তুরস্ক-গ্রীস সমস্যা এবং লুজান চুক্তি

(চাকরির পরীক্ষার জন্য আগামী তিন/চার বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টপিক):

মানচিত্র থেকে দেখা যাচ্ছে যে তুরস্কের বিশাল সমুদ্রসীমা থাকার পরেও সমুদ্রে এক্সেস খুব কম। এটা নিয়েই গ্রীসের সাথে সমস্যা। আর এই সমস্যার মূলে রয়েছে ১৯২৩ সালের লুজান চুক্তি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ী পাশ্চাত্য মিত্র শক্তি অধীনতামূলক ধরনের চুক্তি চাপিয়ে দিয়ে যুদ্ধে পরাজিত তুর্কি খেলাফতের অবসান ঘটায়। ১৯২৩ সালে সুজারল্যান্ডের লুজানে স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে তুরস্কের বিকাশ ও সমৃদ্ধি অর্জনের চেষ্টাকে শৃঙ্খলিত করে ফেলা হয়। তবে লুজান চুক্তির মেয়াদকাল ২০২৩ সালে ফুরিয়ে যাবে। তখন এসব নিয়ে ঝামেলা আরো বাড়বে। তাই চাকরির পরীক্ষার জন্য লুজান চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামনের কয়েক বছর।

লুজান চুক্তির সারাংশঃ

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তকারী চূড়ান্ত চুক্তি হিসেবে পরিচিত ১৯২৩ সালের লুজান চুক্তিতে একদিকে অটোম্যান সাম্রাজ্যের উত্তরসূরি তুরস্কের প্রতিনিধিরা এবং অন্য দিকে ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান, গ্রিস, রোমানিয়া এবং যুগোস্লাভিয়ার প্রতিনিধিরা ছিলেন। সাত মাসের সম্মেলনের পরে ১৯২৩ সালের ২৪ জুলাই সুইজারল্যান্ডের লুজানে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে তুরস্কের আধুনিক রাষ্ট্রের সীমানার স্বীকৃতি দেয়া হয়। চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়, তুরস্ক তার আগের আরব প্রদেশগুলোর ওপর কোনো দাবি জানাবে না এবং সাইপ্রাসে ব্রিটিশদের দখল এবং ডডেকানিজের ওপর ইতালীয় অধিকারকে স্বীকৃতি দেবে। অন্য দিকে মিত্ররা তাদের তুরস্কের কুর্দিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবি পরিত্যাগ করবে। সাথে সাথে তুরস্ক আর্মেনিয়ার স্বত্ব ত্যাগ করবে। আর তুরস্কের ওপর প্রভাব বিস্তার করার দাবি ত্যাগ করবে মিত্র শক্তি এবং তুরস্কের আর্থিক বা সশস্ত্র বাহিনীর ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ চাপাবে না। এজিয়ান সাগর এবং কৃষ্ণ সাগরের মধ্যে বসফরাস প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে কোনো ফি নিতে পারবে না তুরস্ক।

লুজান চুক্তির মেয়াদকাল ও পরবর্তী অবস্থাঃ

২০২৩ সালের মধ্যে লুজান চুক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই চুক্তির অবসানের পর তুরস্ক কী পদক্ষেপ নেবে তা নিয়ে বিশ্ব ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-কৌশলবিদদের মধ্যে নানা আলোচনা হচ্ছে। প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, তুরস্ক কি অটোম্যান সাম্রাজ্যকে পুনরুত্থিত করতে চাইবে? এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক মানচিত্র পরিবর্তন হবে? তুরস্ক কি তার শক্ত ক্ষমতা ব্যবহার করে আঞ্চলিক আধিপত্য তৈরি করার মাধ্যমে নিজেকে আগের ভূমিকায় ফিরিয়ে আনবে? তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট এরদোগান এক বক্তব্যে বলেছিলেন, ২০২৩ সালের পরে বিপ্লবী কিছু ঘটতে চলেছে। তিনি উল্লেখ করেন, তুরস্ক ২০২৩ সালের লক্ষ্যে পৌঁছার পর পুরো অঞ্চলের ভবিষ্যৎকে নতুন অবয়ব দেবে। তুরস্ক এখন নতুন বিজয় ও সাফল্যের দোরগোড়ায়। এরদোগান উল্লেখ করেন যে, ‘তুরস্কের বিরোধীরা ১৯২০ সালে ‘সেভের্স চুক্তি এবং ১৯২৩ সালে লুজান চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেছিল। যার মাধ্যমে তুরস্ককে এজিয়ান সাগরের দ্বীপপুঞ্জ গ্রিসের হাতে ছেড়ে দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। এরদোগান বলেন, সেভের্সের সন্ধির মাধ্যমে অটোম্যান সাম্রাজ্যের পেছনে প্রথম ছুরিকাঘাত করে তুরস্ককে তার অধীনে থাকা বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডকে ছেড়ে দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। তুরস্ককে সাইপ্রাস, লিবিয়া, মিসর, সুদান, ইরাক এবং সিরিয়ার উরফা, আদানা এবং গাজিয়ানটপ কেলস এবং মার্শ বাদে লেভান্টের বাকি অঞ্চলের ওপরে সার্বভৌমত্ব ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল।

তাই বলা যায় যে, লুজান চুক্তির মেয়াদকাল যতো কমে আসছে, তুরস্কের বিশ্ব রাজনীরাজনীতির মোড়লদের কাছে ততোই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই এ নিয়ে বিশ্বরাজনীতি সরগরম থাকবে অন্তত আগামী এক দশক।

/

লেখক: শরিফ আল রায়হান

Comments

Popular posts from this blog

জিরো কুপন বন্ড কী? এইটা কিভাবে কাজ করে?

ব্যাংক ভাইবা - মোঃ ইউসুফ আলী

১ম বিসিএস ভাইভা অভিজ্ঞতা-- আল-আমিন আহমেদ