চাকরির পরীক্ষায় ইংরেজি নিয়ে ভয়? (কালের কণ্ঠ - ১২/১২/২০২০)

ইংরেজিতে ভালো না করে বিসিএস, ব্যাংক বা অন্য যেকোনো নিয়োগ পরীক্ষার বৈতরণি পার হওয়া কঠিন। কৌশলী হয়ে নিয়মিত পড়াশোনা করলে ইংরেজিতে দক্ষ হওয়া সম্ভব। নিয়োগ পরীক্ষায় ইংরেজিতে ভালো করার কৌশল নিয়ে ৩৮তম বিসিএস অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ক্যাডার (সুপারিশপ্রাপ্ত) প্রণয় কুমার পাল ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক আব্দুল আওয়ালের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত লিখেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন


চাকরির পরীক্ষায় ইংরেজির গুরুত্ব

চাকরির প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সবার প্রথমে আসে বিসিএসের কথা। বিসিএসে ইংরেজিতে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ৩৫ নম্বর এবং লিখিত পরীক্ষায় ২০০ নম্বর বরাদ্দ থাকে। ব্যাংকে প্রিলিমিনারিতে ইংরেজিতে ২৫-৩০ নম্বর। লিখিত পরীক্ষায় বরাদ্দ ৭০-৯০ নম্বর। এ ছাড়া অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষার প্রিলিমিনারিতে ১৫-২০টি প্রশ্ন থাকে। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে নিয়োগ পরীক্ষার তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য ইংরেজি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।


বিসিএসসহ অন্যান্য প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ইংরেজি প্রস্তুতি তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়—১. গ্রামার


২. লিটারেচার ৩. ভোকাবুলারি। তবে ব্যাংকের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ইংরেজি সাহিত্য থেকে খুব বেশি প্রশ্ন আসে না। সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন হয় গ্রামার আর ভোকাবুলারি থেকে।


গ্রামার অংশের প্রস্তুতি

বিসিএস পরীক্ষায় ইংরেজি গ্রামার অংশে ২০ নম্বর থাকে। এ ছাড়া অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষায় বেশির ভাগ প্রশ্ন এই অংশ থেকেই হয়ে থাকে। বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই ২০টি প্রশ্নের বেশির ভাগই গুরুত্বপূর্ণ কমন টপিক থেকে দেওয়া হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো Sentence Correction। এটি মূলত আলাদা কোনো টপিক নয়; বরং অনেকটাই গ্রামার আইটেমের সমন্বিত টপিক। এর মধ্যে Subject-Verb Agreement, Illogical Comparisons, Parallelism, Dangling/Misplaced Modifiers, Inversions-সহ অন্যান্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত। তবে উল্লিখিত বিষয়গুলোতে স্পষ্ট ধারণা থাকলে Sentence Correction যেভাবেই আসুক না কেন, আপনি উত্তর দিতে পারবেন। মনে রাখবেন, বেশির ভাগ প্রশ্ন কিন্তু এগুলো থেকেই আসবে।


► Preposition, Idioms and Phrases, Article ও Group Verb—এই টপিকগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকে প্রশ্ন আসবেই। এ ছাড়া আরো কিছু টপিক যেমন—Parts of Speech, Identification of Clause, Conditional Sentence, Voice, Narration, Degree of Comparisons, Embedded Question—এই টপিকগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইংরেজি গ্রামারে অনেক টপিক রয়েছে। তবে এগুলো পড়লে পরীক্ষায় সর্বাধিক কমন পাবেন বলে আশা করা যায়।


► এসব টপিকের জন্য TOEFL Cliff’s & Barron’s, Common Mistakes in English by T. J. Fitikides-এর পাশাপাশি বাজারের ভালো মানের দু-একটি নিয়োগ প্রস্তুতির বই অনুশীলন করতে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলোর মধ্যে যেটি যে বইয়ে তুলনামূলক সহজবোধ্য মনে হয়, সেটি সেখান থেকে পড়লেই ভালো।


► গ্রামার কখনোই মুখস্থ করতে যাবেন না। প্রতিটি বিষয়বস্তু বুঝে বুঝে অনুশীলন করতে হবে। যত বেশি চর্চা করবেন, প্রস্তুতিতে তত বেশি অগ্রসর হবেন; আর নিজের ভুলগুলো নিজেই ধরতে পারবেন। নমুনা প্রশ্ন দেখে অনুশীলন করলে পরীক্ষায় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর করতে পারবেন। যে বই থেকেই পড়েন না কেন, পড়ার সময় আলাদা একটি নোট খাতা রাখবেন। গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলো দু-একটি উদাহরণসহ লিখে রাখতে পারেন অথবা পড়ার সময় বইয়ে হাইলাইটার বা ভিন্ন রঙের কালি দিয়ে দাগিয়ে রাখতে পারেন, যাতে পরীক্ষার আগে অল্প সময়ে রিভিশন দিতে পারেন।


ভোকাবুলারি প্রস্তুতি যেভাবে

ভোকাবুলারি এমন একটি বিষয়, যা বাদ দিয়ে আপনি ইংরেজিতে ভালো করার কথা চিন্তাই করতে পারবেন না। বিসিএস, ব্যাংকসহ বেশির ভাগ চাকরির নিয়োগের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ভোকাবুলারিভিত্তিক প্রশ্ন বেশি আসে। তাই কোনোভাবেই হেলাফেলা করা যাবে না। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় Synonym, Antonym, Analogy, Correct Spelling ইত্যাদি টপিকস ভোকাবুলারি অংশের মধ্যেই পড়ে। তা ছাড়া লিখিত পরীক্ষায় Reading Comprehension, Translation থেকে শুরু করে Free hand writing—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভোকাবুলারিতে দক্ষতা একান্ত প্রয়োজন। ভোকাবুলারির জন্য বাজারে প্রচুর বই রয়েছে। তবে একটু কৌশলী হলে দ্রুত ভোকাবুলারি আয়ত্ত করা যায়—


► নিয়মিত ইংরেজি পত্রিকা পড়ুন। গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলোর তালিকা করুন। অজানা শব্দগুলোর অর্থ যখন-তখন জানতে স্মার্টফোনে ‘ইংরেজি থেকে বাংলা’ অভিধান অ্যাপ ইনস্টল করে রাখুন। তাহলে পত্রিকা পড়ার সময় অজানা-দুর্বোধ্য শব্দগুলোর অর্থ চট করে দেখে নিতে পারবেন। এ ছাড়া অবসর সময়েও বসে বসে পড়তে পারবেন।


► GRE Vocabulary Builder-Magoosh GRE-র অ্যাপটি আপনার স্মার্টফোনে ইনস্টল করে নিলে এখানে আপনি কুইজ দিতে পারবেন। বিভিন্ন পর্যায়ে আপনার অবস্থান যাচাই করতে পারবেন।


► নেমনিক বা মনে রাখার কৌশল ব্যবহার করে শব্দ শেখা যায়। http://mnemonicdictionary.com এই ধরনের ওয়েবসাইটে আপনি মনে রাখার মতো কৌশল পাবেন। এ ছাড়া বাজারে নেমনিকসহ এজাতীয় বিভিন্ন বই পাওয়া যায়, সেগুলোও দেখতে পারেন।


► শব্দের Root, Suffix, Prefix এগুলো বুঝে বুঝে পড়ুন। তাহলে অল্প পড়েই এ সম্পর্কিত বহু শব্দ শেখা হয়ে যাবে।


► এ ছাড়া বাজারে চাকরির পরীক্ষার বিভিন্ন বই থেকেও ভোকাবুলারি পড়তে পারেন। মনে রাখবেন, ভোকাবুলারি পড়ার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সেগুলো রিভাইস ও প্রয়োগ করা। প্রতিনিয়ত চর্চায় না থাকলে আপনি কখনোই ভোকাবুলারিতে ভালো করতে পারবেন না। তাই নিয়মিত ভোকাবুলারি অনুশীলন করুন। তাহলে দেখবেন, আর মুখস্থ করতে হবে না, এমনিতেই অনেক শব্দ আয়ত্তে চলে এসেছে।


ইংরেজি লিটারেচার অংশের প্রস্তুতির কৌশল

বিসিএস পরীক্ষায় ইংরেজি লিটারেচারে ১৫ মার্কস থাকে। এ ছাড়া সরকারি কর্ম কমিশনসহ (পিএসসি) অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষায় দু-চারটি লিটারেচারের প্রশ্ন আসতে দেখা যায়। বিসিএসে এই অংশটা প্রিলিমিনারিতে ম্যাজিকের মতো সাহায্য করতে পারে। আপনি এত অল্প পড়ে আর কোনো বিষয়ে এই টপিকের মতো কমন পাবেন না।


► বিসিএসসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় আসা আগের বছরের প্রশ্নগুলো প্রস্তুতির শুরুতেই চর্চা করুন।


► ইংরেজি সাহিত্যের যুগ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখুন। কোন সাহিত্যিক কোন যুগের এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে Elizabethan, Romantic, Victorian ও Modern


পিরিয়ডের প্রধান প্রধান সাহিত্যিক ও সাহিত্যকর্মের নামগুলো ভালো করে পড়তে হবে।


► বিখ্যাত সাহিত্যিক যেমন—William Shakespeare, William Wordsworth, John Keats, Charles Dickens, GB Shaw প্রমুখ সাহিত্যিকের বিখ্যাত গ্রন্থ-উক্তি ভালো করে পড়ুন।


► বিখ্যাত গ্রন্থগুলো গুগলে সার্চ করে মূলভাবটি পড়ে নিতে পারেন। এতে চরিত্র মনে থাকবে, সেই সঙ্গে মস্তিষ্কেও স্থায়ী হয়ে যাবে!


► Literary terms ও সাহিত্যকর্মের ধরনগুলো গুরুত্বসহকারে পড়ুন।


ইংরেজি সাহিত্য অনেক বিশদ একটি বিষয়। পরীক্ষার্থীদের অনেকেরই এই বিষয়ে যথেষ্ট ধারণা না থাকাটা স্বাভাবিক। প্রথমে বিষয়টি কঠিন মনে হলেও কয়েকবার পড়ে দেখুন, ধীরে ধীরে এটা হয়তো আপনার কাছে ভালো লাগতে শুরু করবে। বাজারে ইংরেজি সাহিত্যের ওপর বিক্রি হওয়া বইগুলো ঘেঁটে তুলনামূলক সহজ একটি বই সংগ্রহ করতে পারেন।


লিখিত পরীক্ষার ইংরেজির ভিত্তি তৈরির কৌশল

যদি প্রিলিমিনারি পরীক্ষার টপিকগুলো ভালো করে আয়ত্ত করতে পারেন, তাহলে লিখিত পরীক্ষায় আপনি এমনিতেই এগিয়ে থাকবেন। কারণ আপনি ল্যাঙ্গুয়েজের বেসিকটা শিখে ফেলেছেন। এখন শুধু ব্যাকরণ আর বানান—এ দুটি বিষয়ের দিকে নজর রাখলেই চলবে।


► ব্যক্তিগত বা অফিশিয়াল ই-মেইল বা লিখিত যোগাযোগ ইংরেজিতে করুন। লেখায় ভুল হলো কি না, এটা নিয়ে সংশয় থাকলে ব্রাউজারে Grammarly (www.grammarly.com) অ্যাড-অন ইনস্টল করতে পারেন। লেখায় ভুল বানান ধরার জন্য এটি দারুণ একটি ওয়েব টুল।


► প্রতিদিন ইংরেজি কিংবা বাংলা পত্রিকার লেখা অনুবাদ (বাংলা থেকে ইংরেজি ও ইংরেজি থেকে বাংলা) চর্চা করতে পারেন, বিশেষ করে সম্পাদকীয় অংশ। পরীক্ষায় অনুবাদ ও ফ্রি হ্যান্ড রাইটিংয়ে এটি অনেক কাজে দেবে।


► Translation বা অনুবাদের জন্য Dr. Mohiuddin-এর লেখা Translation for competitive exam বইটি অনুশীলন করতে পারেন। বইটিতে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় বিগত সালে আসা প্রচুর Translation (সমাধান, ব্যাখ্যাসহ) দেওয়া আছে। এগুলো বেশি বেশি অনুশীলন করবেন। হয়তো অনেক পরীক্ষায় কমনও পেতে পারেন।


এভাবে নিয়মিত ইংরেজি অনুশীলন করলে আপনি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য একজন যোগ্য প্রার্থী হয়ে উঠবেন।

Comments

Popular posts from this blog

জিরো কুপন বন্ড কী? এইটা কিভাবে কাজ করে?

ব্যাংক ভাইবা - মোঃ ইউসুফ আলী

১ম বিসিএস ভাইভা অভিজ্ঞতা-- আল-আমিন আহমেদ