৪১তম লিখিত গাইডলাইনের শুরুর কিছু পরামর্শ - মুহম্মদ শামীম কিবরিয়া
৪১তম লিখিত গাইডলাইনের শুরুর কিছু পরামর্শ :
আজ থেকে আমাদের ৪১তম বিসিএস প্রিলি উত্তীর্ণদের জন্য লিখিত পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়ার কথা। খুব ব্যস্ততার কারণে দিনে সেটা সম্ভব হয়নি। এখন ফ্রী হলাম। তাই কয়েকটি পরামর্শ দিয়ে শুরু করি। আমার সাথে কেউ কেউ একমত নাও হতে পারেন। আমি আগেও বলেছি এখনও বলছি, লিখিত পরীক্ষা আসলে ৫০% পরিশ্রম ও ৫০% কৌশল। এ দুইটার সমন্বয় করতে পারলে আপনি শুধু উত্তীর্ণ হবেন সেটা বলবো না আপনার নাম সেরাদের তালিকায় উঠবে ইনশাআল্লাহ।
তাই যাঁরা পড়াশুনা শুরু করেছেন তাঁদের জানাই অভিনন্দন। অনেক বড় সিলেবাস একটু আগে শুরু করাই ভাল। তবে তারচেয়ে বেশি ভাল আপনি কতটা কৌশলে আগাতে পারছেন সেটা যদি বুঝতে পারেন।
যেকোন বিষয়ে টার্গেট দরকার। আপনার ধারণা থাকতে হবে আসলে আপনি কোথায় পৌঁছাতে চান সেটা। সেজন্য একটু বিচক্ষণ হলেই হবে। একটা সাধারণ চিন্তা করলেও আপনি বিগত বছরের পরীক্ষা গুলো থেকে ধারনা পাবেন, কত নম্বর পেলে আপনি কোন ক্যাডারের জন্য বিবেচিত হতে পারেন সেটাও হয়তো বুঝতে পারবেন। ধরে নিলাম আপনি শুধুমাত্র জেনারেল ক্যাডারগুলোর জন্য প্রতিযোগীতা করছেন।
বিগত বছর গুলোর প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন এই সংখ্যাটা দেখলেও ধারনা পাবেন,আর বুঝবেন আপনাকে কতটা প্রস্তুত হতে হবে। একটু সহজ করে দেই, ধরুন, ৪১তম বিসিএস প্রিলিতে ২১০৫৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁদের ভেতর ৯০% পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন। আপনি বিগত বছরের পর্যালোচনায় ধরে নিতে পারেন তাঁদের ৬৫-৭০% উত্তীর্ণ হবেন। তাহলে হয়তো ১২-১৩ হাজার লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবেন।অর্থাৎ তাঁদের গড় মার্ক ৫০%+ অর্থাৎ তাঁরা সবাই কমপক্ষে ৪৫০ নম্বর পেয়েছেন। যুদ্ধটা শুরু হবে এখন।আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন উত্তীর্ণদের ভেতর ৫০% এর বেশি সংখ্যক প্রার্থী ৫০%-৫৫% এর ভেতর নম্বর পাবে। অর্থাৎ ৪৫০-৪৯৫ নম্বর। তাহলে ৫৫%+ পাবে হয়তো ৬০০০ জন তার বেশি নয়। এরপর প্রতি ১% এর জন্য একটা বড় সংখ্যক প্রার্থী পেছনে পড়ে যাবে। আপনি এই হিসেব করলেই বুঝবেন ৬০% নম্বর কোন ভাবেই ২০০০-২৫০০ প্রার্থীর বেশি পাবে না। কিন্তু আপনি যদি সেরা হতে চান তাহলে তাঁদের ভেতরেই আপনাকে আরও সামনে এগিয়ে যেতে হবে। ধরুন আপনার কোটার সুবিধা নেই। আপনার প্রথম পছন্দ পররাষ্ট্র ক্যাডার আপনাকে অবশ্যই সেরা ১৫-২০ জনের ভেতর মেধাতালিকায় থাকতে হবে। এমন হতে পারে এই শুরুর ২০ জনের ভেতর থাকতে আপনাকে ৬৫% নম্বর হলেই চলছে আবার হতে পারে ৬৭% নম্বর পেয়েও অনেক সময় সামান্যর জন্য হচ্ছে না। অনেক সময় কিছুটা পেছন থেকেও শুরুর উচ্চ চাহিদা সম্পন্ন ক্যাডার পাওয়া যায়, সেটা হয় অন্যের ভুলের সুফল। এজন্য পরীক্ষার আবেদন করার সময় ক্যাডার চয়েসটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শুরুর ভুলের কারণে অনেক সময় মেধাতালিকার সেরা অবস্থানে থেকেও তুলনামূলক কম চাহিদা সম্পন্ন ক্যাডার পেয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। এ প্রসঙ্গে না যাই।তাহলে নির্দ্বিধায় বলা যায় আপনি ৬৩-৬৫% নম্বর পেলে অবশ্যই আপনার পছন্দের একটা ক্যাডার আশা করতে পারেন। কারণ ৬০% নম্বর ২০০০ জন পেলেও ৬৪% নম্বর ৩০০-৪০০ জনের বেশি পাবে না। তাই আমরা বলতে পারি ৬৫% নম্বর অবশ্যই একটা সেভ জোন। ৬৫% নম্বর কিন্তু সহজ বিষয় নয়? আবার খুব কঠিন তাও বলবো না। আপনি গতানুগতিক পরাশুনা করলে ৫০-৫৫% নম্বর পাবেন। তবে ৬৫% আর ৫৫% এর ভেতর পার্থক্য আসমান জমিন।
৬৫% অর্থ ৫৮৫ নম্বর আর সাথে আবার ভাইভার ১৩০।
আমাদের লিখিত গাইডলাইন এর মূল উদ্দেশ্য হবে আপাতত লিখিত পরীক্ষায় ৬৪%-৬৫% নম্বর পাওয়া। এই নম্বর পাওয়ার জন্য যা যা করার সেটাই আমরা একে একে করবো।
আজ কয়েকটা নির্দেশনা দিয়ে দিলাম আগামীকাল এটা শেষ করবেন বিনা ব্যর্থতায়।
১. আপনার স্ট্রং জোন গুলো নির্ধারন করুন। যে সাবজেক্টে আপনি চাইলে বড় লীড নিতে পারবেন। আপনি খেয়াল করুন আপনাকে ৫৮৫ পেতে হলে লীড নীতে হবে ৫৮৫-৪৫০= ১৩৫। একদম সহজ কথা নয়।এজন্য আপনাকে আপনার স্ট্রং জোনকে আরও স্ট্রং করতে হবে। আপনি কোন সাবজেক্টে কম বা বেশি পাচ্ছেন এটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি দিন শেষে সর্বমোট নম্বরে কত লীড রাখতে পারছেন সেটা।
২. প্রতিটা সাবজেক্টের জন্য অবশ্যই নোট প্যাড বা খাতা তৈরি করুন। এটা হবে আপনার সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র। এখানে সব লিখতে বলবো না তবে পরীক্ষার আগের রাতে বুঝবেন এই খাতাটা কতোটা গুরুত্বপূর্ণ।
৩. প্রতিটা সাবজেক্টের জন্য কমপক্ষে দুইটা বই রাখুন এবং সম্ভব হলে আরও বেশি এবং সাথে সাপোর্টিভ বই রাখুন।
৪. তথ্য মনে রাখার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হোন এবং তথ্য সমৃদ্ধ বইকে অধিকতর গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিন।
৫. মুখস্থ করাকে কম গুরুত্ব দিন। কিছু মুখস্থ লাগবে কিন্তু সব মুখস্থ করে লিখতে গেলে আপনার পক্ষে হয়তো সম্ভব হবে না।
৬. সব পড়তে হবে তা নয় তবে নিজেকে সমৃদ্ধ করুন এবং সেটাকে ব্যবহার করতে শিখুন। পরীক্ষার হলে আপনি যেন মানসম্মতভাবে সব লিখে আসতে পারেন।
আজ আর নয়।
আগামীকাল থেকে সরাসরি পড়াশুনাতে চলে যাবো।
গাইডলাইন এই গ্রুপেই পাবেন সাথে আমার ব্যক্তিগত পেজ (Shameem Kibria) যেটা শুধু গাইডলাইন দেওয়ার জন্য করা, সেখানেও সহজে পাবেন।
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া খুব সহজ কিন্তু ক্যাডার হওয়াটা কিন্তু এতোটা সহজ ভাবলে বা ভাগ্যের উপর ছেড়ে দিলে ভুল হবে। তাই সাহসীরা সাথে থাকুন। গাইডলাইন দিবো, পরিশ্রম আপনাদের।
জিতবেন ইনশাআল্লাহ।।
শুভকামনা রইলো সবার জন্য
মুহম্মদ শামীম কিবরিয়া


Comments
Post a Comment