৪১ তম বিসিএস লিখিত প্রস্তুতি - রুপায়ন দেব

৪১ তম বিসিএস লিখিত প্রস্তুতি

প্রথমেই মার্ক বন্টন ভালোভাবে বুঝে নিন। ৯০০ মার্কের পরীক্ষায় কোন কোন বিষয়ের কোন কোন টপিক গুলোতে ভালো মার্ক পাওয়া যায় সেটা বাছাই করুন। আমার মতে নিচের টপিকগুলো থেকে ভালো মার্ক পাওয়া যায়।

বাংলা (সাহিত্য+ব্যাকরণ)-৬০,

গণিত-৫০,

মানসিক দক্ষতা-৫০, 

বিজ্ঞান-১০০,

আন্তর্জাতিক কন্সেপচুয়াল ইস্যু- ৪০,

বাংলাদেশ বিষয়( ১৯৪৭-৭৫, সংবিধান)

- ৬০(মিনিমাম),

ইংরেজী( প্যাসেজ, গ্রামার)- ৬০, অনুবাদ(বাংলা+ইংরেজি)- ৬৫।

মোটঃ ৪৮৫। ( শুধু উপরের টপিকগুলো) 

উপরে বর্ণিত নাম্বারগুলো দিয়েই ক্যাডার হওয়া না হওয়া নির্ভর করবে। এই ৪৮৫ নিয়ে বেশি পরিশ্রম দিলে ভালো মার্ক পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এখান থেকে ৩৭০-৩৮০ নাম্বার অন্তত যদি তোলা যায়, বাকি  টপিকগুলো এভারেজ মানে লিখে আসলেও ১৫০- ২০০ নাম্বার পাওয়া যায়। যদিও কোটা নাই,তবু জেনারেল ক্যাডার হওয়ার জন্য ৫৫০ টার্গেট করে আগাতে হবে। 

এবার আসা যাক কি পড়বো সেটা নিয়ে আলোচনায়। বিরাট সিলেবাস দেখে হতাশ হওয়ার বা চাপ নেওয়ার কিছু নাই। পরীক্ষায় যতই পড়ে যান একটা বিরাট অংশ নিজের বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে, নিজের জ্ঞানকে ভিত্তি করে লিখতে হবে। রেডিমেড প্রশ্ন কমন পাবেন খুবই কম। একটা খাতায় অন্তত ২০টা কমন টপিক এর নাম লিখেন। বিগত বছরের লিখিত প্রশ্ন দেখলে বুঝবেন কোন টপিকগুলো গুরুত্বপূর্ণ।  এই টপিকগুলোর আন্ডারে যত যা ইনফরমেশন পাবেন ঐ খাতায় নোট করবেন। যেমন, একটা টপিক হতে পারে নারীর ক্ষমতায়ন - এই টপিকের আন্ডারে সংবিধানে কোন ধারায় নারীর প্রাধান্য, এই সরকারের আমলে নারী উন্নয়নমূলক কি কি কর্মকান্ড, ডাটা, নারী সম্পর্কিত কোটেশন, অন্যান্য দেশের সাথে তুলনা, যা যা পাওয়া যায়, কালেক্ট করবেন, এই টপিকের আন্ডারে লিখে রাখবেন খাতায়। এরকম টপিক হতে পারে "পরিবেশ ;ক্লাইমেট চেইঞ্জ), এস ডি জি,  করোনা ভাইরাস,  ১৯৪৭-৭৫,  উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ, রোহিংগা ক্রাইসিস ইত্যাদি। এরকম প্রায় ২০ টা টপিকের আন্ডারে যত পারা যায় ইনফরমেশন, কোটেশন, গ্রাফ নোট করে রাখেন। এতে একই সাথে বাংলাদেশ বিষয়, বাংলা রচনা,  আন্তর্জাতিক বিষয়, ইংরেজি রচনা এগুলাতে কমন পাবেন। প্রশ্ন যাই আসুক আপনি ভালো উত্তর করতে পারবেন, এই টপিকগুলো থেকে আসলে। 

বাজারে প্রচলিত গাইড পড়তে যেয়ে হতাশ হবেন। এই বইয়ের সাইজ হতাশা বাড়ায়, ফন্ট চোখের ক্ষমতা কমায়। সো গাইড বই থেকে শুধু আপনার প্রয়োজনীয় ডাটাগুলো উপরের ২০টা টপিকের আন্ডারে কালেক্ট করে রাখেন। একদম পড়বেন না তা বলছি না। সময় অনুযায়ী যদি পারেন কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ চ্যাপ্টার পড়ে নিবেন গাইড থেকে। 

বাংলা সাহিত্যে ৫/৭ দিন সময় দিয়ে টানা শেষ করে রাখেন একবার। পরে পরীক্ষার আগে আবার রিভাইস করবেন ২/৩ দিনে। কোটেশন, কবিতার লাইন এইসব যত পারেন মুখস্থ রাখেন, কাজে লাগবে। বাংলা ব্যাকরণে দেখা যায় কিছু প্রশ্ন প্রায়ই রিপিট হয়। ওগুলা ভালোমত পড়ে ফেলবেন। বানান শুদ্ধি, অপপ্রয়োগ, বাগধারা এইগুলা পড়তে বেশি সময় লাগে না। তবে বানান শুদ্ধি পড়ার সময় একটা সাদা পৃষ্টায় বানান লিখে লিখে পড়বেন। 

গণিত বরাবরই প্র‍্যাক্টিসের বিষয়। যারা আগে থেকেই ম্যাথে দূর্বল তারা প্রতিদিন অন্তত দুইঘন্টা ম্যাথ করবেন। বুঝে বুঝে। আগে বিগত প্রশ্নগুলো সলভ করবেন। দ্যান ক্লাশ এইট, নাইন এর গণিত বইয়ের সব করবেন। একদম সব। ক্লাশ নাইনের হাইয়ার ম্যাথের ত্রিকোনমিতি, ঘনজ্যামিতি, স্থানাঙ্ক,  সম্ভাবনা এইগুলা করতে হবে। এইস এস সি এর থেকে বিন্যাস, সমাবেশ,  সম্ভাবনা পড়লে চলবে। যারা দূর্বল তারা গণিতের উপর বেশি সময় দেন। গণিতে কেউ ৫০ এ ৫০ পায় আবার কেউ ২০ পাইতেও কষ্ট হয়। এখানে অনেক নাম্বার ব্যবধান হয়ে যায়। মানসিক দক্ষতা বিগত সালের (প্রিলি+রিটেন) সব প্রশ্ন বুঝে বুঝে সলভ করলেই হয়ে যায়। তাছাড়া পরীক্ষার হলে মানসিক দক্ষতায় আশপাশ থেকে সাপোর্ট পাওয়া যায়। 

বিজ্ঞান এর জন্য ক্লাশ নাইনের সাধারণ বিজ্ঞান বইটা পুরাটা পড়ে শেষ করতে হবে। দ্যান যেকোনো একটা গাইড থেকে আবার চ্যাপ্টারওয়াইজ পড়তে হবে। ৪০ তমতে বিজ্ঞান অনেক কঠিন হয়েছিলো সেটা মাথায় রেখে পড়বেন। ইলেকট্রনিক্স অংশের জন্য যদি সম্ভব হয় ইন্টারমিডিয়েট এর ফিজিক্স বইয়ে ইলেকট্রনিকস সম্পর্কিত অধ্যায়টা পড়বেন। 

ইংরেজির জন্য প্যাসেজ অনুশীলন করবেন। প্যাসেজে শুধু ৩০ মার্কের প্রশ্নোত্তর লিখতে হয়ে। উত্তর প্যাসেজ থেকে কপি করতে যাবেন না। অনেকে কপি করে, শব্দের সিনোনিম ইউজ করে ভাবে আমি তো শব্দ বদলায় লিখছি।  লাভ নেই। প্রশ্নটা আগে বুঝবেন, নিজের মত করে লিখবেন। নিজের মত করে সিম্পল ইংলিশে উত্তর করলেও ভালো মার্ক পাবেন। ইংলিশের প্রস্তুতি আসলে ওভাবে নির্দিষ্ট কোনো টপিকের উপর নিয়ে লাভ নেই। গ্রামারে পার্টস অফ স্পিচ অংশটা হয়তো গাইড পড়লেও কমন পাবেন। বাকি সিনোনিমস, সামারি, অনুবাদ, রচনা এসব লেখার সময় মূল বিষয় হলো আপনাকে ইংরেজি জানতে হবে। দক্ষতা অর্জন করতে হবে। নির্ভুল গ্রামারে লিখতে হবে। কঠিন কঠিন জি আর ই ওয়ার্ড ইউজ করলে বেশি নাম্বার পাবেন এটা ভুল ধারণা। সহজ কিন্তু নির্ভূল করে লিখলেই ভালো নাম্বার পাবেন। অনুবাদে ৫০ এ ৪০+ পাওয়া ইজি যদি নির্ভুল গ্রামারে লিখতে পারেন। এর জন্য কি করবেন? নিয়মিত ইংলিশ দৈনিকপত্রিকা পড়বেন এক ঘন্টা, ডেইলি স্টার বা অন্য যেকোনো ইংলিশ ডেইলির ইডিটোরিয়াল, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সাম্প্রতিক ইস্যু সম্পর্কিত টপিকগুলো কলম খাতা নিয়ে পড়তে বসবেন। প্রথম প্রথম বুঝতে কষ্ট হবে। তাও একটা টপিকের সব শব্দ ইন্সট্যান্ট ডিকশনারি থেকে দেখে শিখে ফেলবেন, গ্রামার খেয়াল করে করে পড়বেন, পড়ার সময় ভাববেন, নিজে নিজে অনুবাদ করে করে বুঝার ট্রাই করবেন। এতে করে আপনার সিনোনিমস, অনুবাদ, ইংরেজিতে লেখার দক্ষতা সবকিছুই বাড়বে। পেপার পড়ার পাশাপাশি কোনো একটা গাইড থেকে প্যাসেজ প্র‍্যাক্টিস করবেন পেপার যেভাবে পড়েছেন ওভাবেই। 

আন্তর্জাতিকে কনসেপচুয়াল ইস্যুর উপর গুরত্ব দিবেন৷ নাইম ভাইয়ের যে ৪০ তম বিসিএস জন্য বের করা বেসিক ভিউ আছে সেটা শেষ করবেন। অনলি এটা পড়লেই আন্তর্জাতিক কাভার হবে। আমি শুধু ঐ বইটাই পড়েছিলাম। ( আমি ব্যক্তিগতভাবে নাইম ভাইয়ের সাথে জীবনে কথাও বলি নাই। সো ওনার বই প্রমোট করছি এরকম কিছু না) 

গাইড ছাড়াও কিছু বই যা উপকার করে-

-সংবিধান ( বাজারে বহুল প্রচলিত যেকোনো একটা থেকে ব্যাখাসহ) 

-স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ( অনার্স/ ডিগ্রির সিলেবাসের জন্য বাজারে একটা বই পাওয়া যায়, গাইডটা নয়। ওটা থেকে ব্রিটিশ শাসন থেকে ১৯৭৫ অব্দি ভালোমত পড়লে ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের জন্য অন্য বই পড়া লাগে না।) 

- বেসিক ভিউ 

- ইন্টারমিডিয়েট এর পৌরনীতি ও সুশাসন থেকে সংবিধান, পররাষ্ট্রনীতি এসব ভালো পড়া যায়। 

- সৌমিত্র শেখরের বাংলা

- নবম শ্রেনীর সাধারণ বিজ্ঞান, গণিত, উচ্চতর গণিত। 

 এছাড়াও প্রয়োজন অনুযায়ী কিংবা বাজারে নতুন নতুন বের হওয়া বই যা পড়ে মনে হবে কাজে লাগবে সেসব বই কালেকশনে রাখবেন। 

-- অর্থনৈতিক সমীক্ষা ( সর্বশেষ এডিশন)

পড়া শুরু করে দেন। যত বেশি পড়বেন, তত বেশি লাভ পাবেন। উপরের আলোচনায় হয়তো অনেক কিছুই বাদ গিয়েছে। যার যা প্রশ্ন কমেন্টে জানাবেন। আমি সুযোগ হলে সেসব প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আরেকদিন পোস্ট করবো।  সবার জন্য শুভ কামনা।   


রুপায়ন দেব

সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট 

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, খুলনা। 

বিসিএস ব্যাচ- ৩৮ 

মেধাক্রম- প্রশাসন ক্যাডারে দশম।


===================================================================


১.পাটিগণিত কোথা থেকে করব?

২.কম্পিউটার এবং ইলেকট্রনিক অংশ কি শুধু বিগত বছরগুলোর প্রশ্ন সমাধান করলেই যথেষ্ট?

৩.বাংলাদেশ বিষয়াবলী পরীক্ষায় ৫ নম্বরের প্রশ্নের জন্য কয় পৃষ্ঠা লেখা উচিত? ১ নাকি ১.৫-২ পৃষ্ঠা?

৪.আমার লেখা ধীরগতির। কীভাবে গতি বাড়ানো যায়?

৫.রচনা কি পয়েন্ট দিয়ে লিখতে হবে না-কি পয়েন্ট ছাড়া শুধু প্যারা প্যারা করে?

--------------

১। ক্লাশ এইটের বই, বাজারে বহুল প্রচলিত যেকোন ম্যাথ গাইড।

২। শুধু বিগত ইয়ারের প্রশ্ন সমাধান যথেষ্ট নয়। কম্পিউটার প্রিলির জন্য যে বই পড়েছেন সেটা পড়লে হবে। ইলেকট্রনিক যদি সম্ভব হয় ইন্টারের এবং এস এস সি-র ফিজিক্স বই থেকে পড়বেন।

৩। কয় পৃষ্টা লেখা উচিত এটা আগে থেকে বলা মুশকিল। তবে অযথা তথ্য বা লেখা দ্বারা পেইজ বাড়ালে নাম্বার বাড়ে না। তার চেয়ে প্রাসঙ্গিক উত্তর লিখবেন। ১ পৃষ্টায় যদি আপনার উত্তর ভালো গোছানো হয় তাইলে ২ পৃষ্টার অপ্রাসঙ্গিক লেখার চেয়েও বেশি নাম্বার পাবেন।

৪। লেখার অভ্যাস করুন। নইলে বিপদে পড়বেন। ৪ ঘন্টায় অনেক উত্তর করতে হবে।

৫। রচনা প্যারা আকারে লিখলেও চলে, পয়েন্ট আকারে লিখলেও চলে। কি লিখেছেন সেটা, কিভাবে লিখেছেন সেটার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

================================================================


আপনার কথা খুব মনোযোগ দিয়ে পড়লাম। বাংলাদেশ বিষয়াবলির জন্য কোন গাইড টা ভালো হবে?

------------------------------------------------------------

যেকোনো একটা গাইড পড়তে পারেন। আমি প্রফেসরস পড়েছিলাম। তবে কোনো গাইডই আপনি পুরোটা পড়ে শেষ করতে পারবেন না। তাই গাইড পড়ার আগে ভালোমত মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, সংবিধান, বাংলাদেশের উন্নয়ন, মেগা প্রজেক্টস এসব বিভিন্ন বই থেকে পড়ে শেষ করেন, নোট করেন যতদূর পারেন। দ্যান গাইড থেকে বেছে বেছে পড়বেন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো যেমন বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি, কৃষি বিষয়ক অধ্যায় ইত্যাদি। অর্থনৈতিক সমীক্ষা পড়বেন।

====================================================


কোচিং করা কতোটা জরুরী?

-----------------------------------------------------------------------------------------------

যদি আপনার ম্যাথ, বিজ্ঞান, ইংরেজির বেসিক ঠিক থাকে তাহলে কোচিং অতটা গুরুত্বপূর্ণ না। আমি কোচিং এ পরীক্ষা দিয়েছিলাম শুধু। তবে ম্যাথ, ইংরেজির জন্য কোচিং এর ক্লাশ কাজে আসে ভালো। ক্লাশে বসে যদি মনোযোগ দিয়ে বুঝতে পারেন।

====================================================



Comments