৪১তম বিসিএস লিখিত প্রস্তুতি (বাংলা) - Shoaib Islam

অনেকেই এখন ৪১ তম বিসিএস রিটেনের জন্য পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যাদের কোনো কনফিউশন ছাড়া ৯৫ এর উপরে থাকবে, তাদের অবশ্যই আর সময় নষ্ট না করে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করা উচিত। অনেকেই রিটেন এক্সাম নিয়ে বেশ ভয়ে থাকেন যে, এই বিশাল সিলেবাস হয়তো ৩-৪ মাসে পড়ে শেষ করা যাবে না! এটা পুরোপুরি একটা ভ্রান্ত ধারণা। খুব সম্ভবত, অক্টোবর মাসের শুরুতেই রিটেন এক্সাম শুরু হবে! সেই হিসেবে, এখনো আপনার হাতে আরো প্রায় ৪ মাস সময় আছে। এই সময়ের মধ্যে অবশ্যই রিটেনের পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব। জীবনের প্রথম দুই বিসিএসে রিটেন পাশ করার অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলা বিষয়ে কিছু কথা বলবো! 

প্রথমত, পড়া শুরু করার আগে রিটেনের সিলেবাস বেশ ভালো করে বুঝতে হবে! সিলেবাসের বাইরে কিছু পড়ার দরকার নেই। পাশাপাশি, দেখতে হবে যে কোন কোন টপিক্স এ নাম্বার বেশি পাওয়া সম্ভব এবং, তুলনামূলকভাবে সহজ! রচনা নিয়ে খুব বেশি সময় নষ্ট করার মানে নেই। আমার কাছে অন্তত সেটা কখনোই যুক্তিযুক্ত মনে হয়নি। ব্যাকরণ অংশে থাকে ৩০ নাম্বার এবং, এখানে গণিতের মতো প্রায় পুরো নাম্বার পাওয়া সম্ভব সঠিকভাবে লিখতে পারলে! এই অংশে জোর দেওয়া উচিত। বাংলা সাহিত্য অংশে ১০ টি ছোট প্রশ্নে ৩০ নাম্বার থাকে। গুছিয়ে লিখতে পারলে এখানেও বেশ ভালো নাম্বার পাওয়া যায়। কিন্তু, অহেতুক লেখা বড় করবেন না। ৩ নাম্বারের জন্য ১ পেইজ যথেষ্ট। আর প্রিলিমিনারির প্রস্তুতি যাদের ভালো থাকে, তাদের এই দুই অংশের ৬০ নাম্বারের জন্য নতুনভাবে খুব বেশি পড়ার দরকার হয় না। এরপর সারাংশ/সারমর্ম অংশে থাকবে ২০ নাম্বার এবং পত্রলিখনে ১৫ নাম্বার। এখানে খুব বেশি লেখার সুযোগ নেই। কিন্তু, ভালো প্রস্তুতি নিলে এবং সুন্দরভাবে উপস্থাপন করলে অল্প লেখায় এখানে ৭০-৮০% নাম্বার পাওয়া সম্ভব। খেয়াল রাখবেন, এই দুই অংশে আপনার লেখা যেনো পরিচ্ছন্ন থাকে। কাটাকাটি অথবা, ভুল বানানের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে! এর বাইরে ১৫ নাম্বারের অনুবাদ থাকবে, যা নিয়ে আমি আরেকদিন বিস্তারিত বলবো আলাদা পোস্টে।

৩০ (ব্যাকরণ)+ ৩০ (সাহিত্য ছোট প্রশ্ন)+ ২০ (সারাংশ/ সারমর্ম)+ ১৫ (অনুবাদ)+ ১৫ (পত্র)

= এই ১১০ নাম্বারে বেশি গুরুত্ব দেন। অন্যদের চেয়ে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই কয়েকটা টপিক্স এর প্রাপ্ত নাম্বার  আপনার জন্য ডিসাইডিং ফ্যাক্টর হতে পারে। 

বিগত ৩ টা বিসিএস রিটেনের কোয়েশ্চেন শুরুতে ভালোভাবে দেখুন, প্রশ্ন বিশ্লেষণ করুন, কোয়েশ্চেন প্যাটার্ন বুঝার চেষ্টা করুন। প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্ট। কিন্তু, প্রথমেই প্রশ্ন সলভ করার দরকার নেই! কোয়েশ্চেন এনালাইসিস হয়ে গেলে, সিলেবাস অনুসারে নিজের পছন্দের বই ধরে পড়া শুরু করুন। সিলেবাস একদম ভালোমতো শেষ হয়ে গেলে বিগত বছরের সকল প্রশ্ন সমাধান করে ফেলুন! কোনো প্রশ্ন বাদ দিবেন না। সম্ভব হলে, বিগত বছরে আসা সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নোট করতে পারেন। ভাবসম্প্রসারণ লেখার সময় কোনো উক্তি অথবা, কোনো কবিতার লাইন- এই টাইপ কিছু ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু, রচনা লেখার ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব তথ্যবহুল করবেন। 

আপনি স্কুল, কলেজ জীবনে যা যা পড়েছেন- ওইগুলাই অনেকটা ঘুরে, ফিরে বাংলা লিখিত পরীক্ষায় আসবে (সাহিত্য সমালোচনা বাদে)। গুছিয়ে নোট করার অভ্যাস আজকে থেকেই করুন। প্রতিদিন অন্তত ৯০ মিনিট বাংলা প্রিপারেশনের জন্য সময়  বরাদ্দ রাখুন। নিয়মিত পড়াশোনা এবং নোট করার মাধ্যমে নিজের লেখার মান উন্নয়ন করার চেষ্টা করুন। কোনো গাইড বই থেকে কখনোই হুবহু পরীক্ষার খাতায় লিখবেন না। নিশ্চিতভাবে নাম্বার কম পাবেন। বিভিন্ন রেফারেন্স বই অথবা, ইন্টারনেট থেকে ধারণা নিয়ে নিজের মতো করে লেখার চেষ্টা করবেন। প্রচুর নোট করবেন। এবং, অনর্থকভাবে লেখা বড় করবেন না। যতটুকু লিখবেন সেটা যেনো প্রাসঙ্গিক হয়, বোধগম্য হয়। রাতে ইংরেজি নিয়ে লেখার চেষ্টা করবো। শুভ কামনা সবার জন্য।

//

C

Shoaib Islam

Comments

Popular posts from this blog

জিরো কুপন বন্ড কী? এইটা কিভাবে কাজ করে?

ব্যাংক ভাইবা - মোঃ ইউসুফ আলী

১ম বিসিএস ভাইভা অভিজ্ঞতা-- আল-আমিন আহমেদ