বিসিএস লিখিত পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি - শেষ পর্ব - লুইপা (কালের কণ্ঠ)
সামনে ৪০তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষা। এ পরীক্ষার বিষয় ছয়টি—বাংলা, ইংরেজি, গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা, সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বাংলাদেশ বিষয়াবলি এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি। তৃতীয় ও শেষ পর্বে বাংলাদেশ বিষয়াবলি এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির প্রস্তুতি নিয়ে লিখেছেন ৩৫তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তা রবিউল আলম লুইপা
♦ বাংলাদেশ বিষয়াবলি
বেশির ভাগ প্রার্থী পরীক্ষার শেষ দিকে সময়ের অভাবে যে বিষয়গুলোর উত্তর না করেই ছেড়ে আসেন, সেগুলোর মধ্যে ‘বাংলাদেশ বিষয়াবলি’ অন্যতম। তাই এই বিষয়ের প্রথম প্রস্তুতি হলো, প্রতি ৫ নম্বরের প্রশ্নের জন্য ৬ মিনিট মাথায় রেখে প্রতি ৩ মিনিটে এক পৃষ্ঠা লেখার নিয়মিত চর্চা করা। একটি প্রশ্নের উত্তর বেশি সময় ধরে লিখে অন্য প্রশ্নের উত্তরে কম সময় দেওয়া বা ছেড়ে আসা যাবে না। এর জন্য কোনো প্রশ্ন কমন পড়লে সেটিতে অতিরিক্ত সময় দেওয়ার প্রবণতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
বাংলাদেশ বিষয়াবলির টপিকগুলোর মধ্যে—বাংলাদেশের সংবিধান, মুক্তিযুদ্ধ, সরকারের অঙ্গসংগঠন, বাংলাদেশের ভূগোল, বাংলাদেশের অর্থনীতি অধ্যায়গুলো থেকে প্রতিটি বিসিএসে দু-একটি প্রশ্ন থাকেই। বাংলাদেশ বিষয়াবলির প্রতিটি অধ্যায়ের টপিক ধরে ধরে মানচিত্র, চার্ট, গ্রাফ, কোটেশন প্রস্তুত করবেন। প্রস্তুতকৃত তথ্যের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন পেলেই তথ্যটি ব্যবহার করবেন। যেমন—ভাষা আন্দোলনের প্রশ্নের জন্য তৈরি করা ‘১৯৫২ সালে বিভিন্ন ভাষাভাষীর শতকরা হারের পরিসংখ্যান’ মুক্তিযুদ্ধের কোনো প্রশ্নে পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। বাংলাদেশের গত পাঁচ বছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জিডিপিতে খাত অনুসারে অবদান, মাথাপিছু আয়, আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ, রেমিট্যান্স, বাজেট, এডিপি ইত্যাদি তথ্য ‘অর্থনীতি’ সম্পর্কিত যেকোনো প্রশ্নের উত্তরে ব্যবহার করুন। একইভাবে ভাষা আন্দোলনের ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তরের জন্য ভাষাসংগ্রামের জন্য গঠিত কমিটিগুলোর নাম ও গঠনের তারিখ, ১৯৫৪ ও ১৯৭০ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলের নাম ও প্রাপ্ত আসন, ছয় দফা আন্দোলনের দফাগুলোর শিরোনাম আগে থেকেই নোট করে রাখুন।
সংবাদপত্র থেকে কোটেশন দেওয়ার সময় কোটেশনের নিচে সংবাদপত্রের নাম ও তারিখ উল্লেখ করতে ভুলবেন না। মানচিত্র, চার্ট, গ্রাফ ও কোটেশনের জন্য বিভিন্ন সংস্থার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট, উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, ন্যাশনাল ওয়েব পোর্টাল, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্রিকা ও গবেষণাধর্মী বইয়ের সহযোগিতা নিতে পারেন। আর পুরো প্রস্তুতির জন্য গাইড বইয়ের পাশাপাশি মোজাম্মেল হকের উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি দ্বিতীয় পত্র, আরিফ খানের বাংলাদেশের সংবিধানের ব্যাখ্যাসংবলিত বই, মুক্তিযুদ্ধের ওপর লিখিত বইগুলো দেখতে পারেন। পুরো সংবিধান মুখস্থ না করে যেসব ধারা থেকে নিয়মিত প্রশ্ন হয়, যেমন—সংবিধানের প্রথম তিন অধ্যায়ের ১ থেকে ৪৭ নম্বর অনুচ্ছেদ; এগুলো ব্যাখ্যাসহ পড়ুন। পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদও (৪৯, ৫১, ৫৯, ৬০, ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৭০, ৭৭, ৮১, ৮৪, ৮৭, ৯১, ৯৩, ৯৪, ৯৫, ১০২, ১০৬, ১০৮, ১১৭-১১৯, ১২৭, ১৩৭, ১৪১, ১৪২) পড়ে নেবেন। সংবিধানের ধারা হুবহু না লিখে নিজের ভাষায় লিখলেও অসুবিধা নেই। প্রশ্ন ৫ কিংবা ১০ নম্বর—যে আঙ্গিকেই আসুক—ভূমিকা, মূল বক্তব্য, উপসংহার—এই ফরম্যাটে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেবেন। থিওরি পরীক্ষায় প্রেজেন্টেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হাতের লেখা যেমনই হোক, প্যারা করে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করুন।
♦ আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে ভালো নম্বরের জন্য সাম্প্রতিক তথ্যগুলো আপটুডেট থাকতে হবে। উত্তরের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক তথ্য আগে থেকেই নোট করে রাখবেন। পরিবেশসংক্রান্ত প্রশ্নোত্তরের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বনভূমির শতকরা হার, কার্বন নিঃসরণের শতকরা হার, পারমাণবিক বোমা মজুদের সংখ্যা, আলোচিত পাঁচটি পরিবেশ সম্মেলনের সাল ও আয়োজিত রাষ্ট্রসংক্রান্ত তথ্যগুলো সংযুক্ত করতে পারেন। অনুরূপভাবে সার্কভুক্ত দেশের মানচিত্র, মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানচিত্র, বিশ্বমানচিত্রে যুদ্ধ ও সংঘাত কবলিত দেশগুলো চিহ্নিতকরণ, কাশ্মীরের মানচিত্রে ভারত ও পাকিস্তানের অংশ আগে থেকেই দেখে যাবেন; প্রাসঙ্গিক প্রশ্নোত্তরে এগুলো সংযুক্ত করবেন। মানচিত্র, চার্ট, গ্রাফ ও কোটেশনের জন্য বিভিন্ন সংস্থার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট, উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পত্রিকা, গবেষণাধর্মী বইয়ের সহযোগিতা নিতে পারেন। সংবাদপত্র থেকে কোটেশন দেওয়ার সময় কোটেশনের নিচে সংবাদপত্রের নাম ও তারিখ উল্লেখ করতে ভুলবেন না। আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির প্রস্তুতি নিতে গাইড বইয়ের পাশাপাশি তারেক শামসুর রেহমানের ‘বিশ্বরাজনীতির ১০০ বছর’, ‘নয়া বিশ্বব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি’, শাহ মো. আব্দুল হাইয়ের ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সংগঠন ও পররাষ্ট্রনীতি’ বইগুলো পড়ে দেখতে পারেন। আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি তিনটি অংশে বিভক্ত—Conceptual Issues, Empirical Issues ও Problem ঝড়ষারহম।
♦ Conceptual Issues : আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির ধারণা, বিশ্বনেতৃত্ব, ক্ষমতা ও নিরাপত্তা, পররাষ্ট্র ও কূটনীতি, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বৈশ্বিক পরিবেশ প্রভৃতি অধ্যায় থেকে ৪ নম্বরের ১০টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।
♦ Empirical Issues : জাতিসংঘ, ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রগুলোর বৈদেশিক সম্পর্ক, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সংস্থা, বিশ্বের বিবদমান বিষয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ অধ্যায়গুলো Empirical Issues অংশের অধ্যায়। এই অংশে ১৫ নম্বরের চারটি প্রশ্ন থেকে তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। বিগত বিসিএস প্রশ্ন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় সব বিসিএসে—
১. জাতিসংঘ
২. মধ্যপ্রাচ্য সমস্যা
৩. দুটি বৃহৎ রাষ্ট্রের পারস্পরিক সম্পর্ক
৪. বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি—টপিকগুলোর ওপর প্রশ্ন এসেছে।
♦ Problem Solving : সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া বাণিজ্য, পরিবেশ, অস্ত্র হ্রাসকরণ, বৈদেশিক সাহায্যসংক্রান্ত যেকোনো টপিক নিয়ে ১৫ নম্বরের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, বিকল্প কোনো অপশন থাকবে না। এখানে তথ্য উপস্থাপনের পাশাপাশি আপনাকে ভবিষ্যৎ বিশ্লেষণ ও এর সমাধানের উপায়গুলো তুলে ধরতে হবে।
Comments
Post a Comment