বিসিএস লিখিত প্রস্তুতি অভিজ্ঞতা - Supto Karim, রুয়েট
যারা ৪১ লিখিত দিবেন, কিন্তু ইংরেজিতে খুবই_দুর্বল, ৯০ থেকে ১০০ নাম্বার কিভাবে তুলবেন তা নিয়েই পেরেশান অবস্থা তাদের জন্যে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু কথা শেয়ার করতে চাই ।
ইংরেজিতে ২০০ নাম্বারে, ইংরেজিতে দুর্বল হওয়ায় এই ২০০ নাম্বারের ভয়েই অনেকেই বাকি ৭০০ নাম্বারের প্রস্তুতিতেও খেই হারিয়ে ফেলেন । অর্থাৎ একটা সাবজেক্ট সার্বিক প্রস্তুতিতে অনেক সময় অনেক বড় প্রভাব ফেলে ।
ইংরেজির ভয় দূর করে প্রত্যাশা কমিয়ে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পরিকল্পনামাফিক নিয়মিত অনুশীলন করে গেলে ৯০/১০০ নাম্বার তুলা খুব একটা কঠিন হবার কথা নয় । এক্ষেত্রে মনে একটা সাহস সঞ্চার করে অন্যান্য বিষয়গুলোতে পূর্ণ মনোযোগ প্রদান করা সহজ হবে ।
Essay (৫০ নাম্বার)
** শুরুতেই রচনার কথা লিখেছি মানে, রচনা মুখস্থ করতে বলব ভেবেছেন?? না না না ।
ইংরেজিতে আমাদের দুর্বলতার একটা বড় কারণ হল আমাদের রিডিং হেবিট নেই বললেই চলে । তাই ইংরেজিতে বেশী দুর্বল হলে পত্রিকা পড়ার পরিবর্তে আপনার সংগ্রহে যে রচনাই বই আছে (যেমনঃ ইউনিক, এসিউরেন্স গাইড প্রভৃতি) সেখান থেকে ৮/১০ টা গুরুত্বপূর্ণ ইংরেজি রচনার টপিক সিলেক্ট করে নিয়ে প্রতিদিন ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা করে রিডিং পড়ুন, আবারও বলছি শুধুই রিডিং পড়ুন, মুখস্থ করতে যাবেন না একদমই ।
এক একটা টপিক ৩/৪ দিন রিডিং পড়ুন, দেখে দেখে কিছু কিছু লিখুন, পড়তে গিয়ে অজানা শব্দ গুলো Antonym & Synonym সহ খাতায় লিখে ফেলুন, এরপর কিছু চমকপ্রদ বাক্য মুখস্থ করে ফেলুন ও লিখুন । এভাবে বেশী না মাত্র ১০/১৫ দিন ৩০/৪০ মিনিট অনুশীলন করলে উপকার নিজেই হয়তো বুঝতে পারবেন ।
কি উপকার??
# এভাবে নিয়মিত পড়তে পারলে রিডিং হেবিট তৈরী হয়ে যাবে যা আপনাকে পরীক্ষায় প্যাশেজ পড়ার সময় মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করবে ।
# ৮/১০ টা রচনা সম্পর্কে নিখুঁত ধারণা জন্মাবে, পরীক্ষার এক মাস আগে আয়ত্ত করে নিতে পারবেন ।
# প্রতিটা রচনা থেকেই হয়তো ৫০+ নতুন শব্দ আয়ত্ত হয়ে যাবে । বাক্যের গাঁথুনি সম্পর্কে ধারণা হবে এবং ইংরেজি নিয়ে ভয় কিছুটা করে কমতে থাকবে ।
# পরবর্তীতে প্যাশেজ পড়ে সামারি এডিটোরিয়াল ইত্যাদি লিখতে ভয় ও সময় কম লাগবে ।
অর্থাৎ এই এক অভ্যাস তৈরী করতে পারলেই কত গুলো সুবিধা পাওয়া সম্ভব ।
অনুবাদ (২৫+২৫ = ৫০ নাম্বার)
** ইংরেজিতে দুর্বল মানে অবশ্যই অনুবাদে দুর্বল । তাই যেকোনো একটা বই থেকে নিয়মিত অন্তত ১ টা করে অনুবাদ করুন, প্রয়োজনে দেখে দেখেই করুন এবং অবশ্যই খাতায় লিখুন । এভাবে ১০/১২ দিন দেখে দেখে লিখুন, অনুবাদের ভয় কিছুটা কেটে গেলে উত্তর না দেখে অনুবাদ করার অভ্যাস করুন ।
আপনি যদি আজ থেকেও প্রতিদিন একটি পরীক্ষার আগ অবদি ৭০/৮০ টাও অনুবাদ করেন দেখবেন পরীক্ষার হলে অন্তত মোটামুটি কিছু একটা লিখে দিয়ে আসতে পারবেন ।
ভোকাবুলারি (২৫ নাম্বার)
** লিখিত পরীক্ষায় একটা বড় ভয়ের নাম ভোকাবুলারি । ইংরেজিতে দুর্বলতার মূল কারণ আসলে ভোকাবুলারি জ্ঞান সমৃদ্ধ না হওয়া । বিভিন্ন জনের কাছে বিভিন্ন ভোকাবুলারি বই এর নাম শুনে ভয় দুশ্চিন্তা চরমে উঠার অবস্থা, তাই তো??
আচ্ছা শুনুন, পরীক্ষায় Antonym, Synonym ও Sentence making এর জন্যে যে শব্দ গুলো দেয় সেগুলো সব কিন্তু প্যাশেজ থেকেই দেয় । আর প্যাশেজ পড়লে কিন্তু অধিকাংশ শব্দেরই একটা অর্থ অনুমান করে নেয়া যায় । এখন সমস্যা হল, সেসকল অজানা শব্দের অর্থ অনুমান করতে পারলেও শব্দ ভাণ্ডার সমৃদ্ধ না হওয়ায় Antonym, Synonym লিখতে গিয়ে সমস্যা তৈরী হয় ।
এক্ষেত্রে বলব ভোকাবুলারি নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে মাস্টার বা এরকম যেকোনো বই থেকে বিগত সালে বিভিন্ন পরীক্ষায় আসা সকল শব্দ Antonym, Synonym আয়ত্ত করার চেষ্টা করুন । প্রয়োজনে খাতায় নোট করুন শব্দ গুলো, এক্ষেত্রে মোবাইল ডিকশনারি থেকে Antonym, Synonym সংগ্রহ করুন । এ কাজ গুলো খুব বেশী কঠিন নয় । আগামী ৩ মাসে যদি আপনি দিনে ১০ টা করে ৯০০ শব্দও আয়ত্ত করতে পারেন তাহলেও দেখবেন পরীক্ষায় সহজেই ৫০-৬০% শব্দের উত্তর করে আসতে পারবেন ।
এছাড়া ১০ টা শব্দ দিয়ে বাক্য লিখতে হয়, আপনি যদি খুব দুর্বলও হন, তবুও ৪/৫/৬ টা শব্দ দিয়ে সহজ বাক্য লিখে আসতে পারবেন অবশ্যই, কেননা ওই শব্দ গুলার অর্থা আপনি প্যাশেজ পড়লেই অনুমান করে নিতে পারবেন ।
Word_formation Joining_Sentence ইত্যাদি (৫ নাম্বার)
** এরকম কিছু টপিক অদল বদল করে পরীক্ষায় আসে । Word formation অর্থাৎ Interchange of Parts of Speech এই টপিক টা মাস্টার বা যেকোনো বই থেকে দেখলেই ৫ টার মধ্যে ৩/৪ টা পাওয়া যাবে সহজেই ।
Joining Sentence এর জন্যে Simple, Complex, Compound sentece, Transformation of sentence সহ কিছু টপিক দেখে নিলে বেশী সমস্যা হয় না ।
Short_Question ( ৩০ নাম্বার )
** ১০ টা প্রশ্ন ৩ করে ৩০ মার্ক । আগে প্রশ্ন ১০ টা খুব ভালো করে পড়ে কি চেয়েছে তা বুঝে নিয়ে প্যাশেজ পড়া শুরু করতে হবে, আগেই প্যাশেজ পড়তে গেলে সব মাথার উপর দিয়ে যেতে থাকবে ।
এই অংশটা দিয়ে নাম্বার তুলা তুলনামূলক সহজ, তাই উত্তর গুলো লিখার সময় সতর্ক থাকবেন যাতে বানান ও গ্রামাটিক্যাল ভুল না হয়, এই ৩০ এ সহজেই ১৫+ চলে আসার কথা ।
Letter_Writing ( ২০ নাম্বার )
** প্যাশেজের বিষয়বস্তু নিয়ে পত্রিকায় এডিটোরিয়াল ছাপানোর জন্যে চিঠি লিখতে হয় সম্পাদকের নিকট । আপনি জাস্ট চিঠির জন্যে একটা নির্ভুল ফরম্যাট রেডি রাখুন । আর প্যাশেজ বুঝে নিয়ে এক পাতা লিখার চেষ্টা করবেন, ৫০% এর উপরেই নাম্বার পাওয়ার কথা যদি ফরম্যাট ঠিক থাকে ।
Summary (২০ নাম্বার)
** প্যাশেজ থেকে ওই ১০ টা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই মোটামুটি একটা ধারণা চলে আসে প্যশেজ সম্পর্কে । সেখানে থেকে কোনো প্রকার কনফিউশনে না গিয়ে ১০০ শব্দের মধ্যে সহজবোধ্য যা বুঝেন লিখে দিলেই হল, একেবারেই খারাপ নাম্বার দিতে পারবে না ।
Spelling_Grammatical_Error
** পরীক্ষার হলে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে বানান যেন ভুল না হয় এবং গ্রামাটিক্যাল ভুল যত কম করা যায় । এমনিতেই লিখার মান তুলনামূলক কম জোড়ালো হবে, তার উপর মাত্রাতিরিক্ত বানান ও গ্রামাটিক্যাল ভুল হলে পরিক্ষকের ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটে বড় ধরনের অঘটন ঘটতে পারে, তাই এই বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিবেন ।
আপনি যদি এভাবে আগামী ২.৫/৩ মাস অনুশীলন করতে পারেন তাহলে দেখুন আপনার পক্ষে ইংরেজিতে ১০০ এর নিচে পাওয়াই বরং কঠিন হয়ে যাবে । অন্তত ৯০+ তো পাবেনই । তবে নিয়মিত অনুশীলন করে নিজেকে শাণিত করতে পারলে আরও বেশিও পেতে পারেন ।
আমি ইংরেজির ছাত্র নই, সফল কেউ ও নই । তবে অনেকেই ১ম বার লিখিত দিতে গেলে ইংরেজি নিয়ে এক ধরনের আতঙ্কে ভুগেন, সেজন্যে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু লিখার চেষ্টা করলাম । যারা ইংরেজিতে দুর্বল, ৯০/১০০/১১০ পেলেই খুশি তারাই অনুসরন করলেও করতে পারেন, দক্ষ ভাই বোনেরা এড়িয়ে যেতে পারেন ।
বাংলা ইংলিশ মিশ্রিত লিখা ও বানান ভুলের জন্যে কেউ বিরূপ মন্তব্য করবেন না, সময় বের করে এতো বড় লিখা বেশ কষ্টসাধ্য, অনিচ্ছাকৃত ভুল হতেই পারে ।
আমার জন্যে দোয়া করবেন, ধন্যবাদ ।।
Supto Karim, রুয়েট
Comments
Post a Comment