বাংলা সাহিত্য নিয়ে কিছু প্রশ্ন

***শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ৪ টি উপন্যাসের নাম লিখুন।যুদ্ধকালে নারাী নির্যাতনের প্রেক্ষাপটে রচিত তার উপন্যাস কোনটি?


শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস গুলো

জাহান্নাম হইতে বিদায়, নেকড়ে অরণ্য,  জলাঙ্গী, দুই সৈনিক

এর মধ্য নেকড়ে অরণ্য উপন্যাস টি যুদ্ধ কালে একটি গুদাম ঘরে ভয়াবহ নারী নির্যাতনের প্রেক্ষাপটে রচিত।


**সামসুর রহমানের চারটি কাব্য গ্রন্থের নাম লিখুন।


বন্দী শিবির থেকে - শামসুর রহমানের

 এ গ্রন্থে ৩৮ টি কবিতার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উল্লেখযোগ্য কবিতা ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’, ’স্বাধীনতা তুমি’।

উদ্ভট উঠের পিঠে চলেছে স্বদেশ ১৯৭৫-৮২ সাল পর্যন্ত দেশে সংঘটিত একাধিক সামরিক অভ্যুত্থান এবং সামরিক শাসনের যুপকাষ্ঠে দেশ ও জনগনের চরম অবস্থার প্রতিফলন আছে এ কাব্যে।

 এছাড়া নিরলোকে দিব্যরথ, নিজ বাসভূমে তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।


*তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের চারটি উপন্যাসের নাম লিখুন।


তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বিংশ শতাব্দীর একজন অন্যতম কাথাসাহিত্যক তার উল্লেখযোগ্য  চারটি উপন্যাস —

কবিঃ নিন্মবৃত্ত ও ডোম গোত্রের নিতাইচরণ সবাইকে চমকে কিভাবে কবি হয়ে ওঠে সেই প্রেক্ষাপটে রচিত।

অরণ্য বহ্নিঃ ১৮৮৫ সালে সংগঠিত ঐতিহাসিক  সাওতাল বিদ্রোহ ও উপজাতীয় স্বাধিকার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস 

রাধাঃ পলাশীর যুদ্ধের ক্রান্তিকালে বৈষ্ণব ও শাক্ত ধর্মের অবক্ষয় নিয়ে রচিত বিখ্যাত উপন্যাস 

এবং 

 বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তার উপন্যাস একটি কালো মেয়ের কথা(১৯৭১)


**মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চারটি উপন্যাসের নাম লিখুন।


রাইফেল রোটি আওরাত- আনোয়ার পাশা

জীবন আমার বোন -মাহমুদুল হক

কাবিলের বোন- আল মাহমুদ

তালাশ - শাহীন আক্তার

যাত্রা- শওকত আলী


** জেলে জীবন কেন্দ্রিক চারটি উপন্যাসের নাম লিখুন 

পদ্মার পলিদ্বীপ - আবু ইসহাক 

গঙ্গা- সমরেশ বসু 

পদ্মানদীর মাঝি- মানিক বন্দোপাধ্যায়

অবগাহন- ঘনশ্যাম চট্টোপাধ্যায়

তিতাস একটি নদীর নাম - অদ্বৈত মল্লবর্মণ 


**দেশ ভাগ কেন্দ্রিক তিনটি উপন্যাসের নাম লিখুন

আগুন পাখি- হাসান আজিজুল হক

কালো বরফ- মাহমুদুল হক

নবীন আশার খড়গ- অঞ্জলী দেবী

অনেক সূর্যের আশা- সরদার জয়েনউদ্দীন

দেশভাগ কেন্দ্রিক শ্রেষ্ঠ উপন্যাস সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পূর্ব পশ্চিম। 

উপন্যাসটিতে বিভাজনপূর্ব পূর্ব বাংলার একটি পরিবার, ১৯৪৭ এর ভারত বিভাগের সময়কার পরিস্থিতি, দেশত্যাগ, উদ্বাস্তুদের জীবন, নতুন প্রজন্মের চিন্তাধারা, পশ্চিমবঙ্গের নক্সাল আন্দোলন, এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্থান পেয়েছে।


***১/বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম কেন্দ্রিক চারটি নাট্য গ্রন্থের নাম লিখুন।


১/উত্তর —

বাংলাদেশর মুক্তি সংগ্রাম নিয়ে রচিত অন্যতম চারটি নাটক—

পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়(কাব্যনাট্য) - সৈয়দ শামসুল হক

কি চাহ হে শঙ্খচিল, বকুলপুরের স্বাধীনতা - মমতাজউদ্দীন আহমেদ

তরঙ্গভঙ্গ- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ 

এবং 

আলাউদ্দিন আল আজাদের 'নরকে লাল গোলাপ'


*** ২/ মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক একটি নাটকের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আলোচনা করুন।

অথবা সৈয়দ শামসুল হকের পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় কাব্যনাট্যের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আলোচনা করুন।


২/ উত্তর—সৈয়দ শামসুল হকের ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ মুক্তিযুদ্ধের নাটক। যুদ্ধ চলাকালে একটি খণ্ড ঘটনা। এই ঘটনায় স্বাধীনতা প্রাপ্তির কথা বলা হয়নি তবে জাতীয় পতাকা দিয়ে স্বাধীনতা প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে পরিসমাপ্তি টানা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে জীবনদান করা বা জীবন বাঁচানোর কৌশল এই নাটকে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে। পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ কাব্যনাট্যে উপভাষার প্রয়ােগে নাট্যকার বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। এখানে উপভাষার প্রয়ােগ হয়েছে বােধগম্য ও সরল চলিতরূপে। 

বাস্তবতা কত নির্মম ছিল ভয়াবহ সেই দিনগুলোয়, তার সাক্ষাৎ এখানে পাওয়া যাবে।

গ্রামে প্রবেশ করছে মুক্তিবাহিনী। তাদেরই পায়ের আওয়াজ যেন শােনা যাচ্ছে। এ সংবাদে গাঁয়ের মাতব্বর আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। সে ছিল হানাদার বাহিনীর দালাল। সে দালালি করে শত্রুবাহিনীর সহযােগিতা করেছে। একদিন সে বাধ্য হয়  পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তার হাতে নিজের কন্যাকে তুলে দিতে।  মাতব্বরের কন্যা পিতার সামনেই আত্মহত্যা করে আর  মাতব্বরকে হত্যা করে মুক্তিযােদ্ধারা। পাপ যে বাপকেও ছাড়েনা তার সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত আর কি হতে পারে? তবে এই মাতব্বরের মৃত্যু হলেও যুগে যুগে এরকম অসংখ্য মাতব্বর আরো আগ্রাসীরূপে আবির্ভূত হয়েছে।



***মাইকেল মধুসূদন দত্তের মেঘনাদ বধ কাব্যের প্রতিপাদ্য সংক্ষেপে লিখুন।

***মহাকাব্য হিসাবে মেঘনাদ বধ কাব্যের বিশেষত্ব কি? 

উত্তর(কালের কন্ঠ পত্রিকার একটি লেখা থেকে গৃহীত)


সনেট কবিতার জনক মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্য মেঘনাদবধ কাব্য। হিন্দু পুরাণের মহাকাব্য রামায়ণের কাহিনী অবলম্বনে মেঘনাদবধ(১৮৬১) মহাকাব্যটি রচিত হয়েছে। এই মহাকাব্য রচনায় ভাবনার ক্ষেত্রে কবি বেশ আধুনিকতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য উপকরণের সংমিশ্রণে বাংলা গতানুগতিক কাব্যের ধারায় আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে কবি মেঘনাদবধ মহাকাব্যটি রচনা করেন। বস্তুত এটি গ্রিক আদর্শে রচিত প্রথম সার্থক বাংলা মহাকাব্য। হিন্দু পুরাণের মহাকাব্য রামায়ণে দেবতা রামচন্দ্রকে নায়ক হিসেবে বর্ণনা।করে রাবণকে অত্যাচারী রাক্ষস হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু মেঘনাদবধ কাব্যে কবি রামায়ণের নায়ক দেবতা রামচন্দ্রের স্ত্রী সীতাকে অপহরণকারী রাক্ষস রাবণকে উল্লেখ করেছেন মহাবীর, স্নেহময় পিতা, ভাই এবং প্রজাপালক রাজা হিসেবে। আর রাবণপুত্র মেঘনাদকে উল্লেখ করেছেন অসম সাহসী বীর হিসেবে। দেবতা রামচন্দ্র ও লক্ষ্মণ এখানে রাবণের রাজ্য আক্রমণকারী ও অন্যায় যুদ্ধে লিপ্ত হত্যাকারী হিসেবে চিত্রিত হয়েছে। মূলত লক্ষ্মণ কর্তৃক অন্যায়ভাবে মেঘনাদকে হত্যার ঘটনাটি এই কাব্যের মূল প্রতিপাদ্য।

Comments

Popular posts from this blog

জিরো কুপন বন্ড কী? এইটা কিভাবে কাজ করে?

ব্যাংক ভাইবা - মোঃ ইউসুফ আলী

১ম বিসিএস ভাইভা অভিজ্ঞতা-- আল-আমিন আহমেদ