Snapback Machanism (Nabab Sir)

চলুন জেনে নিই Snapback Machanism কী???

===================================

Snapback Mechanism

==================

পৃথিবীতে রয়েছে বেশ কিছু রাজনৈতিক প্রভু,অর্থনৈতিক প্রভু এবং সামরিক প্রভু।এসকল প্রভুদের যতদিন পর্যন্ত আপনি মন জুগিয়ে চলতে পারবেন ততদিন পর্যন্ত থাকবেন চোখের মনি, আর যখনই তাদের কথা না মেনে স্বাধীনভাবে চলতে চাইবে তখনই হতে হবে তার চোখের বালি।

১৯৫০ সাল থেকে শুরু করে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধুর সম্পর্ক ছিল। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক দাঁড়াই ঠিক সাপে-নেউলের মত। ইরানের উপর বরাবরই পশ্চিমা বিশ্ব অভিযোগ করে আসছিল ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি দিকে এগিয়ে যাচ্ছে যে কারণে পশ্চিমা বিশ্ব এবং জাতিসংঘ দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক বাণিজ্যিক এবং অস্ত্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছিল।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে (P5+1) এর সাথে ইরানের চুক্তি হয় ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই। সেই চুক্তি ইরান মানলেও মানে নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই চুক্তি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয় ৮মে,২০১৮ সালে। যার ফলে বিশ্ববাসী দেখতে পাই ইরানের সাথে আমেরিকার উত্তেজনা যা চলেছিল ২০১৯ সালের মে মাস থেকে ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত। চুক্তি মোতাবেক আগামী ১৮ই অক্টোবর ২০২০ সালে ইরানের উপর থেকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ৫টি সদেস্য দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন রাশিয়া এবং বিশ্বের আরেকটি শক্তিশালী রাষ্ট্র জার্মানির ইরানের সাথে ২০১৫ সালে Joint Comprehensive Plan of Action (JCPOA) নামে একটি পরমানু চুক্তি হয়। যে চুক্তির আওতায় ইরান তার পরমানু কার্যক্রম প্রায় অনেকাংশে কমিয়ে আনবে। বিপরীতে ধীরে ধীরে জাতিসংঘের দেওয়া সকল নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে ইরানের উপর থেকে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এখন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালে স্ন্যাপব্যাক ম্যাকানিজম চালুর জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।

Snapback Mechanism কী??

=====================

Snapback এর আক্ষরিক অর্থ হলো আগের অবস্থানে ফিরে যাওয়া। জাতিসংঘের ২২৩১নং প্রস্তাবে স্ন্যাপব্যাক ম্যাকানিজমের কথা বলা হয়েছে। স্ন্যাপব্যাক ম্যাকানিজম অনুযায়ী, পরমানু চুক্তিতে সাক্ষরকারী ইরান ছাড়া অন্য যেকোনো দেশ অর্থ্যাৎ ৬টি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন জার্মানি যদি মনে করে ইরান এটি মেনে চলছে না, তাহলে ওই দেশ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব উত্থাপন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাতিসংঘের দেওয়া সকল নিষেধাজ্ঞা ইরানের উপর পুনর্বহাল হবে। অর্থ্যাৎ সবাই আগের অবস্থানে ফিরে যাবে। ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে এটিকে আটকানো যাবে না।এখন, ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করতে, তারা কি স্ন্যাপব্যাক ম্যাকানিজম ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করতে পারবে?

জাতিসংঘের ২২৩১নং প্রস্তাবে বলা হয়েছে- যেসব দেশ পরমানু সমঝোতায় অটল রয়েছে, কেবল তারাই স্ন্যাপব্যাক ম্যাকানিজম চালু করতে পারবে। ট্রাম্প কিন্তু ২০১৮ সালের ৮মে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি থেকে বের হয়ে গেছে। তাদের এখন এটি ব্যবহারের কোন ক্ষমতা নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলতে চাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র যেহুতু পরমানু চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী একটি দেশ, তাই তারা এটি ব্যবহার করবে। ইতিমধ্যে, মাইক পম্পেও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে এই সংক্রান্ত প্রস্তাবও পাঠিয়েছে। আর এই নিয়ে ভোটাভোটি হলে ১৫ সদ্যের নিরাপত্তা পরিষদে ডোমিনিক রিপাবলিক ছাড়া কেউই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভোট দেয়নি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র যুক্তরাজ্য ফ্রান্সও এই প্রস্তাবের বিরোধীতা করছে। নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের এই পরাজয় যেন ইরানের বিপক্ষেই লজ্জাজনক পরাজয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠা করতে যাতে করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি কখনো ইরানকে আক্রমণ করে তাহলে ইরানের আশপাশের আরব দেশগুলোর সমর্থন যাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পায়।আর এই পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কারণে যে ইরানের খুবই শক্তিশালী কিছু মিত্র দেশ রয়েছে যাদের মধ্যে অন্যতম হলো চীন এবং রাশিয়া।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যদি শেষমেষ ইরানকে আক্রমণ করেই বসে তাহলে ইরানের পক্ষ নিয়ে আমেরিকাকেও পাল্টা আঘাত করতে পারে চীন রাশিয়া।

Comments

Popular posts from this blog

জিরো কুপন বন্ড কী? এইটা কিভাবে কাজ করে?

ব্যাংক ভাইবা - মোঃ ইউসুফ আলী

১ম বিসিএস ভাইভা অভিজ্ঞতা-- আল-আমিন আহমেদ