"America has no permanent friends or enemies, only interest." -- Henry Kissinger

"America has no permanent friends or enemies, only interest."
-- Henry Kissinger
আমেরিকার কোন স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু নেই, কেবল স্বার্থ রয়েছে। 
এই কথাটা শুধু আমেরিকার ক্ষেত্রে না, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সব দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। 
কিছু উদাহরণ দিলে বুঝবেন। ইতোমধ্যে জানেন এই যুদ্ধাবস্থার মধ্যেও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান রাশিয়ায়। পাকিস্তান বরাবরই চীনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও তুলনামূলক ভালো সম্পর্ক রেখে চলছিল এবং একটা সময় চীন-আমেরিকা সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে পাকিস্তান।
১৯৭১ এ আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন স্বার্থ এবং চায়না স্বার্থ মিলে গিয়েছিল। তাই দুটি দেশ পাকিস্তানের পক্ষ নেয়। মার্কিন স্বার্থ ছিল ভারত সোভিয়েত ঘেঁষা, তাই বাংলাদেশ-ভারতের জয় হলে সমাজতান্ত্রিক শক্তি বৃদ্ধি পাবে এ অঞ্চলে। আর চায়না স্বার্থ হলো, ভারতের সাথে চীনের সরাসরি বহু অমিমাংসিত ইস্যু আছে। সেক্ষেত্রে ভারতের প্রভাব এ অঞ্চলে বাড়লে চীনের স্বার্থহানি ঘটবে।
অন্যদিকে রাশিয়া চেয়েছে ভারত তথা বাংলাদেশের বিজয় হলে মার্কিনিরা এখানে ঢুকতে পারবে না সহজে ফলে সমাজতান্ত্রিক বলয় বাড়বে এ অঞ্চলে। যদিও পরবর্তীতে বাংলাদেশ-ভারত জোট নিরপেক্ষ ব্লকে থেকেছে। 
তাহলে এখন কী হয়েছে যে পাকিস্তান রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ হতে চাচ্ছে?
গত কিছুদিন আগে বাংলাদেশের কোয়াড এ যোগ দেওয়া, না দেওয়া নিয়ে খুব আলোচনা হচ্ছিল। কোয়াড (QUAD- The Quadrilateral Security Dialogue) হলো নতুন একটি সামরিক জোট। চীনের অভ্যাহত অগ্রগতি রোধে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভারত, অস্ট্রেলিয়া মিলে কোয়াড গঠন করে। এটাও ন্যাটোর মতো কাজ করবে। যুক্তরাষ্ট্র চাচ্ছে বাংলাদেশ এখানে যোগ দিক, চীন চাচ্ছে না, এই নিয়ে অনেক দর কষাকষি এখনো চলমান। 
আবার ভারত যেহেতু কোয়াডের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, তাই এখানেও এই কোয়াড চীন,পাকিস্তানকে রাশিয়ার কাছে নিয়ে গিয়েছে! 
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অক্ষশক্তি ছিল জার্মানি, ইতালি ও জাপান আর তাদের বিরুদ্ধে মিত্রশক্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, রাশিয়া, ফ্রান্স, পোল্যান্ডসহ আরো কিছু দেশ। হিটলারের আত্মহনন, মুসেলিনির হত্যা এবং হিরোশিমা-নাগাসাকির পতনের পর শুরু হয় জয়ী শক্তি বা মিত্রশক্তির মেরুকরণ। সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন বনাম পুঁজিবাদী যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স। 
হিটলার ছিল সবার কমন শত্রু, সেজন্য রুজভেল্ট (মার্কিন প্রেসিডেন্ট), চার্চিল (ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর), স্ট্যালিন (সোভিয়েত জার) এক টেবিলে বসে গিয়েছিলেন; পরে আবার স্বার্থ আলাদা হয়ে যাওয়ায় রুজভেল্ট- চার্চিলের শত্রু হয়ে যান স্ট্যালিন! 
এটা নিকট অতীতে তুরস্কের ক্ষেত্রেও দেখেছে বিশ্ব। রিসেপ তাইয়েফ এরদোগানের সাথে পুতিনের সম্পর্ক ছিল সাফে-নেউলে। অন্যদিকে ন্যাটো সদস্য তুরস্ক ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ। উপরে ঘনিষ্ঠ হলেও ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র এরদোগানের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানকারীদের মদদ দিয়েছিল বলা হয়। এই সুযোগটা নিয়েছিল পুতিন। বিপদের দিনে এরদোগানের পাশে দাঁড়িয়ে হয়ে গেলেন তুরস্কের ভরসার জায়গা, ঘনিষ্ঠ মিত্র! 
আন্তর্জাতিক রাজনীতি বড়ই বিচিত্র! সবই স্বার্থ! ভয়ঙ্কর সব গেম চলে ভিতরে-বাহিরে!
হ্যাপি লার্নিং 🙂
© 
Jonayed Hossain

Comments

Popular posts from this blog

জিরো কুপন বন্ড কী? এইটা কিভাবে কাজ করে?

ব্যাংক ভাইবা - মোঃ ইউসুফ আলী

১ম বিসিএস ভাইভা অভিজ্ঞতা-- আল-আমিন আহমেদ