বিসিএস লিখিত পরীক্ষা - দিদার নূর
বিসিএস লিখিত পরীক্ষা যতটা না পরিশ্রমের তার চেয়ে বেশি কৌশলের।এখানে কিছু টপিক আছে যা ক্যাডারপ্রাপ্তির জন্য ট্রাম্পকার্ডের মত কাজ করে।প্রস্তুতির প্রারম্ভেই আপনাকে সেই ট্রাম্পকার্ডগুলো খুঁজে বের করতে হবে।লিখিত প্রস্তুতির সময় আমি কিছু টপিকের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব ও সময় দিয়েছিলাম যা ক্যাডারপ্রাপ্তিতে আমাকে প্রভূত সাহায্য করেছে ।
🔹লিখিত পরীক্ষায় এমন কিছু বিষয় আছে যেখানে পরীক্ষক চাইলেও আপনাকে মনগড়া নম্বর দিতে পারবে না।ভাল করলে অবশ্যই ভাল নম্বর দিতে হবে।এটা আপনার প্রাপ্য।এক্ষেত্রে প্রথমেই ম্যাথ ও বিজ্ঞানের প্রসঙ্গ চলে আসে।এই দুটি বিষয়ের জন্য মার্কস বরাদ্দ আছে ২০০।আপনি এই ২০০ এর মধ্যে যেভাবেই হোক ম্যাথে ৮০ ও বিজ্ঞানে ৭০ পেতে চেষ্টা করুন।আর এর বেশি পেলে তো এই দুই সাবজেক্ট দিয়েই মাঠ কাঁপিয়ে দিয়ে আসতে পারবেন।
🔹সিলেবাস লক্ষ্য করলে দেখবেন বাংলাদেশ বিষয়াবলীতে প্রায় প্রতি বিসিএসে সংবিধানের উপর ৪০ নম্বরের প্রশ্ন করা হয় আর ইংরেজি গ্রামার ও অনুবাদে মোট(৩০+৫০) ৮০,বাংলা সাহিত্য,ব্যাকরণ ও অনুবাদে মোট ৭৫(৩০+৩০+১৫) এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের জন্য বরাদ্দ আছে ৪০ মার্কস।
🔹সংবিধান ভাল করে লিখতে পারলে ৪০ এ ৩০ আপনি পাবেনই।ইংরেজি গ্রামারে নম্বর কাটার সুযোগ নেই তাই চেষ্টা করুন এখানে যেন ৩০ এ অন্তত ২৫ রাখতে পারেন আর অনুবাদ একটু ভাল করে করতে পারলে ৫০ এর মধ্যে ৪০ আপনি আশা করতেই পারেন।
🔹প্রশ্ন যেমনই হোক যদি সুন্দর করে গুছিয়ে লিখতে পারেন তবে বাংলা সাহিত্যে ৩০ এ ২৫ ও ব্যাকরনের ৩০ মার্কসের মধ্যে ২৫ পেতে আপনাকে খুব একটা বেগ পেতে হবে না।কারন এ অংশ দুটি আপনি প্রিলিমিনারিতেই অনেকটা কাভার করে এসেছেন।সাহিত্যের জন্য যদিও একটু বাড়তি পড়তে হবে তবে ব্যাকরণ অনেকটা প্রিলির মতই পাবেন।বাংলা ২য় পত্রে অনুবাদ একটু সহজই হয়,এখানে ১৫ তে ১০ পাবেন আশা রাখি আর আন্তর্জাতিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ধারনা থেকেও মোটামুটি লিখে আসতে পারলে ৪০ এ ২৫ পাওয়া সম্ভব।
🔹পরিকল্পনামাফিক পরিশ্রম করতে পারলে গনিত,বিজ্ঞান ও বিভিন্ন বিষয়ের শর্টকাট টপিকসগুলোর উপর মোট ৪৩৫ এর মধ্যে আপনি ৩৩০ কিংবা এর বেশিও পেতে পারেন।আর গনিত ও বিজ্ঞানে আরো ভাল করতে পারলে সেটা অবশ্যই আপনার জন্য প্লাস পয়েন্ট।
🔹৯০০ মার্কসের বাকী ৪৬৫ মার্কস প্রায় পুরোটাই থিওরিটিক্যাল।এগুলোর জন্য লিখতেও হবে বেশি, নম্বরও উঠবে কম।বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী,বাংলা ও ইংরেজির এসব তত্ত্বীয় টপিকগুলোর জন্য প্রতিদিন ফ্রি হ্যান্ড রাইটিং এর অভ্যাস গড়ে তুলুন,মুখস্থ করতে যাবেন না কখনোই।
🔹তত্ত্বীয় বিষয়ের যে টপিকটি পড়বেন তার শুধু হিন্টসগুলো মনে রেখে বাকী অংশটুকু ভাল করে বুঝে বুঝে ৩/৪ বার করে রিডিং পড়ুন। আর যে জিনিষটা পড়া হয়েছে রাতে ঘুমানোর আগে বিছানায় শুয়ে সেটা কয়েকবার চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে যান।পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে পড়তে বসার আগে আবার ঐ টপিকটা নিয়ে কিছুক্ষণ চিন্তা করুন।এতে বিষয়টা সম্পর্কে আপনার একটা সম্যক আইডিয়া তৈরি হয়ে যাবে।এভাবে রেগুলার চালিয়ে যেতে থাকলে কয়েকদিন পর দেখবেন ফ্রি হ্যান্ড রাইটিং এ আপনার পুরোপুরি সক্ষমতা চলে আসছে।তখন কমন পড়ুক আর না পড়ুক পরীক্ষার হলে যেকোন বিষয়ই আপনি খুব সুন্দরভাবে গুছিয়ে লিখে আসতে পারবেন।
🔹আমার বিশ্বাস কমন না পড়লেও ধারনা থেকে মোটামুটি গুছিয়ে লিখে আসতে পারলে বাংলাদেশ বিষয়াবলীর বাকী ১৬০ এর মধ্যে ৮৫,আন্তর্জাতিকে ৬০ এ ৩০,বাংলায় ১২৫ এ ৭৫ এবং ইংরেজিতে ১২০ এর মধ্যে ৬০ আপনি পাবেন ইনশাআল্লাহ। অবশ্য বিসিএসে কোন প্রশ্নই আপনি সরাসরি কমন পাবেন না।নিজের ধারনা থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত দিয়ে বানিয়ে লিখে আসতে হবে।তথ্য,উপাত্ত,উদ্ধৃতির জন্য একটা হ্যান্ডনোট করুন।যে প্রশ্নের উত্তরেই সুযোগ পাবেন সেখানেই এগুলো কাজে লাগিয়ে দিবেন।
🔹যাইহোক আপনি যদি তত্ত্বীয় বিষয়গুলোতে এভাবে মোট ২৫০ মার্কস তুলতে পারেন তবে ঐ ৩৩০ সহ ৯০০ এর মধ্যে আপনার সর্বমোট লিখিত নম্বর গিয়ে দাড়াবে ৫৮০ তে।আর লিখিততে এই নম্বর পেলে ভাইবা পাশ করলেই আপনি ক্যাডার পাবেন এটা একরকম নিশ্চিত করেই বলা যায়।পথটা জটিল হওয়ায় এভাবে একটু হিসেবনিকেশ করে পরিশ্রম করার ফলেই আল্লাহর রহমতে এই ক্যালকুলেটেড নম্বরের চেয়েও লিখিত পরীক্ষায় আমার মোট নম্বর আরো কিছুটা বেশি এসেছিলো।পরিশ্রম সবাই ই করবে তবে একটু কৌশলী হয়ে যারা এগোবে শেষ পর্যন্ত তারাই জয়লাভ করবে।অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত তাই হয়ে আসছে,ভবিষ্যতেও তাই হবে।
সবশেষে বলবো আপনি যদি দিনে ১২ ঘন্টা সময় ব্যয় করেন পড়াশোনার জন্য তবে অবশ্যই ৭/৮ ঘন্টা বরাদ্দ রাখুন ঐ ৪৩৫ নম্বরের জন্য কারন শেষ সময়ে বিজয়ের হাসি হাসতে চাইলে আপনাকে যে এই অংশটুকুতে ভাল মার্কস তুলতেই হবে।আর কথা না বাড়িয়ে এখানেই শেষ করছি।সবাই ভাল থাকবেন।আল্লাহ হাফেজ।সকলের শুভকামনায়-
দিদার নূর
এএসপি(৩৭তম বিসিএস)
Comments
Post a Comment