করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ/ করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক উন্নয়ন/ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার -কোন পথে বাংলাদেশ

করোনা পরবর্তী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ঘটবে অন্যান্য দেশের তুলনায় খুবই দ্রুত। আমদানি-রফতানি ব্যয়ে ভারসাম্য, রেমিট্যান্সে সাফল্য, বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, দীর্ঘদিন পর চাঙ্গা হয়েছে পুঁজিবাজার এবং জিডিপি অনুপাতে সরকারি ঋণ কম হওয়ায় অন্য দেশের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বাংলাদেশ।

অর্থনৈতিক উত্তরণঃ

বৈশ্বিক গবেষকদের মতে, করোনা পরিস্থিতি থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উত্তরণ সবচেয়ে দ্রুত গতিতে হবে। অর্থনৈতিক সূচকগুলো ইতিবাচক হওয়ায় তা বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিকে শক্তিশালী করবে। ফলে খুব শিগগির ঘুরে দাঁড়াবে দেশের অর্থনীতি। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দ্রুত করোনা পরিস্থিতির প্রভাব কাটিয়ে ওঠার কারণ হিসেবে সামষ্টিক অর্থনীতিকে সরকারের সময়োপযোগী কার্যকর পদক্ষেপগুলোকে চিহ্নিত করেছে এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুবিন্যস্ত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার কারণে গত এক দশকে বাংলাদেশে গড়ে ৬ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। প্রবৃদ্ধির ৬ শতাংশের বৃত্ত ভেঙে ইতোমধ্যে ৮ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনার কারণে সারা বিশ্বের অর্থনীতি যেখানে বিপর্যস্ত, সেখানে বিদায়ী অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের ওপরেই অর্জিত হয়েছে। করোনার মধ্যেও দেশের মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১৫৫ ডলার।

 করোনা পরবর্তী বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দ্রুত পুনরুদ্ধার ঘটবে। ২০২১ সালের মধ্যেই প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের সূচকগুলো লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি হচ্ছে। তাই যা ধারণা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন সংস্থার পূর্বাভাসের থেকেও বেশি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। পুঁজিবাজার নিয়ে যে আশা করা হয়েছিল তা নির্ধারিত সময়ের আগেই আমরা তাতে  পৌঁছে গেছি। আমদানি-রফতানি চাহিদার তুলনায় বেশি। আমদানি-রফতানি ব্যালেন্স অব পেমেন্ট আগে ছিল নেগেটিভ, যা এখন পজেটিভ হয়েছে। রিজার্ভ সকল রেকর্ড অতিক্রম করেছে। খাদ্য উৎপাদনে রেকর্ড, মাছ উৎপাদনে রেকর্ড, বন্যার মধ্যেও সবজি রফতানি হচ্ছে।

২০২১-২২ অর্থবছরে অর্থনীতি থেকে করোনার প্রভাব কেটে গিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি সামনের দিকে এগিয়ে যাবে এমন দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার (২০২১-২৫)। এই পরিকল্পনায় চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধারা হলেও আগামী অর্থবছরে এই লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ।

পরিকল্পনা কমিশন সাড়ে ৬ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরলেও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রক্ষেপন আরও বেশি। এডিবি’র ধারণা, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। এটিকে করোনা মহামারির মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির পুনরুদ্ধার প্রবণতারই ইঙ্গিত বলে মনে করছে সংস্থাটি।

এডিবির এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক-২০২০ এর হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুসারে,  সদ্য বিদায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরে করোনা মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ যা বাংলাদেশের অর্থনীতির শক্তিমত্তা প্রকাশ করেছে। এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ যা ছিল এশিয়ার সব দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এডিবি’র প্রতিবেদন অনুসারে আরো দেখা যায়, ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের শক্ত ভিত্তি এবং রফতানি গন্তব্যগুলোতেও প্রবৃদ্ধিতে গতি আসার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এই ক্রমান্বয়ে পুনরুদ্ধার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

তাছাড়া ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি সহনশীল মাত্রায় (৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ) থাকবে বলেই আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতিও কমে ১ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

এডিবির মতে,সামষ্টিক অর্থনীতি ব্যবস্থাপনায় সরকারের বিচক্ষণতা এবং দ্রুততার সঙ্গে প্রণোদনা পরিকল্পনার বাস্তবায়নই এই সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি।

চ্যালেন্জসমূহঃ

১.অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা যায়, বাংলাদেশে দীর্ঘায়িত মহামারী অথবা এই দেশের রফতানি গন্তব্যগুলোর অবস্থা।

২.মহামারি পরিস্থিতি থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। স্বাস্থ্য ও মহামারী ব্যবস্থাপনা নিয়ে উল্লেখযোগ্য চাপের মধ্যে থেকেও সরকার ভালোভাবেই অর্থনীতিকে ধরে রাখতে পেরেছে। মূলত দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য মৌলিক সেবা ও পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত প্রণোদনা এবং সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম নেয়ার কারণে এটি সম্ভব করতে পেরেছে সরকার।

৩. রফতানি ও রেমিট্যান্সে অর্থনীতির সাম্প্রতিক অবস্থা এবং অর্থনৈতিক প্রণোদনা ও সামাজিক সুরক্ষার জন্য বৈদেশিক তহবিলের জোগান নিশ্চিত করতে সরকারের সামষ্টিক অর্থনীতি ব্যবস্থাপনা এই পুনরুদ্ধারকে সম্ভব করেছে।

করোনা মহামারির কারণে আর্থ-সামাজিক প্রভাব মোকাবেলা এবং দ্রুত পুনরুদ্ধারে সহায়তা দিতে এডিবি এরই মধ্যে বাংলাদেশকে প্রাথমিকভাবে ৬০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ এবং ৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছে। এছাড়া ২০২১-২৩ পর্যন্ত সময়ে সহযোগিতা করতে আরো ১১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ সহায়তা দেবে।

পরিশেষে,সবাই একসঙ্গে কাজ করলে দ্রুত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার এবং সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যেতে পারবে বাংলাদেশ-অভিমত অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের।


From: Latifur's Focus writing group

(বি.দ্রঃ বিভিন্ন মাধ্যম থেকে তথ্যসমূহ সংগৃহীত ও পরিমার্জিত -কেউ বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করবেন না)

Comments

Popular posts from this blog

জিরো কুপন বন্ড কী? এইটা কিভাবে কাজ করে?

ব্যাংক ভাইবা - মোঃ ইউসুফ আলী

১ম বিসিএস ভাইভা অভিজ্ঞতা-- আল-আমিন আহমেদ