।একটি ঐতিহ্যবাহী ইরাকি জাতিকে ধ্বংস করে দিল। লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ গেল। পরবর্তীকালে ওবামা প্রশাসন স্বীকার করতে বাধ্য হলো  সিআইএ'র ভুল তথ্যের কারণে ধ্বংস করা হয়েছিল ইরাককে। আজো ইরাকি জাতি উঠে দাঁড়াতে পারেনি। প্রাণ গেল লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষের। বলুনতো, এই দায়ভার কার...?? নিশ্চয়ই আমেরিকা ও তার মিত্রদের। আমি এমনটি বিশ্বাস করি। 
✍️ নিরপেক্ষভাবে বললে, পুতিন সেই একই পথে হেঁটেছেন। মি. পুতিনও দাবি করেছে ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্য হলে তা হবে রাশিয়ার জন্য বিরাট হুমকি...!!কেবল ইউক্রেন নয়, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভুক্ত সকল সদস্য রাষ্ট্রেও যদি এই অযুহাতে হামলা চালায় এবং জবরদখল করে, পুতিনকে আটকানোর ক্ষমতা কারো নেই। এটাইতো বলছে বর্তমানে চলমান আগ্রাসন। নয় কি.....?? 
✍️ আমার পূর্বের আর্টিকেলে বলেছিলাম, চীন-রাশিয়ার পাশে দিব্যি দাঁড়িয়ে থাকবে। তার কারণও আছে। চীনের নজর হংকং/ তাইওয়ানের দিকেসহ আরো অনেকের দিকেই। এটা শুধু সময়ের অপেক্ষা; বিশ্ববাসী হয়তো ২০২২'র মধ্যে এমন জবরদখল খেলার নিষ্ক্রিয় দর্শক হবে। যদিওবা এহেন জবরদখল খেলার প্রতিপক্ষ হতে পারে বাংলাদেশের মতো ক্ষুদ্র রাষ্ট্রও। মায়ানমারের পুরনো আকাঙ্ক্ষা আমাদের দরবেশ মতিনের দ্বীপকে(সেন্টমার্টিন) দখলে নেয়া। যা মোটেও কাম্য নয়। সে বিষয়ে অন্যদিন লিখবো।
✍️ কারো মানতে কষ্ট হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অসহায়ত্বের প্রমাণ মিলেছে মি.বাইডেন ও তাঁর স্ত্রীর সারারাত ইউক্রেনের জন্য প্রার্থনা করবেন- এমন বিবৃতি থেকে। হাঁস্যকর মনে হলেও এটি সত্যি যে, বাইডেনের এমন মশকরা বিবৃতি মনে হচ্ছে- যেন তিনি ভ্যাটিকান পোপের দায়িত্ব নিয়েছেন। এ বিবৃতিতে জেলনস্কি সহজে নেননি, তা সহজেই অনুমেয়। বরিস জনসনেরাও হয়ত এই বক্তব্যে নিশ্চয় চুপিসাড়ে হেঁসেছেন।
✍️ এটা সত্য যে, জবরদখল হামলায়  'জাতিসংঘ সনদের ৫১ নং অনুচ্ছেদে' বলা 'আত্মরক্ষার্থে আগাম ব্যবস্থা হিসেবে হামলা করা হয়েছে' দাবি করলেও এটি ইউএন সনদের ২(৪) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বরাবরই অন্যায় আগ্রাসন চালানো। অনুচ্ছেদটিতে  বলা হয়েছে, "সকল সদস্য হুমকি থেকে বা কোনও রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বা জাতিসংঘের উদ্দেশ্যগুলির সাথে সঙ্গতিহীন অন্যকোন উপায়ে হুমকি বা ব্যবহারের জন্য তাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্কগুলিতে বিরত থাকবে"। 
✍️ এটা অস্বীকারের উপায় নেই, পুতিনের আগ্রাসী আচরণের পূর্বসূরী- 'মার্কিন ও তার মিত্ররা'। যা কোন স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য গ্রহণযোগ্য পন্থা নয়। প্রকৃত অর্থে, বিশ্বরাজনীতি আবেগ দিয়ে চলেনা, যদি চলত যখন ১৫ লাখ রোহিঙ্গাদের উপর মায়ানমার জান্তা-সরকার গণহত্যা চালিয়েছিল তখন সকল দেশই মায়ানমারের সাথে সবধরণের সম্পর্ক ছিন্ন করত। আল-জাজিরার মতে, ১ কোটি ২০ লাখ ডলারের বিনিময়ে গণহত্যা চালানো জান্তা সরকার এখনো ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারত না।  এই অর্থ পরিশোধ করা কয়েকটা কোম্পানির (ভারত,চীন, রাশিয়া) ওপর নিষেধাজ্ঞা আসত। এসেছে...??  
কই, নাতো। 
✍️ চীন যখন উইঘুর মুসলিমদের ওপর নির্যাতন চালায় তখন যুক্তরাষ্ট্র একে গণহত্যা বলে চালিয়ে দেয়। ইহুদিদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল যখন নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালায় তখন যুক্তরাষ্ট্র এটিকে ইসরাইলের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলন বলে আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে প্রচার করে।
✍️ পরিশেষে বলব,  প্রতিটি রাষ্ট্র তার নিজস্বার্থে অন্য দেশের কোন অপরাধ যজ্ঞের বিরোধিতা বা পক্ষপাতিত্ব করে। হোক রাশিয়া, হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা। সকলই একই স্বার্থন্বেষী গ্রুপ। এক কথায়, 'জোর যার, মুল্লুক তার '।
✍️ Sayed Salauddin

Comments

Popular posts from this blog

জিরো কুপন বন্ড কী? এইটা কিভাবে কাজ করে?

ব্যাংক ভাইবা - মোঃ ইউসুফ আলী

১ম বিসিএস ভাইভা অভিজ্ঞতা-- আল-আমিন আহমেদ