চীন -মার্কিন সম্পর্ক
If you know the enemy and know yourself you need not fear the result of a hundred battles
Sun
Tzu(The art of war)
দেশে
দেশে লকডাউন অর্থনীতির চাকা বন্ধ করে
দিয়েছে। মৃত্যু অসুস্থতা বেকারত্ব হতাশা অর্থনৈতিক স্থবিরতা পৃথিবীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এর পরবর্তী সময়ের
মতো অনিশ্চিত অস্থির ভবিষ্যতের
হাতছানি দিচ্ছে । এ পর্যন্ত
মৃত্যু আট লাখ তিয়াত্তর হাজার ছাড়িয়েছে।
৩ নভেম্বর ২০২০ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন।
আমরা জানি না কে
বসবে মার্কিন ক্ষমতার
মসনদে।আবার আমরা এটাও জানি
না ঠিক কবে মহামারি
পুরোপুরি নির্মূল হবে।
তারপরেও আমাদের রাজনৈতিক ভাবনা
চিন্তায় নতুন নতুন প্রশ্নের
উদয় হয়।আন্তর্জাতিক রাজনীতি
বিশ্লেষকরা ভাবছেন নতুন বিশ্ব ব্যবস্হা
নিয়ে।
কেমন
আছে এই এক মেরুকেন্দ্রিক
বিশ্ব ব্যবস্হা ; করোনা পরবর্তী সময়ে কেমন হবে তা
;স্নায়ুযুদ্ধ -২
এর আর্বিভাব হবে? আমেরিকার অপর
পাশে চীন ও রাশিয়া
কেন্দ্রিক বলয় হবে না
মাল্টি প্লেয়ার ইউনিপোলার
নতুন ভাবে মডিফাই করবে?
করোনাকালীনঅর্থনীতির
দরপতনে কেমন আছে চীন
-আমেরিকা:
মোট
দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির হিসাবে
বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো
অর্থনীতি চীন।বিশ্বব্যাংক বলছে চীনের জিডিপি এখন
২২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন
ডলার। IMF এর
প্রাক্কলিত হিসাবে
করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ২০২০ সালে চীনের অর্থনীতি বাড়বে ১.২%হারে।
অন্যদিকে ক্রয়ক্ষমতা সমন্বয় করলে ২০১৯ সালে
যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপির পরিমাণ দাঁড়াবে
২০.৬ট্রিলিয়ন ডলার।২০২০সালে দেশটির জিডিপি কমবে ৬%হারে।
করোনায়
আমেরিকার অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে ৯.৫%হারে।বার্ষিক
হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি
সংকুচিত হবে
৩২.৯%হারে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এখনও
ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। কারণ এখনো মহামারী নিয়ন্ত্রণ আনতে
পারেনি।
অন্যদিকে
প্রথম তিনমাস(জানুয়ারি -মার্চ)চীন ছিলে করোনা
ভাইরাসে প্রবলভাবে আক্রান্ত। এসময় চীনের অর্থনীতি
সংকুচিত হয়েছে
৬.৮%।করোনা প্রাদুর্ভাবের
দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক মেয়াদে
(এপ্রিল -জুন)চীন দৃশ্যপট
পাল্টে ফেলেছে।
তাহলে
চীন কি
করোনাকালীন সময়ে সুবিধা নিয়ে
ইকোনমিক ফাইন্যান্সিয়াল
অর্ডারকে পরিবর্তন করতে
পারবে?
এ প্রসঙ্গে দ্যা
ইকোনমিস্ট এর
একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে ---" This is a case of China becoming Wall street overnight. The crisis has provided China with an opportunity
to show what it’s capable of doing,
which in the long run will tip the balance of power.
করোনা বিপর্যস্ত
বিশ্বে প্রশ্ন উঠেছে আমেরিকা কেন্দ্রিক একক নেতৃত্ব ব্যবস্থায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন
Covid-19 has shown
that America is failing to sort out It's
own affairs at home, let alone
provide global leadership.
বর্তমানে
যে বিশ্বায়ন ব্যবস্হা গড়ে উঠেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায়
আসার পর "America
First" এর সংরক্ষণবাদ নীতি নিয়ে ঠিক
উল্টো পথে হেঁটেছেন।এরমধ্যে বিভিন্ন চুক্তি থেকে
সরে এসেছেন।জাতিসংঘের প্রস্তাব পাশ থেকে শুরু
করে প্রক্সিযুদ্ধের
সুদূর সিরিয়া আফগানিস্হানে প্রভাব কমেছে।বানিজ্য যুদ্ধ
, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছাড়িয়ে
ভ্যাকসিন আবিষ্কার ভূরাজনীতিতে
নতুন মোড় এনেছে।যার ফলে
রাশিয়া চীনের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের মাধ্যমে ভু-রাজনৈতিক পরিসীমায়
বিভিন্ন দেশগুলোর
আন্তঃসম্পর্কে প্রভাব রাখবে।
সাম্প্রতিক
সময়ে চীনের অর্থনৈতিক ও
সামরিক উত্থান অবশ্যই আমেরিকার জন্য
বিরাট চ্যালেন্জ।দুই পরাশক্তির সম্পর্কের
গতিবিধি দেখে
নেওয়া যাক
মার্কিন
-চীন সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি ঃ
>>বানিজ্য
যুদ্ধ (অসম
বানিজ্য প্রকৃতি, শুল্ক আরোপ)
>দক্ষিণ চীন
সাগরে আধিপত্য
>তাইওয়ান
ইস্যু (২০১৬ সালের ট্রাম্পের ফোনালাপ,
মার্কিন তাইপে অ্যাক্ট)
>তিব্বত
ইস্যু (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দালাইলামাকে
সমর্থন)
>মানবাধিকার ইস্যু(উুইঘরে মুসলিম নির্যাতন,
অবৈধ গর্ভপাত)
>হংকংকে
উসকে দেওয়া
ও চীন সরকারি বিরোধী আন্দোলনে
ইন্ধন।
>এক
চীন নীতি নিয়ে মার্কিন
সরকারের সুস্পষ্ট অবস্হান
না থাকা।
>চীনের
ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড চ্যালেন্জ
(৬১ টি দেশ চীনের
আওতায় আসবে)
> চীন
কর্তৃক মেধা স্বত্ব চুরির
অভিযোগ /জাতীয় প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা
ঝুঁকি।
>string of pearlইস্যু
(ভারত মহাসাগরে আধিপত্য)
>ইরানের
সাথে চীনের সুসম্পর্ক।
কে আপন কে পরঃ
চীনের
আগ্রাসন রোধে আমেরিকার
পররাষ্ট্রনীতিতে
Containing China নীতি কৌশল রয়েছে।আমেরিকার Pivot to Asiaনীতিতে ও পাকিস্তান
থেকে চোখ সরিয়ে ভারতকে
বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া
হয়েছে।ভারত মহাসাগরে চীনের প্রভাব কমানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ভারত,
জাপান, অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে জোট গঠন
করা হয়েছে। চীনকে চাপে রাখার জন্য
নিয়মিত নৌ মহড়া দেওয়া
হয় সেখানে।অন্যদিকে চীন আফ্রিকায় অর্থনৈতিক
কৌশলকে কাজে লাগিয়ে নব্য
কলোনিয়ালিজম তৈরি করছে। পাকিস্তান
, শ্রীলঙ্কা , মিয়ানমারে বিনিয়োগ করছে।এমন
কি চীন ও ইরানের
মধ্যে ২৫
বছর মেয়াদী একটি কৌশলগত সহযোগিতা
চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে
বলে শোনা যাচ্ছে। চীনের
নজর বাংলাদেশের উপর
আছে।বঙ্গোপসাগর কে কেন্দ্র করে
ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে।
করোনাকালীন সময়ে চীনকে "ভালোবাসার
নৌকা পাহাড় বাইয়া বাংলাদেশে করোনা সামগ্রী নিয়ে
আসতে আমরা দেখেছি। মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রও চীনের সাথে বাংলাদেশের
কৌশলগত সম্পর্ক খেয়াল রাখছে।
একদিন
করোনার তান্ডব থেমে যাবে।মহামারীর গল্প
স্হান নিবে ইতিহাসের
বিস্মৃত অতীতের পাতায়।করোনা থেমে গেলেও সব
কিছু আগের
মতো থাকবে না।অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজ, সম্পর্কের রুপ
বদলাবে। নয়া বিশ্ব ব্যবস্হায়
কে খেলবে, কে খেলা দেখবে
তা সময়ই বলে দিবে
ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা
বিশ্ব রাজনীতির দৃশ্যপটে দর্শকসারিতে
অপেক্ষা করি।
ইমা
হালিমা
৩৮ তম বিসিএস
সাধারণ
শিক্ষা (ইংরেজি)
(সুপারিশ
প্রাপ্ত)
তথ্য
সহায়িকাঃবিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক
পত্রিকা
Comments
Post a Comment