বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিকে ভালো নম্বর প্রাপ্তির কৌশল - Md Nayem Hossen
::৪১তম লিখিত::
বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিকে ভালো নম্বর প্রাপ্তির কৌশল।
(কমন বিষয়গুলো দেয়া হলো। সাবজেক্ট ও প্রশ্নভিত্তিক কৌশল পরে দেয়া হবে)
প্রথমত,
প্রথমেই স্থির করতে হবে আপনি ১০০% উত্তর করবেন। এজন্য সময় নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। যেমন,
- আন্তর্জাতিকের ৪ নম্বরের প্রশ্নে ৭.১২ মিনিট এবং ১৫ নম্বরের প্রশ্নে ২৭ মিনিট রাখুন।
- বাংলোদেশের ৫ নম্বরের প্রশ্নে ৬ মিনিট, ১০ নম্বরের প্রশ্নে ১২ মিনিট এবং ২০ নম্বরের প্রশ্নে ২৪ মিনিট রাখুন।
*মনে রাখবেন, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিকে ৯০-৯৫% প্রশ্নই আপনার কনসেপ্টের মধ্যে থাকবে।
দ্বিতীয়ত
পৃষ্ঠা ফ্যাক্ট না। মূল উত্তর লেখাটাই গুরুত্বপূর্ণ। সাথে উদাহরণ প্রয়োগ করলে নম্বর বাড়বে।
তৃতীয়ত
দেখেন আপনি নিজে খাতা দেখলেও তথ্য চাইবেন। কম লেখা থাকুক কিন্তু তথ্য থাকুক। গান বাজনা নয়। তাই প্রশ্নোত্তরে সাল, সংখ্যা ও % বসান। আপনার যোগ্যতা ও প্রিলি পরীক্ষা থেকে এখন পর্যন্ত অনেক তথ্যই পড়েছেন। বুদ্ধি করে জানা সাল, নাম্বার, তারিখ, % বসিয়ে দিন।
চতুর্থত
অনেক প্রশ্নই বানিয়ে লেখা যাবে। তাই তাকে perfect করে ফেলুন। ধরুন, বেইজিং কনফারেন্স ১৯৯৫ এর ১২টি নির্দেশনায় যে নারীর অধিকারের বর্ণনা আছে, আপনার লেখাতেও সেই বর্ণনাই থাকে। তাই লেখার আগে Beijing Conference 1995 টার্মটি থাকলেই বুঝা যাবে যে, আপনি লজিক্যাল লিখেছেন। অর্থাৎ,
- মানবাধিকারের উত্তরে Universal Declaration of Human Rights 1948
- যুদ্ধাপরাধের প্রশ্নে Rome Statue 1998
- বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের প্রশ্নে Land Boundary Agreement 1974
- গণহত্যার প্রশ্নে Genocide Convention 1948
- সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রশ্নে Bush Doctrine 2001
- power & security, sovereignty, peace এসব প্রশ্নোত্তরে peace of westphalia 1648
- সমুদ্রসীমার উত্তরে UNCLOS III 1982
- নদী আইনের প্রশ্নে Helsingki Convention 1966
- পরিবেশের প্রশ্নে IPCC Assessment Report, Rio Conference 1992
- টেকসই উন্নয়নের প্রশ্নে Johaneaseburg Summit 2002
- বাংলোদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ২৫ নং অনুচ্ছেদ ও বঙ্গবন্ধুর বক্তব্য প্রদানসহ এসব বিষয় প্রশ্নোত্তরকে perfect করে তোলে।
পঞ্চমত
আপনার প্রশ্নোত্তরে একটা ফোকাস পয়েন্ট থাকলে খুবই ভালো হয়। হয় ট্যাবল, নয়ত কোনো গুরুত্বপূর্ণ উক্তি, নয়ত ম্যাপ, নয়ত জাতীয় পতাকা বা লোগো। যেমন,
- বাংলাদেশ -চীন সম্পর্কের প্রশ্নে ম্যাপ আঁকার সময় নাই, তাই আপনি সহজেই দুই দেশের পতাকাটা এঁকে ফেলতে পারেন।
- জাতিসংঘের সংস্কার প্রশ্নের উত্তরে জাতিসংঘের পতাকাটা আঁকতে সর্বোচ্চ ২০-৩০ সেকেন্ড সময় লাগার কথা। আঁকতে পারলে নম্বর বাড়বেই।
তাই অন্তত-
বাংলাদেশ, ভারত, দক্ষিণ এশিয়া, মিয়ানমার, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, আফগানিস্তানের ম্যাপ এবং যতটার সম্ভব পতাকা এঁকে প্রাকটিসে রাখুন। এছাড়াও, সার্ক, বিমসটেক, EU, এনডিবি, জাতিসংঘ, আসিয়ান, বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফের লোগো অথবা পতাকা এঁকে রাখুন।
ষষ্ঠত
প্রশ্নোত্তরটি অবজেকটিভ স্টাইলে লিখলে নম্বর বাড়বেই। যেমন,
১ম জন লিখলো: যুদ্ধকালীন ৪টি অপরাধ যুদ্ধাপরাধ। যথা: মানবতাবিরোধী অপরাধ, নির্যিাতন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ।
দ্বিতীয় জন লিখলো: যুদ্ধকালীন ৪টি অপরাধ যুদ্ধাপরাধ। যথা:
1. মানবতাবিরোধী অপরাধ (Crime Against Torture)
2. নির্যিাতন (Torture)
3. ধর্ষণ (Rape) ও
4. অগ্নিসংযোগ (Arson)
এখানে বুঝাই যাচ্ছে দ্বিতীয় জন ভালো করবেন। আর বাংলার পাশাপাশি ব্রাকেটে ইংরেজির টারমিনলজি ব্যবহার করলে নম্বর বাড়বেই ইংশা আল্লাহ্।
সপ্তমত
নম্বরের সাথে পয়েন্টের সামঞ্জস্যতা থাকলে উত্তর বেড়ে যায়। ৪ নম্বরের প্রশ্নে ৪টি বা ৮টি পয়েন্ট দেয়া, ১০ নম্বরের প্রশ্নে ১০টি পয়েন্ট দেয়া।
অষ্টমত,
স্বচ্ছ লেখা। পেন্সিলের ব্যবহার ও হাইলাইটিং করতে মাঝে মাঝে নীল কালির ব্যবহার করা যেতে পারে।
স্মরণীয়: তথ্য ছাড়া প্রচলিত গদবাধা লিখলে ৩৫-৪০% নম্বরে আটকে যেতে হবে। উপরের নির্দেশনার মত এক্সসেপসন হলে নম্বর ৭০-৭৫% এ উঠে যেতে পারে।
(পর্ব-২ আসছে)
Comments
Post a Comment