৪১তম বিসিএস লিখিত প্রস্তুতি (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি) - Shoaib Islam
আশা করি, সবাই এখন পুরোদমে রিটেন প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছেন। মূলত এই রিটেন নাম্বারের উপরেই আপনার ক্যাডার হওয়া কিংবা না হওয়া নির্ভর করবে। তাই কোনো রকম সময় নষ্ট না করে এখন থেকেই একটা সঠিক পরিকল্পনা এবং স্ট্র্যাটেজি মেইনটেইন করে প্রস্তুতি নিতে থাকুন। বিসিএস লিখিত এক্সামে যে কয়টা টপিক্স এ সবচেয়ে বেশি নাম্বার পাওয়া সম্ভব, তার মধ্যে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি অন্যতম। আমার দুইবারের রিটেন অভিজ্ঞতার আলোকে আজকে এই সাবজেক্ট নিয়ে কিছু কথা শেয়ার করতে চাই আপনাদের সাথে!
বিজ্ঞান হলো অলমোস্ট ম্যাথের মতোই। আপনি যদি সঠিকভাবে লিখতে পারেন, তাহলে প্রায় পূর্ণ নাম্বার পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। এখানে বানিয়ে মনগড়া লেখার মতো কোনো সুযোগ একেবারেই নেই। আর, বিজ্ঞানের প্রশ্ন হয় অনেকটা MCQ স্টাইলে। শুরুতে ৯ টার মধ্যে ৮ টা প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। ওই ৮ টা প্রশ্নে আবার ৩-৪ টা করে ভাগ থাকবে। তার মানে, আপনাকে প্রায় ২৫-৩০ টা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে যেখানে এই অংশে পূর্ণমান থাকবে ৬০ নাম্বার। যেহেতু এইসব ছোট প্রশ্নের মান থাকবে ১ থেকে ২.৫ এর মধ্যে- সেহেতু এখানে অহেতুক লেখা বড় করার কোনো মানে হয় না। কোন প্রশ্নের মান এমনকি ০.৫ পর্যন্ত হতে পারে। তাই, আপনাকে অবশ্যই একদম টু দ্যা পয়েন্টে লিখতে হবে। খাতায় যা লিখবেন সে ব্যাপারে খুবই স্বচ্ছ ধারণা রাখতে হবে। আবার শুরুর দিকেই কোনো প্রশ্নে উল্টাপাল্টা কিছু লেখার কারণে ওই শিক্ষকের কাছে হয়তো আপনার এমন একটা নেগেটিভ ইমপ্রেশন তৈরি হতে পারে যা অন্য কোনো প্রশ্নেও আপনার deserving নাম্বার কমিয়ে দিতে পারে। তাই, কখনোই লিখিত পরীক্ষার খাতায় একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক কিছু লিখবেন না। বিশেষ করে বিজ্ঞান এবং কম্পিউটারের মতো টেকনিকাল সাবজেক্টের এক্সামে। যদি কিছুই না জানেন তাহলে স্কিপ করে যাবেন।
বিজ্ঞান লিখিত সিলেবাসে মোট ১১ টি অধ্যায় রয়েছে। এই ১১ টি অধ্যায়ের বাইরে লিটারেলি কিছুই পড়বেন না। বিজ্ঞানের সিলেবাস ছোট এবং স্পেসিফিক। তাই, এখানে গুছিয়ে প্রিপারেশন নেওয়া এবং, নোট করে পড়া সহজ এবং, বেটার। বিক্ষিপ্তভাবে খুব বেশি কিছু বই পড়ার দরকার নেই। শুরুতেই সিলেবাসের প্রথম অধ্যায় অথবা, যে কোনো অধ্যায় ধরে পড়া শুরু করুন। এইক্ষেত্রে আমার সাজেশন হলো, যে কোনো দুইটা বই থেকে একসাথে মিলিয়ে পড়বেন। এবং, কোনো চ্যাপ্টার পড়া শেষ হলে ওই চ্যাপ্টার রিলেটেড বিগত ১৫ বছরের সবগুলা প্রশ্ন গুছিয়ে নোট করে ফেলুন। মনে করুন যে, সিলেবাসের "শব্দ" চ্যাপ্টার আপনি প্রথমে নবম-দশম শ্রেণীর অথবা, অষ্টম শ্রেণীর "সাধারণ বিজ্ঞান" বই থেকে পড়লেন। মানে, শব্দ রিলেটেড সবকিছু আর কি! এরপর আপনি ডিরেক্টলি চলে যাবেন একাদশ শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান বইয়ে। বিজ্ঞান সিলেবাসের যে যে টপিক্স আপনি একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ কিংবা রসায়ন বইয়ে পাবেন, ওই স্পেসিফিক টপিক্সগুলা অবশ্যই একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ভালো কোনো বোর্ড বই থেকেই পড়বেন। শাহজাহান তপন স্যারের বই এইক্ষেত্রে খুবই কার্যকরী। এইভাবে "শব্দ" চ্যাপ্টার শেষ হলে, এই অধ্যায় সম্পর্কিত বিগত বছরে আসা প্রশ্নগুলা নোট করে ফেলুন। এরপর আরেকটা অধ্যায় শুরু করুন। আবার, এগ্রিকালচার অথবা জীববিজ্ঞান রিলেটেড চ্যাপ্টার আপনি নবম-দশম শ্রেণীর জীববিজ্ঞান অথবা সাধারণ বিজ্ঞান বই থেকে পড়লেই এনাফ। পাশাপাশি, অষ্টম অথবা সপ্তম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই থেকেও পড়তে পারেন। তবে, সিলেবাসের যে কোনো চ্যাপ্টার আপনি আপনার পছন্দের ম্যাক্সিমাম দুইটা বোর্ড বই থেকে পড়বেন। তাই, আপনাকে পড়াশোনা শুরু করার আগেই সবগুলা বই সংগ্রহ করে রাখতে হবে। এরপর আপনি নিজে বোর্ড এর বইগুলা দেখে এবং অধ্যায়ভিত্তিক বিশ্লেষণ করে ঠিক করবেন যে, আপনি কোন কোন বই থেকে কোন কোন চ্যাপ্টার পড়বেন। নিজে এনালাইসিস করুন, নিজের বই নিজে ঠিক করুন। ১১ টা অধ্যায়ের প্রতিটি অধ্যায় যদি আপনি দুইটা বই থেকে পড়েন এবং, নোট করেন- তাহলেও আপনার খুব বেশি সময় লাগবে না। দুই মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলা সম্ভব।
এই ৬০ নাম্বারের বাইরে ইলেক্ট্রনিক্স অংশে থাকবে ১৫ নাম্বার। ৮ টা প্রশ্নের মধ্যে ৬ টা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রতিটি প্রশ্নের মান থাকবে ২.৫ নাম্বার। এই পার্ট নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর শাহজাহান তপন স্যারের পদার্থবিজ্ঞান বইয়ে এই অধ্যায় খুব সুন্দরভাবে গুছিয়ে লেখা আছে। শেষ করে ফেলুন। পাশাপাশি, বাজারের কোনো একটা ভালো গাইড বই থেকে এই অংশ পড়ে ফেলুন। এরপর এই চ্যাপ্টার রিলেটেড বিগত ১৫ বছরের সবগুলা প্রশ্ন আগের মতোই নোট করে ফেলুন। তাহলেই যথেষ্ট। সাধারণ কিছু চিত্র ব্যবহার করবেন সুযোগ পেলে। বাট,জটিল কিংবা কঠিন কোনো চিত্র দেওয়ার দরকার নেই। এক পেইজের মধ্যেই উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
আপনাদের পছন্দের কোনো টপিক্স থাকলে জানাবেন কমেন্টবক্সে। নেক্সট টাইম ওই ইস্যুতে লেখার চেষ্টা করবো। শুভ কামনা সবার জন্য!
Shoaib Islam
Comments
Post a Comment