৪১তম বিসিএস লিখিত প্রস্তুতি (ইংরেজি) - Shoaib Islam

বিসিএস এক্সামে অনেক পরীক্ষার্থী ইংরেজি বিষয় নিয়ে ভয়ে থাকেন সাধারণত। এই ভয়টা শুধু বিসিএস কেন্দ্রিক নয়। স্কুল জীবন থেকেই ইংরেজি কারো কারো কাছে এক বিভীষিকার নাম। তবে, যারা প্রিলিমিনারি এক্সামে ভালো করে এখন রিটেনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আপনাদের ক্ষেত্রে ইংলিশ নিয়ে খুব একটা চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। এতটুকু নিশ্চিন্তে বলা যায় যে ইংরেজি বিষয়ে আপনাদের বেসিক লেভেলের পড়াশোনা ইতিমধ্যে শেষ। এখন রিটেনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে! বিগত দুটি বিসিএসে রিটেন পাশের অভিজ্ঞতা থেকে আমি আজকে এই ব্যাপারে কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। 

আগে দেখে নেওয়া যাক, বিসিএস লিখিত সিলেবাস অনুসারে ইংরেজির কোয়েশ্চেন প্যাটার্ন কি রকম হয়! প্রথমেই একটা বড় passage থাকবে। আমরা স্কুল, কলেজ জীবনে যে রকম comprehension পড়েছিলাম, অনেকটাই একই রকম। তবে, বিসিএসের passage অবশ্যই আরো জটিল এবং ক্রিটিকাল হবে- এটাই স্বাভাবিক। ২০০ নাম্বারের এক্সামের মধ্যে এই passage রিলেটেড ৮০ নাম্বার থাকবে। আপনি সঠিকভাবে লিখতে পারলে, এই ৮০ নাম্বারের মধ্যে এমনকি ৭০ নাম্বার পাওয়া সম্ভব। Passage শেষ হওয়ার শুরুতেই  ১০ টা short questions এ থাকবে ৩০ নাম্বার। প্রতিটি প্রশ্নের মান ৩ করে। এখানে অহেতুক বড় করে লেখা যাবে না। যতটুকু প্রশ্নে চাওয়া হয়েছে, ঠিক ততটুকুই লিখবেন পুরোপুরি নিজের ভাষায়। সেটা ২ লাইন হতে পারে, আবার কোনো ক্ষেত্রে ৫ লাইনও হতে পারে। আবার passage এর Title দেওয়ার ক্ষেত্রে জাস্ট ১ লাইনেই উত্তর শেষ করবেন।  প্রতিটি প্রশ্ন অল্প কথায় গুছিয়ে সঠিকভাবে লিখতে পারলে পুরো নাম্বার পাওয়া সম্ভব। 

Short questions এর বাইরে passage থেকে ২০ নাম্বারের একটা summary থাকবে। আপনি passage পড়ে কি বুঝতে পারলেন, সেটাই জাস্ট নিজের মতো করে লিখবেন। অবশ্যই গতানুগতিক স্টাইলে না লিখে নিজের লেখায় কিছু ভিন্নতা আনার চেষ্টা করবেন। এই ব্যাপারে আমি একটু পরেই বিস্তারিত বলবো। তবে একটা ব্যাপার মাথায় রাখবেন যে, বিসিএসের অন্য কোনো লিখিত এক্সামে আপনার time-maintenance নিয়ে সমস্যা হলেও ইংরেজি পরীক্ষায় আপনি যথেষ্ট সময় হাতে পাবেন। এই প্রশ্নের জন্য ৪ ঘন্টা অনেক সময়। Passage সলভ করার সময় তাই কোনোরকম তাড়াহুড়ো করবেন না! আস্তে ধীরে সময় নিয়ে বুঝেশুনে সমাধান করতে থাকুন। 

Short questions এর ৩০ নাম্বার এবং, summary থেকে ২০ নাম্বার মিলে এই ৫০ নাম্বার ছাড়াও passage রিলেটেড আরো ৩০ নাম্বার থাকবে। যদিও এই ৩০ নাম্বার আপনি passage না দেখেও answer করতে পারবেন। এবং, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো যে, এই ৩০ এর মধ্যে একদম ৩০ নাম্বার পাওয়া সম্ভব। এরজন্য আপনার যা লাগবে, সেটা হলো vocabulary তে দক্ষতা অর্জন। লিখিত এক্সামে সরাসরি grammar রিলেটেড মাত্র ৪ নাম্বার থাকে। তাই grammar rules নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। গ্রামার এর বেসিক স্ট্রং থাকলেই যথেষ্ট। 

মনে রাখবেন, রিটেন এক্সামে ভালো নাম্বার পেতে হলে আপনাকে দুটি বিষয়ে অবশ্যই এক্সপার্ট হতে হবে: ১. vocabulary ২. রাইটিং স্কিল। 

রাইটিং স্কিল এবং stock of vocabulary একদিনে ভালো করা সম্ভব না। নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে, practice করতে হবে। আপনি যত পড়বেন- তত ভালো লিখতে পারবেন। আপনার রাইটিং স্কিল, আপনার রিডিং হ্যাবিটের উপর ডিপেন্ডেন্ট। তাই প্রতিদিন অন্তত ৪০ মিনিট করে হলেও ইংরেজিতে লেখা যে কোনো আর্টিকেল পড়ুন। সম্ভব হলে, Daily Star App আজকেই প্লে-স্টোর থেকে ডাউনলোড দিয়ে ফেলুন। এই App খুবই গোছানো এবং, ইনফরমেটিভ। আপনার পছন্দের যে কোনো টপিক্স নিয়ে এই App থেকে অবসর সময়ে পড়তে থাকুন প্রতিদিন। যে বিষয় নিয়ে পড়তে চান, সবই পাবেন এখানে। নতুন যে শব্দ পাবেন, synonyms সহ নোট করে ফেলুন। আর্টিকেল পড়তে গিয়ে আপনি হয়তো নতুন কিছু word পাবেন অথবা, আপনি কোনো vocabulary বই থেকে যে word পড়েছেন, সেটার application or, usage খুঁজে পাবেন। এইভাবে আপনার যেমন vocabulary রিভিশন হয়ে যাবে, একইসময়ে sentence গঠন করার অনেক ways আপনি শিখে ফেলবেন যা আপনার লেখায় অবশ্যই ভিন্নতা এবং নতুনত্ব নিয়ে আসবে। লেখার মান উন্নত হবে, যা হয়তো শুধু গাইড বই পড়ে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো যে, ইংরেজি পরীক্ষায় অনুবাদের ৫০ নাম্বারের প্রিপারেশন আপনার হয়ে যাবে একইসাথে। অনুবাদের প্রধান শর্ত হচ্ছে যে, আপনি কোনো লেখার সঠিক ভাবানুবাদ করবেন নিজের মতো করে এবং, আগের বাক্যের সাথে পরের বাক্যের একটা সংশ্লিষ্টতা থাকবে। তার মানে, অনুবাদ এমন হতে হবে যেনো অনুবাদের শেষে পুরো লেখার প্রতিটি বাক্যের মধ্যে একটা relevance থাকে, যেনো সমগ্র লেখায় একটা common theme থাকে।

তবে ভাবানুবাদ করতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো শব্দের ব্যবহার এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। এইজন্য সঠিক অনুবাদের ক্ষেত্রেও vocabulary জানাটা আবশ্যক। নিয়মিত কোনো একটা ভালো vocabulary বই থেকে practice করুন এবং, revision দিতে থাকুন। প্রতিদিন শুরুতেই আগের গুলি রিভিশন দিয়ে নতুন লিস্ট শুরু করুন। 

ডিজিটাল প্লাটফরমে পেপার অথবা আর্টিকেল পড়ার অভ্যাস গড়ুন। পাশাপাশি, বিগত বিসিএসে আসা সব passage সলভ করতে থাকুন। এরপর IBA এর BBA এবং, MBA এ এক্সামে আসা বিগত ২০ বছরের সব passage সমাধান করে ফেলুন। তাহলেই মোর দ্যান এনাফ।

আরেকদিন অন্য কোনো টপিক্স নিয়ে লিখবো। শুভ কামনা সবার জন্য!

//

শুভ কামনায় 

Shoaib Islam

Comments

Popular posts from this blog

জিরো কুপন বন্ড কী? এইটা কিভাবে কাজ করে?

ব্যাংক ভাইবা - মোঃ ইউসুফ আলী

১ম বিসিএস ভাইভা অভিজ্ঞতা-- আল-আমিন আহমেদ