BCS Preliminary Exam Part 2 (Sourov Bijoy)

 #সিভিল_সার্ভিস_পরীক্ষা_পর্ব_০২_(প্রিলিমিনারি /)

আপনাকে যদি আমি একটা দুইপাশ গাছে ঘেরা রাস্তার ছবি দেখিয়ে জিজ্ঞাস করি এটা কোন দেশের রাস্তা? আপনি কী খুব সহজেই উত্তর দিতে পারবেন? আমার মনে হয়, না পারার সম্ভাবনা বেশি। কারণ সবদেশেই এরকম অসংখ্য রাস্তা থাকে। তাই না পারাটাই স্বাভাবিক। কেনো এই কথাগুলো বললাম পরে বলবো।

একটু পুরানো দিনের কথা মনে করিয়ে দেই। ছোটকালে আপনি প্রথমে অক্ষর জ্ঞান লাভ করেছিলেন। তার পর এইসব /// দিয়ে শব্দ গঠন করা শিখেছেন। এভাবেই শব্দের ভান্ডার ব্যবহার করে বাক্য তৈরি করে লিখেছেন পাতার পর পাতা রচনা। প্রথমেই কিন্তু রচনা লিখতে পারতেন না। একটু সামনে আগানোর পরই আপনি পিছনে করা কাজগুলোর গুরুত্ব বুঝতে পারেন। এটাই সায়েন্স 😛

এবার মূলকথায় আসি। আপনি যখন প্রিলিমিনারির পড়া শুরু করবেন অনেকটাই মনে হবে /// পড়ার মত। হয়তো অচেনা রাস্তার মতই লাগবে। কিন্তু কিছুদিন পড়ার পর আপনি একটা কানেকশন বুঝতে পারবেন।

আপনি যখন বাংলার বিভিন্ন সাহিত্যিকদের নিয়ে পড়া শুরু করবেন তখন তাদের জীবন দর্শন বুঝতে পারবেন। কল্পনায় বাস্তবতার ছাপ দেখতে পারবেন। আপনি বুঝতে পারবেন স্কুল-কলেজে আপনি যে ভাব-সম্প্রসারণ করেছেন তা আসলে এসব লেখকদেরই সুচিন্তিত মতবাদ। আপনি যে সারমর্ম করেছেন তা আসলে এসব কবিদের হেয়ালিপনার মূলকথা। যে সিনেমা দেখে আপনি আবেগে আপ্লুত হয়েছেন তা আসলে এদেরেই মাথার চিন্তা ভাবনার ফসল। আপনার শৈশব-কৈশোর ধীরে ধীরে আপনার কাছে আবারো স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

আপনি যখন আমাদের দেশের মুক্তিযুদ্ধ পড়বেন, আপনি যখন পূর্ব-পাকিস্তানের সংগ্রাম পড়বেন, আপনি যখন অবিভক্ত ভারতবর্ষের ইতিহাস পড়বেন- তখন আপনার সামনে একটা ইতিহাসের দিনলিপি ফুটে উঠবে। বিশ্বাস করুন তখন এসব আর  বিসিএস পরীক্ষার জন্য পড়ছেন এমন মনে হবে না। মনে হবে এতো আমার জানা উচিত। যখন আপনার মধ্যে এমন অনুভূতি চলে আসবে, এরপর আপনি ক্যাডার হন বা না হন একজন সুনাগরিক হবেন তা বলেই দেয়া যায়।

আমরা একটা কথা খুব বলি। রক্ত দিলাম বাংলার জন্য, চাকরি হয় না ইংরেজির জন্য। সত্যটা আসলে এমন না। সত্য হলো চাকরি হয় না আপনার মানসিকতার জন্য। মানুষের জীবনে কত পরিস্থিতিইতো আসতে পারে। সময়ের সাথে নিজেকে পরিবর্তন করে মানিয়ে নিতে জানতে হয়। বিশ্ব এখন সবদিক দিয়ে কানেক্টেড। আপনি একক কোন সত্ত্বা না, আপনার দেশ আর এককভাবে নিজের উপর নির্ভরশীল নাই। তাই শুধু ইংরেজি কেনো, প্রয়োজনে চাইনিজ,স্প্যানিশ,ফ্রেঞ্চ- সবই শেখা উচিত। 

এবার কিছু স্প্যাসেফিক কথা বলি। আপনি যদি আসলেই এই পরীক্ষাটা মন থেকে দিতে চান, আবারো বলি যদি নিজের ইচ্ছায় দিতে চান তাহলে প্রথম কাজ হলো এই পরীক্ষাটা সম্পর্কে ভালোভাবে জানা নাহলে বেকার খাটনি ছাড়া আর কিছুই হবে না। এটা করতে পারেন বিগত সালের(বিসিএস) এবং পিএসসির  সকল প্রশ্ন ভালোভাবে এনালাইসিস করুন। সাহায্য নিতে পারেন জব সল্যুশান নামক বইয়ের। প্রথম দিকে শুধু পড়বেন আর দাগাবেন এবং সাথে সাথে শিখবেন। নিজেকে যাচাই করতে যাবেন না। ভুলেও নিজেকে যাচাই করতে যাবেন না। সেটা পরীক্ষার হলে পিএসসি করে নিবে। 

ভালোভাবে যদি জব-সল্যুশান পড়ে থাকেন আপন বুঝতে পারবেন আপনি কোন বিষয়গুলো ভালো পারেন আর কোনগুলোতে দুর্বলতা আছে। এই দুটা আলাদা করুন। : অনুপাতে পরিশ্রম করা উচিত এইদুটো বিষয়ে। একটা রুটিন তৈরি করুন। সময় নিজের সুবিধামত নির্বাচন করুন। একটা টার্গেট তৈরি করুন। একটা উদাহরণ দেইঃ  আপনি একমাসের একটা টার্গেট তৈরি করুন। এবং লিখে রাখুন এই একমাসে আপনি কী কী পড়বেন। তারপর প্রতি সপ্তাহের জন্য একটা রুটিন বানান। একদিন রেস্টডে রাখুন। প্রতিদিনের রুটিন আমি বলবো না। কারণ মাঝে মাঝে বিভিন্ন কাজে আমরা পড়তে পারি না। তাই রুটিন সপ্তাহের জন্যই ভালো। তাহলে সাকসেস রেট ভালো হবে।

আপনি বেশি বই পড়লে বেশি জানবেন এটা বলা যায় না কিন্তু একই বই বারবার পড়লে ভালো জানবেন এটা সুনিশ্চিত।

প্রতিটি বিষয়ের জন্য একটা করে গাইড বই রাখেবন। কারণ নির্দিষ্ট প্রশ্ন খুঁজে পাওয়ার জন্য এগুলো খুব কাজের। তবে পড়তে হবে আরো বেশি। আপনি যে বইগুলোর নাম প্রশ্নের উত্তরে পড়েবন চেষ্টা করবেন তার কিছু পুরোটা পড়ে ফেলতে। বিশ্বাস করুন অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করবে। তাছাড়া বাংলার সিলেবাসের জন্য সৌমিত্র স্যারের কিছু ভালো বই পাবেন দোকানে। আর একটা কথা আমাদের আদি নিদর্শন চর্যাপদের একটা বই কিনে নিবেন। সাহিত্য ইতিহাসের একটা টুকরো আপনার পড়ার টেবিলে-ভাবা যায় ব্যাপারটা? 🙂

এবার বলি ইংরেজির কথা। অনুশীলন করলে এটা আয়ত্তে আসবেই। পত্রিকা পড়বেন। আমি ডেইলি স্টার পড়তাম কম, ঢাকা ট্রিবিউন পড়তাম বেশি। একটা আর্টিকেলে ডেইলি স্টার যেখানে ১২/১৫ টা নতুন শব্দ ব্যবহার করে সেখানে ঢাকা করে /৫টা। নিজেই ভেবে দেখুন কোন আর্টিকেল আপনি তাড়াতাড়ি পড়তে পারবেন। আর অনুশীলের জন্য MASTER বইটা আমার চমৎকার লেগেছে। গ্রামার আর সাহিত্য দুইটাই এখানে পাবেন তাও সাহিত্যের জন্য আরেকটা বই কিনে রাখবেন। আর বাজারের একটা গাইড রাখতে ভুলবেন না কিন্তু 😛

আমার ব্যক্তিগত পছন্দ ছিলো বাংলাদেশ বিষয়াবলী। নিজের দেশকে নিয়ে জানতে কার না ভালো লাগে? তবে মাঝে মাঝে ......... যাক সে কথা। আমাদের দেশের ইতিহাস অংশটা ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণির বই থেকে ভালো পড়েতে পারবেন। তাছাড়া পত্রিকার ১ম,২য়,মতামত,বিশ্ব,অর্থনীতি,শেষ পাতা পড়লে দেখবেন আপনিও কিছুদিন পর টিভির টকশোতে আংশ নিতে পারবেন। কঠিন কিছু না। এবার আসি কিছু ঝামেলার ব্যাপারে। বেশকিছু ডাটা শিখতে হয়। ফেইসবুকে যখন সময় কাটান দেখবেন বিসিএস এর অনেক গ্রুপে অনেকেই স্বপ্রণোদিত হয়ে কিছু পিডিএফ দিয়ে থাকেন। চোখ বুলাতে পারেন। ফেইসবুকের সময়টাও ভালো কাজেই লাগবে।

......... to be continued.

রাস্তার কথাটা বলি। কেউ কেউ আছে যারা রাস্তা নিয়ে প্রশ্ন কেনো করা হলো এটা নিয়ে খুব মাতামাতি করবে। দেখুন এটা সাইকোলজিক্যাল টেস্ট। আপনি সব জানেন না এটা যেমন আপনাকে জানতে হবে তেমনি মাঝে মাঝে প্রশ্ন ছেড়ে দেয়াটাই উত্তম এটাও শিখতে হবে। দুইটাই টেকনিক। তর্কে কথা বাড়া ছাড়া আর কিছু হবে না।

(যদি কোন অযাচিত ভুল হয়ে থাকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আমাকে বললেই আমি কারেকশন করে দিবো।)

ধন্যবাদ

সৌরভ বিজয়

পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত (মেধাস্থান-৪র্থ)

৩৮ তম বিসিএস।

Comments

Popular posts from this blog

জিরো কুপন বন্ড কী? এইটা কিভাবে কাজ করে?

ব্যাংক ভাইবা - মোঃ ইউসুফ আলী

১ম বিসিএস ভাইভা অভিজ্ঞতা-- আল-আমিন আহমেদ