ঋণখেলাপি সংস্কৃতি, নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা ও ব্যবসার পরিবেশ - Nephilim Resheph

 ব্যাংক, ব্যাংকের ব্যবসা, মালিক, ব্যাংকার ও পরিচালকদের সম্পর্কে অনেক কথা শুনেছি। কিন্তু কিছুদিন আগে যা শুনলাম তার জবাব খুঁজতে হবে। ঋণখেলাপ, অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, সরকারের পুঁজি সরবরাহ, পরিচালকদের দুর্নীতি বা অনিয়ম ইত্যাদিই সচরাচর আলোচনার ও লেখার বিষয়বস্তু। প্রকৃতই এসব জনপ্রিয় বিষয়। কিন্তু বাইরেও একটা ধারণা কাজ করছে, যা নিজ কানে না শুনলে বিশ্বাস করতাম না। ঘটনাটা একটা রেস্টুরেন্টের। প্রায় দেড় বছর ঘর থেকে বের হইনি। বহুলোকের মতো আমারও ছিল বন্দিজীবন। ইদানীং বের হই, তবে খুবই কম। বিশেষ প্রয়োজন না হলে একদম বের হই না। হঠাৎ করে একদিন মনে হলো বহুদিন চাইনিজ রেস্তোরাঁয় ‘স্যুপ’ খাই না। যাই চুপচাপ খেয়ে আসি। একটা টেবিলে আমি একা।

‘ওয়েটার’ পরিচিত। ও আমাকে একটা খবরের কাগজ দিল। যা যা ভালো লাগে তা পড়তে লাগলাম। ইত্যবসরে পাশের টেবিলে একসঙ্গে চার-পাঁচজন যুবক এসে বসে। বয়স ৩০-৪০-এর মধ্যেই মনে হলো। বোঝা যাচ্ছে ধনাঢ্য পরিবারের ছেলে। তারা জোরে জোরে কথা বলছে। এতে অসুবিধে নেই। লোকজন কম। আর আমি কান পেতে শুনছি তাদের মজার মজার কথা। বিচিত্র তাদের বিষয়। ব্যাংকের ব্যবসা থেকে আমদানি ব্যবসা। চীনের কথা বলছে একজন। চীনে পণ্যের দাম বেড়েছে। অনেক কলকারখানা বন্ধ। এর সুযোগ নিচ্ছেন অন্য ব্যবসায়ীরা। দাম দিচ্ছেন বাড়িয়ে। এদিকে জাহাজ ভাড়া দেড় গুণের বেশি, তাও জাহাজে জায়গা পাওয়া যায় না। এসবের সঙ্গে বলছে তারা চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থা। কথাবার্তায় বুঝলাম এরা হয় সবাই, নয়তো এদের কেউ কেউ ব্যবসা করে, আমদানি ব্যবসা করে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে তাদের ব্যবসা আছে। বলছে সেখানকার দক্ষিণ দিকের শহরগুলোতে বাংলাদেশীদের যাতায়াত বেশি। অনেক বাংলাদেশীর চীনাদের সঙ্গে যৌথ ব্যবসাও আছে। এসব কথা শোনা কথা, মানে আমি শুনছি অত্যন্ত উৎসাহ ভরে। ব্যবসা করতে গিয়ে কী কী সমস্যা হচ্ছে তার আলোচনাও আছে, সমালোচনাও আছে। ভারতের সঙ্গে ব্যবসা করতে চেয়েছিল, কিন্তু হয়ে ওঠেনি। কারণ ভারত থেকে চীনারা ব্যবসার সুযোগ দেয় বেশি। ভারতে লেনদেনে বড় কড়াকড়ি। তার পরও ব্যবসা হয়। তবে এখন আমদানি ব্যবসা চীনের সঙ্গেই বেশি। কথায় কথায় তারা বলছে, প্রশংসা করছে চীনের অবকাঠামো উন্নয়নের। রাস্তাঘাট, হোটেল-মোটেল, বিমানবন্দর তকতকে ঝকঝকে। এসব ক্ষেত্রে ভারত অনেক পিছিয়ে। এসব বলতে বলতেই একজন বলল আমাদের ব্যাংকগুলোর কথা। এ বিষয়ে দেখলাম, তাদের মন্তব্যের কোনো অভাব নেই। বলল ব্যাংকের প্রথম শ্রেণীর গ্রাহক কারা। ‘প্রথম শ্রেণীর’ গ্রাহক হচ্ছে তারা যারা আসল (প্রিন্সিপাল) ও সুদ (ইন্টারেস্ট) কোনোটাই ফেরত দেয় না অথচ ‘আউটস্ট্যান্ডিং’ বাড়িয়েই চলে। কথাটা আমার কানে ভীষণভাবে বাজল।

বলে কী তরুণ ছেলেরা, যারা দৃশ্যতই নতুন ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা না হয় প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের দ্বিতীয় প্রজন্ম। ‘প্রথম শ্রেণীর’ গ্রাহক কারা শুনলাম। তাহলে ‘দ্বিতীয় শ্রেণীর’ গ্রাহক কে? দ্বিতীয় শ্রেণীর গ্রাহক হচ্ছে সেই গ্রাহকরা যারা ‘প্রিন্সিপালের’ টাকা ফেরত দেয়, সুদের টাকার কিছু কিছু। তাদের কথোপকথনের বিষয়বস্তু আমার ভাষায় তুলে ধরছি এখানে। ততক্ষণে আমার ‘স্যুপ’ এসে গেছে। মনে হলো শুধু ‘স্যুপ’ খেয়ে চলে এলে তাদের ‘বাক্যবাণের’ সবটা শোনা হবে না। তাই ধীরে চলার নীতি গ্রহণ করলাম। আগ্রহের মধ্যে রইলাম জানার জন্য কারা তাহলে ‘তৃতীয় শ্রেণীর’ গ্রাহক? ‘তৃতীয় শ্রেণীর’ গ্রাহক—তরুণদের মতে—তারাই যারা ‘প্রিন্সিপাল’ (আসল) ও ‘সুদের’ (ইন্টারেস্ট) টাকা ব্যাংককে পরিশোধ করে। এদের ‘গ্রাহক শ্রেণীবিন্যাসের’ সম্পূর্ণ উল্টো অবস্থানের কথা শুনে আমি চিন্তার ক্ষেত্রে অনেকটা চোট খেলাম। তরুণদের মনে এ ধারণার সৃষ্টি হলো কীভাবে? বাস্তবের সঙ্গে কি তাদের অভিজ্ঞতার কোনো মিল আছে? উদ্যোক্তারা এমন ধারণা নিয়ে শুরু করলে ব্যাংক ব্যবসার ভবিষ্যৎ কী? আমাদের দেশের বড় বড় গ্রাহকের ঋণ পরিশোধসম্পর্কিত ব্যবহারই কি এ ধারণার জন্ম দিয়েছে? সাধারণভাবে ব্যাংকের ব্যবসা, ব্যাংকের অবস্থা, ঋণখেলাপ সমস্যা নিয়ে যেসব খোলামেলা আলোচনা হয় তার সাথে তরুণ ব্যবসায়ীদের ধারণার কোনো মিল পাওয়া যায় কি? অনেক প্রশ্ন। শুনি আর ভাবি। উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি।

উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ীদের এক-দেড় ঘণ্টার আলাপ-আলোচনা থেকে যা পেয়েছি তাকে একটু সম্প্রসারিত করলে যা দাঁড়ায় তা নিম্নরূপ। ব্যাংকের ব্যবসা আমানত গ্রহণ ও ঋণ প্রদান। আমানত রাখতে এবং তুলতে যেমন ঝামেলা, তেমনি ঋণ পেতেও বহু সংগ্রাম করতে হয়। আমানতের হিসাব খোলা দুঃসাধ্য কাজ। আর টাকা জমা দিতে গেলেও প্রশ্ন, তুলতে গেলেও প্রশ্ন। যেন সব টাকা ‘কালো টাকা’। ব্যাংক পুলিশের মতো সবাইকে সন্দেহের চোখে দেখে। তবে আশার কথা এক্ষেত্রে কোনো ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা ‘ঘুষ’ খেয়েছে এমন কোনো অভিযোগ পাওয়া খুবই বিরল ঘটনা। অথচ জেনারেল ব্যাংকিং হচ্ছে ব্যাংকের সবচেয়ে বড় কাজ। বলা যায় এটি ‘ঘুষ’মুক্ত। এবার যদি ঋণের ক্ষেত্রে আসি, তাহলে বিষয়টি দাঁড়ায় এ রকম। ব্যাংক আমানত নেয়, ঋণ দেয়। আমানত তাদের কাছে বোঝা। কারণ এর ওপর সুদ দিতে হয়। এখন আমানতের টাকা কিছু অংশ রেখে বাকিটা ঋণ না দিলে ব্যাংক আমানতকারীদের কীভাবে সুদ দেবে? অতএব ঋণ তাদের দিতেই হবে।

অথচ এই ঋণ পেতেই পর্বত জয় করতে হয়। ঋণগ্রহীতা হওয়া সুকঠিন কাজ। নিজ বলে-যোগ্যতায় ঋণ পাওয়া সৌভাগ্যের ব্যাপার। এটা পেতে হলে প্রভাব খাটাতে হয়, ফোন করতে হয়, চাপ সৃষ্টি করতে হয়। একবার ঢুকতে পারলে তখন বিষয়টি আলাদা। ঋণগ্রহীতা হিসেবে প্রথম প্রথম সুবোধ বালকের মতো ব্যবহার করতে হয়। ব্যাংক জানতে চাইবে ঠিকানা কোথায়, ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন নাম্বার আছে কিনা। কী ব্যবসা কোথায় করা হয়, মর্টগেজ দেয়ার মতো ক্ষমতা বা সম্পত্তি আছে কিনা ইত্যাদি। সব সওয়াল-জওয়াবের পর উদ্যোক্তারা আটকা পড়ে অনেক ক্ষেত্রে। বিশেষ করে মর্টগেজের (বন্ধক) ক্ষেত্রে। বাংলাদেশে নতুন উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ীদের কয়জনের ‘মর্টগেজ’ দেয়ার মতো সম্পত্তি আছে? স্বাধীনতার পরপর একে ইস্যু করলে বাংলাদেশে এত বড় বড় ব্যবসায়ী হতো না। কারণ ‘মর্টগেজ’ বা ‘কোল্যাটারাল’ ছাড়া ঋণ হয় না। নানা প্রভাব খাটিয়ে, কোল্যাটারাল কিছু দিয়ে, কিছু না দিয়ে, সম্পত্তির অতিমূল্যায়ন করে, উকিলের ‘সন্তুষ্টি’ অর্জন করে শুরু করতে হয় ঋণগ্রহীতার যাত্রা। এই যাত্রায় খরচ আছে। প্রথম প্রথম অবশ্য ভালো করতে হবে। মূল টাকা শোধ করতে হবে নিয়মিত, সুদ দিতে হবে নিয়মিত।

ঋণ একটা চুক্তি। তার খেলাপ করা যাবে না। খেলাপের আবার সংজ্ঞা আছে। তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হয়। ঋণগ্রহীতার ব্যবসা চলল। সময়-সুযোগ বুঝে ঋণের সর্বোচ্চ সিলিং বাড়িয়ে নেয়া হলো। ব্যবসা বড় হলো। ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। প্রদত্ত সুদের পরিমাণ বাড়ছে। নিয়মিত তা শোধও করা হচ্ছে। ব্যাংকের আস্থা অর্জন এগিয়ে যাওয়ার পাথেয়। একবার আস্থা অর্জন করতে পারলে তারপর পেছনে তাকাতে হবে না। ঋণ অনেক প্রকারের। ক্যাশ ক্রেডিট (সিসি), ওভার ড্রাফট (ওডি), লিয়েন এলআইএম প্রজেক্ট ঋণ, ব্রিজ লোন, ট্রাস্ট রিসিট (টিআর), ঋণপত্র (এলসি) সুবিধাসহ আরো নানা ধরনের নন-ফান্ডেড সুবিধা। যতই আস্থা অর্জিত হবে ততই ঋণের পরিমাণ বাড়বে, বাড়বে ব্যবসা। এক ব্যবসা থেকে অন্য ব্যবসায় যেতে হবে। আজ গার্মেন্টস, কাল টেক্সটাইল, পড়শু চিনি, তরশু আমদানি ব্যবসা, ঢুকতে হবে আবাসনে, বিদ্যুতে, আইটিতে, হোটেল ব্যবসায়ও। ঋণ পাওয়ার জন্য যে ব্যবসা দরকার তাতেই ঢুকতে হবে। এসবের মাঝেই ঋণখেলাপি হওয়ার ট্রায়াল দিতে হবে। মাঝে মাঝে চুক্তিভঙ্গ হবে। কিছু সুদ মওকুফ হবে, কিছু সুদ প্রদান করা হবে। ঋণ পুনঃতফসিল হবে। একবার দুবার তিনবার। যতবার সম্ভব ততবার। ডাউন পেমেন্ট কমাতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলতে হবে। কারণ তারা নিয়ম বানায়, তারাই নিয়ম বদলায়, নিয়ম পরিবর্তন-পরিমার্জন করে। এই ক্ষমতাবলে তারা কার্যত ঋণ মঞ্জুরির ক্ষমতা লাভ করে ফেলেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বড় বড় ঋণের ক্ষেত্রে কার্যত ‘স্যাংকশনিং অথরিটি’। অতএব তাদের সঙ্গে যোগাযোগ নিবিড় করতে হবে। তাদের অডিট বিভাগের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। ঋণের অনিয়ম কিছু থাকলে তা যাতে রিপোর্ট না হয়। ফাঁকে এক ঋণের টাকা দিয়ে অন্য ঋণ পরিশোধ করতে হবে, নতুন ব্যাংকের ডাইরেক্টর হতে হবে। এসবে ব্যাংকই হবে সহযোগী। খাতির করতে হবে সিবিএর সঙ্গে। ততদিনে অবস্থা দাঁড়াবে এমন যখন ব্যাংক দৌড়াবে ঋণগ্রহীতার পেছনে। গ্রহীতা ঋণখেলাপি হলে ক্ষতি ব্যাংকেরই, বদনাম ব্যাংকেরই। অতএব খেলাপিকে বাঁচিয়ে রাখা ব্যাংকের দায়িত্ব হয়ে যাবে। পুনঃ তফসিলকরণের মাধ্যমে সমাধান নেই, তাই করতে হবে ঋণ পুনর্গঠন (রিকনস্ট্রাকশন)। সুদ স্থগিত হবে। আসল টাকা পরিশোধের সময় দীর্ঘায়িত করতে হবে। কিছু ঋণে সুদের হার কমাতে হবে। নতুন ঋণ দিতে হবে। নতুবা হাজার হাজার লোকের চাকরি যাবে। আমদানি-রফতানি ব্যবসা বন্ধ হবে, যা অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। উদ্যোক্তাদের কাজ হবে ব্যাংকের আস্থা অর্জন করে একের পর এক সম্প্রসারণ করে ব্যবসা বাড়ানো। বড় গ্রুপ হিসেবে পরিচিত হওয়া, যাতে আমার দুঃখ-সুখ ব্যাংকের হয়ে ওঠে। এতদিন ঘুরেছি ব্যাংকের পেছনে, এখন ব্যাংক ঘুরবে ঋণগ্রহীতার পেছনে। সরকার হবে অসহায়। উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ীরা যা বলবেন তাই করবে সরকার। ওপরে রেস্টুরেন্টে শোনা কথা যা বর্ণনা করলাম এসব আমার কথা নয়। বাজারে চালু কথা। অনেকের ধারণা। সত্যি না মিথ্যা এ বিচারের ভার পাঠকের কাছে। তবে আমারও কিছু কথা আছে। যে ধারণা ব্যাংক, পরিচালক, কর্মচারী এবং ব্যাংক ব্যবসা সম্পর্কে জনগণের একাংশের মধ্যে হয়েছে তার একটা কারণ আছে। কারণটা হচ্ছে সরকারি নীতি। বাজার অর্থনীতি চালু করতে গিয়ে সরকার উন্নয়নের অর্থ কোত্থেকে আসবে সে সমস্যায় পড়ে। শত হোক উদ্যোক্তা যারা হতে চায় তাদের পুঁজি নেই, পুঁজি কম। কোল্যাটারাল দেয়ার ক্ষমতা নেই। কী করা? অতএব ব্যাংকই ভরসা। উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের শিল্প করার জন্য আগে ঋণ দিত বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক (বিএসবি) এবং বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা। এ দুটো খেলাপি ঋণে ডুবলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে শিল্পঋণে জাড়ানো হয়। ব্যাংক-ফাইন্যান্স লেড গ্রোথে। সরকার চেষ্টা করেছিল ব্যবসায়ীদের স্টক এক্সচেঞ্জে নিতে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সেখানে যেতে নারাজ। তারা মুনাফা ভাগ করতে নারাজ। অতএব উদারহস্তে ঋণ প্রদান, ব্যাংকঋণ। এ কারণে আবার ঋণের ওপর সুদের হার ৯ শতাংশে নামানো হয়েছে। তারপর এখন অবশ্য করোনা কাল। অস্বাভাবিক সময়। সরকার ব্যবসা করবে না, এটা নীতি। কিন্তু এই নীতি সত্ত্বেও বেসরকারি ব্যবসার ক্ষতি সরকার বহন করবে/করছে অবলীলাক্রমে। ঋণখেলাপি সংস্কৃতির মধ্যেই শিল্পায়ন।

ঋণখেলাপ সমান উন্নয়ন। তাছাড়া আর উপায় কী? এর জন্য উৎসাহ কোত্থেকে আসছে? আসছে দুনিয়ার অনেক দেশ থেকে। তারাও এসব নীতি অনুসরণ করে ‘ঋণখেলাপি’ তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। আরো কথা আছে। এমন পরিস্থিতি ও অবস্থার মধ্যেই কিন্তু দেশে শিল্পের একটা ভিত্তি তৈরি হয়েছে। যদিও বড় বড় অনেক গ্রুপ বেশি বেশি ঋণ পেয়ে, ব্যাংকের অশেষ ‘কৃপা’ পেয়ে আজ দেউলিয়া হওয়ার পথে, তবু দেখা যাচ্ছে অনেক গ্রুপ ভালো করছে। তবে এখানে দৃষ্টি দেয়ার সুযোগ আছে। কোনো গ্রুপই যাতে ক্যাশ জেনারেশন যা হবে তার চেয়ে বেশি সম্প্রসারণ করতে না পারে তার দিকে নজর দিতে হবে। মনে রাখতে হবে যা হয়েছে/গেছে তা গেছে। ভবিষ্যতের প্রস্তুতি দরকার। ব্যাংকাররা ভালো-মন্দ ঋণগ্রহীতা তৈরি করে বাজারে যেসব ধারণার সৃষ্টি করেছেন তা দূর করার দায়িত্বও তাদেরই নিতে হবে। শুনলাম সরকার একটি কাজ করতে যাচ্ছে যে কোল্যাটারাল একটা বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা দিয়েছে তা দূর করার জন্য সরকার একটা আইন করতে যাচ্ছে।

নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য কোল্যাটারালমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। কিছু ব্যবসা/শিল্পের ক্ষেত্রে কোল্যাটারালের সংজ্ঞা পরিবর্তন করা হবে। জানি না সরকার কীভাবে এগোচ্ছে, তবে এটি যত তাড়াতাড়ি ঘটে ততই মঙ্গল। নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তারা যাতে ওপরে বর্ণিত ধারণার শিকার না হয়। ব্যাংকারদের যাতে বড় বড় গ্রাহকের পেছনে দৌড়াতে না হয়, তারা যাতে সুস্থ পরিবেশে ব্যবসা করতে পারে, শুধু বদনামের ভাগীদার যাতে তারা না হয়—এর জন্য সুস্থ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। মনে রাখা দরকার ব্যাংকের সহজ ও উদার অর্থায়ন ছাড়া এই পর্যায়ের উন্নয়ন হতো কিনা তা দশবার ভেবে দেখতে হবে।

Comments

Popular posts from this blog

জিরো কুপন বন্ড কী? এইটা কিভাবে কাজ করে?

ব্যাংক ভাইবা - মোঃ ইউসুফ আলী

১ম বিসিএস ভাইভা অভিজ্ঞতা-- আল-আমিন আহমেদ