এসডিজি অর্জনে বৈশ্বিক ‘রোডম্যাপ’ চান প্রধানমন্ত্রী; পাঁচ দফা প্রস্তাব পেশ - The Financial Express (September 21, 2021)
এসডিজিকে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক উন্নয়নের একটি পথনকশা হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেছেন, “কোনো একটি দেশ এককভাবে এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না। এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে আমাদের বৈশ্বিক সহযোগিতা ও সংহতি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।”
সোমবার টেকসই উন্নয়নের ওপর নবম বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেওয়া ভার্চুয়ালি বক্তৃতায় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
আর্থ ইনস্টিটিউট, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গ্লোবাল মাস্টার্স অব ডেভেলপমেন্ট প্র্যাকটিস এবং ইউএন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশনস নেটওয়ার্ক এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
২০১৫ সালে জাতিসংঘে গৃহীত এসডিজিতে ২০৩০ সালের মধ্যে পূরণের জন্য মোট ১৭টি লক্ষ্য স্থির করা হয়। এর পর থেকে সামগ্রিকভাবে বিশ্ব পরিস্থিতি ক্রমোন্নয়নের ধারায় থাকলেও মহামারীর মধ্যে ২০২০ সালে প্রথমবারের মত তাতে ছেদ পড়েছে।
সে কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহামারী শুরুর আগেও অনেক দেশ লক্ষ্য পূরণের পথে অনেকটা পিছিয়ে ছিল। মহামারী তাদের আরও পেছনে ঠেলে দিয়েছে।
“এসডিজি অর্জনের পথে ফিরে যাওয়ার জন্য আমাদের একটি সাহসী ও উচ্চাভিলাষী বৈশ্বিক রোডম্যাপ প্রণয়ন করা প্রয়োজন, যাতে কেউ পেছনে পড়ে না থাকে।”
আর সেজন্য প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পাঁচ দফা প্রস্তাবও তুলে ধরেছেন।
প্রথম প্রস্তাবে তিনি বলেন, এসডিজির সাফল্য এখন নির্ভর করছে এই মহামারী থেকে টেকসই উত্তরণের ওপর। বিশ্বের সব জায়গায় করোনাভাইরাসের টিকা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি এবং সেটাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
শেখ হাসিনা তার দ্বিতীয় প্রস্তাবে বলেন, দেশগুলোর সম্পদের যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি বাস্তবায়ন করতে চাইলে তা অবশ্যই কমিয়ে আনতে হবে।
তৃতীয় প্রস্তাবে তিনি বলেন, মহামারীর অভিঘাতে ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বাড়ছে, যা উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। এ থেকে উত্তরণের চেষ্টায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ওপর অনেক বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তার চতুর্থ প্রস্তাবে বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, কোভিড-১৯ সঙ্কট থেকে পুনরুদ্ধারের পদক্ষেপগুলো হতে হবে জলবায়ু সঙ্কটে নেওয়া পদক্ষেপের পরিপূরক, যাতে ভবিষ্যতের যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলা সম্ভব হয়।”
আর পঞ্চম প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী এসডিজি বাস্তবায়নে পর্যবেক্ষণ এবং সহয়তা কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন।
Comments
Post a Comment